দেখতে দেখতে ইতি টানার দোরগোড়ায় দেবী পক্ষ। আর যাইহোক এই মেঘলা দিনেও কারোর মনই একলা ঘরে ঠাঁই নিতে পারেনি। কখনো সূর্য্যিমামার অট্টহাস্য রুপ আবার কোনো সময় কালো বাদলের অকাল বর্ষন’কে মাথায় ভেঙেই শুরু হয়েছিলো উমা’কে ঘরে নিয়ে আসার পালা। সেক্ষেত্রে চারটে দিন বড়োই কম। কোনো ক্রমে চোখ ভরলো ঠিকই তবে মন ভরলো না। “ইশ্শ্… আরও কটাদিন যদি মা থাকতো।”
কেউই মায়ের বিদায়ে পক্ষপাতি নন। প্যান্ডেল হপিং, পেট পুজো আর অফুরন্ত আড্ডার সাথেই টলিপাড়ার ছোট বড়ো ছবি গুলিও ঝলমল করছিলো চোখের সামনেই। মাতৃ আরাধনার তুমুল ব্যবস্তার মাঝে তারাও কুড়িয়ে নিয়েছিলো অল্প একটু জায়গা। কেউ মন জুগিয়েছিলো ইয়েতির দেশে পাড়ি দিয়ে উঠে পড়েছিল দেব’র ‘ককপিট’এ। কেউ কেউ তো রসিয়ে স্বাদ তুললো প্রজাপতি বিস্কুটেরও।
ইয়েতির দেশে পাড়ি দেওয়ার কথা উঠতেই মনে পড়লো সৃজিতের ছবি ‘ইয়েতি অভিযা'”র কথা। এটাই প্রথমবার নয় যে তিনি কাকাবাবু’কে নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করলেন। তবে যতবারই তাঁর হাতে কাকাবাবুর তৈরি হয়েছে ততই বারই নীল লোহিত আরও গাঢ় ভাবে বসে গেছে আমাদের মনে। ‘ইয়েতি অভিযান’র পর হাতে থাকা আরও বেশ কয়েকটি ছবির কথা আগেভাগেই খোলাসা করেছিলেন সৃজিত বাবু। সেই তালিকার প্রথম নামটি উমা’র। বলতে পারেন এবছরের মতো উমার বিদায় হলেও সৃজিত বাবু বিদায় জানাতে রাজি নন। বরং সিনেমার মাটি দিয়েই “উমা”র মূর্তি বানানোর কাজ শুরু করলেন তিনি।
সৃজিত’র পরবর্তী ছবি “উমা” তৈরি হয়েছে একটি মেয়ের লড়াইয়ের আবহ নিয়ে। এই লড়াই সমাজ বা সমাজতন্ত্রীদের পক্ষে সওয়াল তোলে না। বলা যেতে পারে, মানবতা’কে কাঠি দিয়ে খোঁচানো একটি দুর্যহ রোগের বিরুদ্ধে বেঁচে থাকার লড়াইয়ের গল্প দিয়েই “উমা”র প্রেক্ষাপটে পারদ তুলেছেন সৃজিত মূখার্জী। ‘উমা’র কাস্টিংয়ে থাকছেন যীশু সেনগুপ্ত, অঞ্জন দত্ত, শ্রাবন্তী, সায়ন্তিকা, রুদ্রনীল ঘোষ, অনির্বাণ ভট্টাচার্য’র মতো চেনাজানা মুখ। ছবিটি মুক্তি পাওয়ার কথা ২০১৮ সালে। সৃজিত বাবুর হাতে “উমা”র এক চেনাপরিচিত আদলের আশা রাখা যেতেই পারে।














