Home ফিরে দেখা যে গান গাইতে টাকা নেননি কিশোর কুমার !
মহ রফি

‘‘পাঁচশো টাকায় রেকর্ডিং !’’ সেদিন চমকে উঠেছিলেন রফি !

বাংলা ছবির গানে মহ রফি যা গেয়েছিলেন বিনা পারিশ্রমিকে। মহম্মদ রফি মানেই মধু ঢালা বহুমুখী কন্ঠ। কেন বলছি রফি একদম পেপি আইটেম নাচের গান...
অনিল

এমন বন্ধু আর কে আছে !

জানলা দিয়ে সোনার রোদের আলো, যায় যে ধুয়ে মলিনতার কালো দরজা খুলে ফুলের হাসি দেখতে আমি পাই প্রতিদিন দেখতে আমি পাই এমন আমি ঘর...
সব চরিত্র কাল্পনিক

সব চরিত্র কখনো কাল্পনিক নয় !

সেই কোন দেশে আমরা যাচ্ছিলাম, হঠাৎই মাঝপথে তুমি কোথায় যে গেলে, গ্রামে গ্রামে আগুন লাগল, আমরা পালাচ্ছি, কই এলে না যে?! তিরিশের সেই সারা...

যে গান গাইতে টাকা নেননি কিশোর কুমার !

কিশোর কুমার। যিনি আজ বেঁচে থাকলে নব্বই বছরের চিরকিশোর হতেন।আজ বলব এমন এক গল্প যা মন কেমন করাবেই। কিশোর কুমার পেমেন্ট ব্যতীত কোন গান রের্কডিং করতেন নাহ। গান পছন্দ না হলে রেকর্ডিং না করেও চলে যেতেন। ওঁনার মুডের ওপর সবটা নির্ভর করত। এ হেন শিল্পীকে দিয়ে গান রের্কডিং করা খুবই ঝকমারি।

গান রের্কডিং চলছে সুখেন দাস পরিচালিত ছবি ‘অমর কন্টক’ -এর। গান গাইতে চলে এসেছেন কিশোর কুমার। গানের সুরকার অজয় দাস। অজয় দাস সুখেন দাস দুই ভাই। অজয় দাস ও কিশোর কুমার সেসময় জুটি। যে গানই করছেন হিট। অজয় দাস এতটাই উচ্চমানের সুরকার ছিলেন। কিন্তু শেষ জীবনে প্রতিভার দাম, সম্মান পাননি। কিন্তু অজয় দাসের সৃষ্ট গান গুলো আজও শ্রোতাদের মনে। শুনলে শ্রোতারা থমকে শুনবে এমন সব গান। সেই সুরকারের গান গাইতে এসছেন কিশোর কুমার। হঠাৎ রের্কডিং থামিয়ে কিশোর কুমার ডেকে পাঠালেন ‘অমর কন্টক’ ছবির পরিচালক সুখেন দাসকে। সুখেন বাবু তো ভাবলেন আবার কি ভুল হল ! কিশোর কুমার ডেকে পাঠানো মানে তো বড়সড় সমস্যা। গান পছন্দ হলনা নাকি পেমেন্ট কম হয়েছে ? ছুটে গেলেন সুখেন দাস। কিশোর কুমার চুপচাপ বসে।সুখেন কে দেখে কিশোর কুমার জল ভর্তি চোখে বললেন ” এ কি গান গাওয়াচ্ছেন আমাকে দিয়ে?”

কি সাংঘাতিক বাস্তব গানের কথা ,

 

” কেন দিসরে চুমুক তবে বিষয়ের বিষে?
সবই তো ধূলোয় যাবে মিশে,
থাকবে না গায়ে তোর
ঝলমলে দামী ওই বেশ,
চিতাতেই সব শেষ,
হায়! চিতাতেই সব শেষ,
এই তো জীবন । “

কে লিখেছেন এই গানের কথা ?

