গেম অফ থ্রোন্সের ইতিকথা, পর্ব ১ !

প্রায় দুবছর পর আবার এসে গেল গেম অফ থ্রোন্স। ইতিহাসসৃষ্টিকারী সিরিজটি এখনো দেখেনি এমন মানুষ কমই আছে। মোট তিনবার সেরা ড্রামা ও ৪৭টা এমি জেতা গেম অফ থ্রোন্স (সংক্ষেপে গট) সর্বকালীন সেরা টিভি শো বলে ধরা হয়। কেমন হয় তার শুরুটা? পাঠক হয়তো জানেন না গেম অফ থ্রোন্স সিরিজটা বারই হত না। আর এই বাধা দেওয়ার কাজটি করেছিলেন স্বয়ং জর্জ আর আর মার্টিন।

কে ছিলেন এই মার্টিন ভদ্রলোক? তিনি ছিলেন টিভি শোয়ের চিত্রনাট্যকার। টোয়াইলাইট জোন বা বিউটি অ্যান্ড দ্য বিস্টের জন্য টিভিতে লিখতেন। কিন্তু তার চিত্রনাট্য অনেক সময়ই বাদ যেত। প্রযোজক বলতেন তোমার গল্প তো ভালো কিন্তু এত সৈন্য এত আয়োজন আমাদের বাজেটে কুলাবে না। চিত্রনাট্যে কাঁটা ছেড়া তার পছন্দ নয়। বীতশ্রদ্ধ হয়ে মনে মনে কল্পনা করে লেখা শুরু করলেন ‘এ সং অফ আইস অ্যান্ড ফায়ার’। যেখানে থাকবে না কোন বাউন্ডারি। প্রযোজকের চোখ রাঙানিকে উপেক্ষা করে কল্পনার পালে হাওয়া দিলেন৷ ড্রাগন যুদ্ধ ভায়োলেন্স কিছুই বাদ দিলেন না। ১৯৯১ সালে লেখা শুরু করেন। শেষ করেন ১৯৯৬ সালে। মোট পাঁচটি পর্বে ৪৫০০ পাতা ছাড়িয়েছে। এখনো বাকি নাকি দুই পর্ব! হলিউডের অনেক প্রযোজক এলেন এটা নিয়ে সিনেমা বানাতে। অনেক লেখক বিপুল টাকার অঙ্ক দাবী করতে পারে কিন্তু জর্জ রাজী হলেন না! এত বড় কাহিনী কেটে-ছেটে তিন ঘন্টায় সিনেমা করাতে তিনি রাজী নন। আর টিভিতে তো করাই যাবে না কারণ সিরিজটি অ্যাডাল্ট।

ডেভিড বেনিওফ আর ডি বি ওয়েস হলেন দুই বন্ধু সেই ট্রিনিটি কলেজে পড়া থেকেই৷ হলিউডে সিনেমা বানানোর কাজেও যুক্ত ছিলেন তাঁরা। বেনিওফের হাতে প্রথম বইটার কপি আসে। ৩০০ পাতা পড়ার পর বন্ধু ওয়েসকে বলে, তুমি পৃথিবীর অন্যতম সেরা উপন্যাসটি কি পড়েছো? পড়লে তুমি পাগল হয়ে যাবে! দুজনে প্রায় দুইদিনে বইটি শেষ করলেন। প্রথমেই তারা এটা নিয়ে সিনেমা বানাবেন এই ভাবনা থেকে সরে আসেন। দরকার ছিল টিভি সিরিজ। কিন্তু যে সময়ের কথা বলছি তখন অনলাইন স্ট্রিমিং এত জনপ্রিয় হয়নি৷ কিন্তু টিভি সিরিজ করবেটা কে? এইচ বি ওর ই একমাত্র দুঃসাহস আছে এটা নিয়ে সিরিজ বানানোর৷ কিন্তু সমস্যাটা বাধলো অন্য জায়গায়। অনেক টাকা অফার করেও জর্জ রাজী হলেন না! সান্তা মনিকার একটি রেস্টুরেন্টে প্রায় পাঁচ ঘন্টা ধরে চললো আলোচনা৷ শেষ জর্জ একটা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলেন বেনিওফের দিকে। কি সেটা? জানবো পরের পর্বে।