ভালোবাসার জন্য, ভালোবাসার শর্টফিল্ম-ফুল ফর লাভ !

অনুরাগ

কিচ্ছু চায় না মানুষ, আজীবন ভালোবাসা ছাড়া…. এই কথাটাই বারবার করে মনে হচ্ছিল অনুরাগ কশ্যপের নতুন শর্ট ফিল্ম ফুল ফর লাভ দেখতে দেখতে….রয়েল স্ট্যাগ ব্যারল সিলেক্ট-এর লার্জ শর্ট ফিল্ম ফুল ফর লাভ দেখলে এক কথায় বলা যায় রহস্যজনকভাবে প্রেমের গল্প। অভিনয় করেছেন টালিগঞ্জের মিষ্টি নায়িকা ঋতাভরী চক্রবর্তী এফং ডিরেক্টর অনুরাগ কশ্যপ খোদ। ছবিটি আদ্যোপান্ত একটি প্রেমের গল্প, যদিও অনুরাগ কশ্যপের ছবি বলেই হয়তো একটা গ্লুমি আর আগ্রাসী আবহাওয়া ফিল করতে পারা যায় গোটা ছবি জুড়ে। ছবির নায়িকা স্বপ্ন দেখে রোজ, তার ভালোবাসার মানুষটা আজ ঠিক ঘরে ফিরবেই! অপেক্ষা করতে করতে কখন সময় বদলে দিয়েছে ক্যালেন্ডার, সে যেন নিজেও বুঝে উঠতে পারে নি। সেই যে সোয়ার্ন লেকের ধারে মেয়েটা ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখত রূপকথার, এই ছবিতে ঋতাভরীর গল্পটা অনেকটা তেমনি যেন। ছবির প্রথমেই সোয়ার্ন লেকের মিউজিকের ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক হিসেবে ব্যবহার, যে কী ভীষণ রূপক ধর্মি, তা ছবিটা শেষ পর্যন্ত না দেখলে ধরতে পারা যায় না। স্বামীর অপেক্ষাতে প্রত্যেক দিন একলা কাটাতে কাটাতে মেয়েটা ঠিক বিভাজন রাখতে পারে না স্বপ্ন আর বাস্তবের, স্বামীর জামা নিজের গায়ে গলিয়ে যেন রোজ রোজ এক মিথ্যে অভিমান ভাঙানোর খেলাতে মেতে ওঠে। আর স্বপ্ন দেখে স্বামীটি তার ফিরে এসেছে দেড় বছর অপেক্ষার পরে।

অনুরাগ কশ্যপের ছবিঠিক এই জায়গাতে এন্ট্রি হয়, দ্বিতীয় মুখ্য চরিত্রের। মেয়েটির স্বামী অ্যালেনের চরিত্রে অনুরাগ কশ্যপের অভিনয় মন কেড়ে নেবে। ডমিনেন্ট অথচ নিস্পাপ প্রেমিকের এক অদ্ভুত কম্বিনেশন এই চরিত্র। মানসিক ভাবে ভীষণ যে জটিল, তা বলা যায়, তার সব কিছুতেই বন্যতা, প্রেমে কিংবা ঝগড়ায়, আর ঠিক সেই সবকিছুকেই স্মৃতিতে জমাতে জমাতে তার স্ত্রীর স্বপ্ন প্রত্যেক দিন ভেঙে যায়…আর কী হয় তারপর? সেটা জানতেই তো দেখতে হবে ফুল ফর লাভ! যদিও অ্যালেন আদৌ এসেছিল কী না, সে বিষয়ে মতভেদ থাকতে পারে। তবে ঋতাভরীর চরিত্রটিকে মাল্টিশেডেড সাইকোলজিক্যাল ক্যারেক্টার না ভাবাটা বোধহয় ছবির প্রতি ন্যায় সঙ্গত হবে না… এই চরিত্রে ঋতা বেশ মানানসই। নেকেড-এর পর এটা ঋতার বলিউড ডিরেক্টরের সঙ্গে দ্বিতীয় কাজ। এবং শর্টফিল্ম হিসাবেও দ্বিতীয়। তার অভিনয় ক্ষমতা যে বেশ স্ট্রং হয়েছে আগের থেকে তা ফুল ফর লাভ দেখলে সহজেই বোঝা যায়। এখন অপেক্ষা একটাই, ফুললেঙ্থ বলিউড ছবিতে তার অভিষেকের। ফুল ফর লাভ ছবিতে ভালোবাসার জন্য কেউ বোকা, নাকি ভালোবেসে বোকা, সেই প্রশ্নটাই ভাবায় সবথেকে বেশী, যদিও সবটা রিভিল না করে দর্শকের জন্য বিষয়টা ছেড়ে দেওয়া উচিত। ছবির আবহ, ছবির মিস্ট্রি তৈরীর পিছনে সব থেকে বড় অবদান বোধহয় ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক আর আর্ট ডিরেকশনের। এই ছবিতে ব্যবহৃত গান গুলো ভীষণ ভাবে যেন চরিত্রদের না বলা কথাগুলো বলে দেয় অনায়াসে, আর সেখানেই বোধহয় শর্টফিল্ম হিসাবে ফুল ফর লাভ সার্থক । যদিও ছবির শেষটা অনেক ক্ষেত্রেই কিছুটা খাপছাড়া আর অসম্পূর্ণ মনে হতে পারে, কিন্তু ভালোবাসার বেশ অন্যরকম একটা ছবি এক্সপিরিয়েন্স করতে চাইলে এই ছবি দেখাই যায়…