Home ফিরে দেখা নটবর ১০০তেও নটআউট !
অঞ্জনা

একটা বৃত্ত আজ সম্পূর্ন করেছেন এই উত্তম নায়িকা !

' এই কথাটি মনে রেখো, তোমাদের এই হাসিখেলায় আমি যে গান গেয়েছিলেম জীর্ণ পাতা ঝরার বেলায়। ' 'চৌরঙ্গী' ছবিতে প্রতিমা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গান। অঞ্জনা ভৌমিক র...
Mohamed Aziz

“শেষ গান নয় আজ গেয়ে যাব জীবনের এই জয়গান” ..

মহঃ আজিজ। যেন বাংলার মহঃ রফি। আবার বোম্বেরও রফি কন্ঠী শিষ্য যেন তিনি ছিলেন। আশির দশকে বাংলা হিন্দি ছবির সুপারহিট গানের গায়ক যিনি। রফির...
বান্ধবী

উত্তম-সুচিত্রা-হেমন্ত-সন্ধ্যা জুটির শেষ দলিল ‘প্রিয় বান্ধবী’।

"এমন একটি গল্প বলতে পারো যাতে বিরহ নেই ফুলসজ্জার এমন কোনো রাত দেখেছ কি যাতে মিলন নেই।" সন্ধ্যা মুখার্জ্জীর শেষ গান উত্তম সুচিত্রা জুটির ছবিতে। 'প্রিয় বান্ধবী'...

নটবর ১০০তেও নটআউট !

বাবা সতু রায় ছিলেন নির্বাক যুগের বিখ্যাত অভিনেতা। কিন্তু তাতে ছেলের বিশেষ কিছু সুবিধে হয়নি। তাঁর জন্ম বরিশালে। বাবা পরে চলে আসেন কলকাতায়। শেষে চাকরি সূত্রে স্ত্রী আশালতাকে নিয়ে পটনায়। সেখানেই জহরের অনেকখানি বেড়ে ওঠা। প্রথম অ্যামেচার থিয়েটারে অভিনয়ও।তত দিনে তিনি গুরু মেনেছেন এক সাহেবকে। গুরুর নাম চার্লস চ্যাপলিন। আর শিষ্যটি কে? কার কথা বলছি? জহর রায়। আজ তাঁর শতবর্ষব্যাপী জন্মদিন। শতবর্ষে জহর রায়। বরিশালে ১৯শে ১৯১৯ সেপ্টেম্বর জহরের জন্ম। তাই এই ২০১৯ এ তিনি শতবর্ষী হলেন। চার্লিকে গুরু মেনে জহরও কমেডিয়ান হিসেবে বাংলার চার্লি হতে পেরেছিলেন। কিন্তু শুরুটা কি ভাবে হল? অভিনেতা পিতার হাত ধরে? না একদমই না। পিতার রক্ত থেকে প্যাশনটা ছিল কিন্তু পিতৃসাহায্য পাননি।ভাবেননি কোনদিন অভিনয়কেই পেশা করবেন। তাহলে ?

বিএ পড়ছিলেন বিএন কলেজে, সংসারের চাপে ফোর্থ ইয়ারে পড়া ছেড়ে ঢুকতে হল চাকরিতে। পটনা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রুফ রিডার। এরপর ইস্ট ইন্ডিয়া ফার্মাসিউটিক্যালসে মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভ। কিন্তু সেসব পোষালনা। দর্জির দোকান দিয়ে নতুন ব্যবসা শুরু করলেন। প্রফেশানাল কারিগরদের থেকে প্যান্ট জামা কাটা বানানো রপ্ত করলেন।কিন্তু ঐ অভিনয়ের প্যাশন আর চার্লি চ্যাপলিন সব উল্টে দিল। যাকে বলে ভাগ্যচক্র। চলে এলেন কলকাতায়। চেনা বলতে একজন পরিচালক অর্ধেন্দু মুখোপাধ্যায়। একই জায়গার লোক ছিলেন দুজনে। অর্ধেন্দু তখন করছেন ‘পূর্বরাগ’ ছবি। বাজিয়ে দেখলেন জহরকে কেমন পারে ছেলেটা অভিনয় আর অন্য কাজ। যাকে আজকালকার দিনে বলে ওয়ার্কশপ। কিন্তু ‘পূ্র্বরাগ’ নয়, সম্ভবত সুশীল মজুমদারের ‘সাহারা’ ছবি দিয়েই জহর প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালেন। এরপর অঞ্জনগড়,বিদ্যাসাগর,বসু পরিবার ছবি। চেনামুখ হয়ে ওঠেন। কিন্তু বিশাল সাফল্য পান সেই উত্তম সুচিত্রা জুটির প্রথম ছবি ‘সাড়ে চুয়াত্তর’ দিয়েই। জহর পেয়ে যান তাঁর জুটি। না কোনো মহিলা নয় বরং এক পুরুষকে। এক খাঁটি বাঙালকে ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়। ঐ ‘সাড়ে চুয়াত্তর’ এ এসে গেলেন দুই কমেডিয়ান। ক্লিক করে গেল দুজনের সাফল্য। তখন থেকে তাঁরা যে ছবিতেই আসছেন দর্শক হাসছে পর্দায় তাঁদের দেখলে। এভাবেই বক্সঅফিস পেতে পরিচালকরা সব ছবিতেই ভানু-জহরকে জুড়ে দিতেন প্রায় কমিক-রিলিফ হিসেবে। খ্যাতি যেমন দিল এই কমেডিয়ান হওয়া তেমন অনেকে বলতে লাগল “কলার খোলায় পা পিছলে গেলে কোনো পথচারীর, পাড়ার ছোকরারা যেমন হাসে তেমন ওঁদের জুটি’। এরকারন ঐ অযথাই অনেক ছবিতে ওঁদের জোড়া। কিন্তু ওঁদের বিকল্প তো হয়না। তুলসী,নৃপতি,নবদ্বীপদের পাশাপাশি ভানু-জহর নিজেদের জায়গা করে নেন বরং বেশী নাম করেন। তুলসী অবশ্যি আলাদা ক্লাস।