“সাধের এই দেহটাও
একমুঠো সাদা ছাই হবে,
সবই তো পিছে পড়ে রবে,
চুকে যাবে সময়ের
যত কিছু হিসেব-নিকেশ,
চিতাতেই সব শেষ,
হায়! চিতাতেই সব শেষ,
এই তো জীবন,
হিংসা, বিবাদ, লোভ,
ক্ষোভ, বিদ্বেষ –
চিতাতেই সব শেষ ।। “

সুখেন দাস বললেন অজয় দাসের সুরে গান লিখেছেন গৌরী বাবু। গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার। কিশোর কুমার মন্ত্রমুগ্ধ। অনেকক্ষন চুপ করে থেকে কিশোর কুমার বললেন ” আমি আমার জন্ম নিয়ে জন্মস্থান নিয়ে গান গেয়েছি কিন্তু এমন মৃত্যুর গান গাইনি। বাংলার সুরকার গীতিকার রা আমায় যেটা গাইয়ে ছাড়লেন। আমি এই গান গেয়ে একটা টাকাও নিতে পারবো না। এই গান গেয়ে টাকা নিলে সেটা গানের সাধনা এই জীবনকে ছোটো করা হবে। কোনো পেমেন্ট করতে হবেনা সুখেন এই গান গাইবার জন্য। বুকে জড়িয়ে ধরলেন কিশোর কুমার সুখেন দাসকে। তৈরী হল চিরঞ্জিত মুনমুন সোমা মুখার্জ্জী দীপঙ্কর সুমিত্রা অভিনীত সুখেন দাসের ছবি ‘অমর কন্টক’ এর গান। এই গান রিলিজ হতেই সুপার ডুপার হিট ক্যাসেট ও ছবি। ‘চিতাতেই সব শেষ’ … গান আজও সবাইকে কাঁদিয়ে ছাড়ে এতটাই গানের কথার জোর সুরের জোর দৃশ্যায়নের জোর আর সর্বোপরি কিশোর কন্ঠ।

“এই তো জীবন,
হিংসা বিবাদ লোভ,
ক্ষোভ বিদ্বেষ,
চিতাতেই সব শেষ,
হায় চিতাতেই সব শেষ
এইতো জীবন।। “

Written By – শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়

MUST READ

মহালয়ার সেরা পাঁচ ‘ মহিষাসুরমর্দিনী ‘

আকাশবাণী কলকাতার 'মহিষাসুরমর্দিনী 'র পর টেলিভিশনে 'মহিষাসুরমর্দিনী' সবার কাছেই ভালোবাসার। কিন্তু এখন অনেক চ্যানেল হওয়া সত্ত্বেও টিভির মহালয়া দর্শকের বিরক্তি উদ্রেক করে। সেই মেগার...

পুজোর সেরা পুরুষ কে ? এবার পুজোয় অভিনব উৎসব !

পুরুষ। পুরুষ যেন পড়ে পাওয়া চোদ্দ আনা। নারী দিবস নিয়ে হৈচৈ। নারী দিবসের দরকার তো আছেই কিন্তু পুরুষ দিবস কবে কোনদিন আমরা কজন জানি?...

এবার মহালয়াতেই অকাল বোধন !

দেবী দুর্গার ত্রিনয়ন, যার জ্যোতিতে আলোকিত বিশ্ব। সৃষ্ট প্রাণ। আমরা দেবী দুর্গাকে চোখে দেখিনি দেখিনা। কিন্তু দুর্গা মানে এক শক্তি। নারী শক্তি। ধরিত্রীতে সকল...

নটবর ১০০তেও নটআউট !

বাবা সতু রায় ছিলেন নির্বাক যুগের বিখ্যাত অভিনেতা। কিন্তু তাতে ছেলের বিশেষ কিছু সুবিধে হয়নি। তাঁর জন্ম বরিশালে। বাবা পরে চলে আসেন কলকাতায়। শেষে...