ভানু জহর কে নায়ক করে সরাসরি তাঁদের নামেই ছবি হয়েছে— ‘ভানু পেলো লটারী’, ‘এ জহর সে জহর নয়’ আর ‘ভানু গোয়েন্দা জহর এ্যাসিষ্ট্যান্ট’। ‘হাসি শুধু হাসি নয়’ ছবিতেও জহর আসল তুরপের তাস। আবার ভানুর উপর যখন বাঙাল স্ট্যাম্প দিয়ে দিয়েছে ইন্ডাস্ট্রি তখন জহর কিন্তু অনেক ভালো পরিচালকের ছবি করেছেন সত্যজিৎ রায়, ঋত্বিক ঘটক থেকে তরুন মজুমদার। পরশ পাথর, হাল্লার মন্ত্রী, বাড়ি থেকে পালিয়ে, সুবর্ণরেখা, ঠগিনী, বাঘিনী, উৎপল দত্তর ‘ঘুম ভাঙার গান’। ‘নিশিপদ্ম’ র বাবু নটবর তো আইকনিক। যে কিনা পতিতাপল্লীর পতিতাদের সঙ্গে ফুচকা খাবে তেঁতুল জল দিয়ে নয় , তেঁতুল জলের জায়গায় মদ ঢেলে ফুচকাতে, ফুচকা খাবে নটবর।
আর সেই বিখ্যাত উত্তম-মান্না জুটির গান

“না না না, আজ রাতে আর যাত্রা শুনতে যাবো না,
শুনেছি চৌধুরী বাড়ীতে না কি বসেছে আসর,
এসেছে কলকাতারি নামকরা সেই নট্ট কোম্পানী
যে পালা টি করছে ও তার নাম যে তাসের ঘর ।।
বুঝলে নটবর, তুমিও যাবে না, আমিও যাবো না ।।

মুখে রঙ মেখে আর মুখোশ পরে পরি যে পরচুলো
আমরা যা নয় তা সেজে সবার চোখে যে দিই ধুলো ।।
ছক বাঁধা এই জীবন পালায় নেই যে অবসর ।
বুঝলে নটবর।। “

জহরের স্ত্রী কমলা দেবী। তিন মেয়ে সর্বাণী, ইন্দ্রাণী, কল্যাণী আর ছেলে সব্যসাচী। একসময় মেসবাড়িতেও থাকতেন জহর রায়। সে ঘর আজও আছে। তালা বন্ধ।শুরুর জহর আর শেষের জহরের চেহারা মেলানো যায়না এতটাই রোগা হয়ে গেছিলেন। সুগার সঙ্গে লিভারের অসুখ। তিন তিনবার জন্ডিস। কঙ্কালসার চেহারা নিয়েও ছবি করেছেন উত্তমের ব্রজবুলি কিংবা ঋত্বিক ‘যুক্তি তক্কো গপ্পো’ শেষ কাজ জহরের। জন্ডিস আর নিতে পারলনা শরীর শেষ হলেন জহর। জানা নেই জহর শতবর্ষে পড়লেন সেভাবে সরকার থেকে কোনো উৎসব হবে কিনা! হবেনা কজন আর মনে রাখবে সাধারন মানুষরা! তবু ফেসবুকের দৌলতে আজকাল শিল্পীদের জন্মদিন মৃত্যুদিন কিছুজন পোষ্ট করেন লেখেন। কিন্তু বাংলার চ্যাপলিনের জন্য বাঙলার লোক কি করল? বাঙলা কি করল?

ঠিক এরকমই নীরব ছিল জহরের শেষযাত্রা। প্রয়াণ যাত্রা। কিন্তু সেই শোভাযাত্রা ইতিহাসে তুলে দিলেন একজন মোহময়ী। ছুটে এলেন প্রাণের বন্ধুর জন্য। কেউ ভাবতেও পারেনি তিনি ওভাবে আসবেন। তিনি আর কেউ না মহানায়িকা সুচিত্রা সেন। ১৯৭৭-র ১১অগস্ট, মেডিকেল কলেজ থেকে একটা শোকমিছিল এগোচ্ছিল বিধান সরণি ধরে। বেথুন কলেজের সামনে এসে থেমে গেল মিছিলটা। মিছিল একটা গাড়ির মুখোমুখি। গাড়ি থেকে নামলেন সুচিত্রা সেন। ধীর পায়ে লরিতে উঠলেন। সেখানে তখন নিথর শুয়ে জহর রায়। নীরব রমা তাঁর বন্ধুকে দেখে। সুচিত্রা ধীরে বললেন ,’তুমি চলে গেলে চার্লি!’ তার পর নিচু হয়ে ছোট্ট একটা চুম্বন এঁকে দিলেন জহর রায়ের কপালে।”

সুচিত্রার কিন্তু সেদিন কর্তব্য ভালোবাসায় গলদ ছিলনা। স্টারডম ঝেড়ে ফেলে পথে নামেন বন্ধুর জন্য। সুচিত্রা জহরকে চার্লি বলেই ডাকতেন। জানতেন বন্ধুর গুরু কে? সেই ‘সাড়ে চুয়াত্তর’ থেকে ‘নবরাগ’ দুই বন্ধু করেছেন একসাথে অনেক ছবি। ভানু জহরের অবদান কম নয় উত্তম-সুচিত্রা জুটি তৈরী হওয়ার পেছনে। সেভাবে ইন্ডাস্ট্রির লোকজন কেউ ছিলনা জহরের শেষ যাত্রায় কজন সতীর্থ বাদে। কেন এই অবহেলা! এ যেন শিল্পীর নিয়তি,পরিণতি। জহর রায়ের পাণ্ডিত্যেকে অসম্ভব শ্রদ্ধা করতেন সুচিত্রা সেন। কারন জহর রায় প্রচুর বই পড়তেন। ছিল বিশাল বইয়ের কালেকশান।যা ওঁর মৃত্যুর পর স্ত্রী কমলা কি করবেন অত বই নিয়ে ভেবে পাননা। কত বই বিলিয়ে দেন কত বই মেয়েদের শ্বশুর বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। তাই জহর ছিলেন পন্ডিত, সৌখিন লোক। সুচিত্রা সেনের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে ছিলেন জহর রায়। সুচিত্রা সেনকে শোনানো জহর রায়ের ‘রেডি উইট-চুটকিলা’ একদা বহুল প্রচলিত ছিল টালিগঞ্জ পাড়ায়।

শতবর্ষে জহর রায় কে লেখার মাধ্যমেই স্মরণ করে এ প্রজন্মের কাছে বর্তমান করে দিলাম।

শ্রদ্ধা ও প্রণাম।

লেখক – শুভদীপ ব্যানার্জ্জী 

মানালি

MUST READ

মহালয়ার সেরা পাঁচ ‘ মহিষাসুরমর্দিনী ‘

আকাশবাণী কলকাতার 'মহিষাসুরমর্দিনী 'র পর টেলিভিশনে 'মহিষাসুরমর্দিনী' সবার কাছেই ভালোবাসার। কিন্তু এখন অনেক চ্যানেল হওয়া সত্ত্বেও টিভির মহালয়া দর্শকের বিরক্তি উদ্রেক করে। সেই মেগার...

পুজোর সেরা পুরুষ কে ? এবার পুজোয় অভিনব উৎসব !

পুরুষ। পুরুষ যেন পড়ে পাওয়া চোদ্দ আনা। নারী দিবস নিয়ে হৈচৈ। নারী দিবসের দরকার তো আছেই কিন্তু পুরুষ দিবস কবে কোনদিন আমরা কজন জানি?...

এবার মহালয়াতেই অকাল বোধন !

দেবী দুর্গার ত্রিনয়ন, যার জ্যোতিতে আলোকিত বিশ্ব। সৃষ্ট প্রাণ। আমরা দেবী দুর্গাকে চোখে দেখিনি দেখিনা। কিন্তু দুর্গা মানে এক শক্তি। নারী শক্তি। ধরিত্রীতে সকল...

নটবর ১০০তেও নটআউট !

বাবা সতু রায় ছিলেন নির্বাক যুগের বিখ্যাত অভিনেতা। কিন্তু তাতে ছেলের বিশেষ কিছু সুবিধে হয়নি। তাঁর জন্ম বরিশালে। বাবা পরে চলে আসেন কলকাতায়। শেষে...