“অন্বেষা মানেই মিষ্টি মিষ্টি গান, এটা ভাঙতে চাই !”- অন্বেষা দত্ত গুপ্ত

নিখুঁত সুরে গেয়ে প্রশংসা পেয়েছেন গোটা দেশের তো বটেই সাথে বিগ বি’র টানা হাততালি জানান দিয়েছিল যে আমরা পেয়ে গেছি আরও একজন গায়িকাকে যে বাংলার মিষ্টি সুরের ব্যাটনটা আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার যোগ্য ক্ষমতা রাখে, তিনি অন্বেষা দত্ত গুপ্ত।

যখন প্রথম গান গাইতে স্টেজে ওঠেন অবশ্যই সর্বভারতীয় স্তরে চমকে দিয়েছিলেন গোটা দেশকে! শ্রেয়া ঘোষালের একটা বিখ্যাত গান “আমি যে তোমার” ,যেটা উনি রেকর্ডিং এও নিয়েছিলেন রিটেক, সেই কঠিন গান লাইভ পার্ফমেন্সে নিখুঁত সুরে গেয়ে প্রশংসা পেয়েছেন গোটা দেশের তো বটেই সাথে বিগ বি’র টানা হাততালি জানান দিয়েছিল যে আমরা পেয়ে গেছি আরও একজন গায়িকাকে যে বাংলার মিষ্টি সুরের ব্যাটনটা আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার যোগ্য ক্ষমতা রাখে, তিনি অন্বেষা দত্ত গুপ্ত। এই মুহূর্তে গায়িকা ব্যস্ত বম্বে-কলকাতার স্টুডিওতে একের পর এক হিটের রেকর্ডে, আর তার পাশে নিজের মত সাজাচ্ছেন গড়িয়ার নতুন ফ্ল্যাটটাকেও এই ব্যস্ত সময়ের মাঝে কথা হোল আমাদের সাথে…

২০০৮ এ জাতীয় স্তরে প্রথম আত্মপ্রকাশ, সেই সময় যতজন তোমার গান শুনেছে সবারই একটা কথা ছিল আরও একজন শ্রেয়া ঘোষালকে পাওয়া গেলো, আজ ২০১৭’র ফেব্রুয়ারি ঐ ট্যাগলাইন থেকে বেরিয়ে কতোটা সফল অন্বেষা?

অন্বেষা- আমার মনে হয় পুরোটাই কারন এখন লোকেরা এসে বলে আমার নিজের গান শুনতে চায়! তাই সেটা আলাদা করে বলার কিছু নেই যে আমি কতোটা সফল হয়েছি…আমার মনে হয় এটাই সবথেকে বড় প্রমান যে আমি ওখান থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছি কারন যারা আমার গান শুনেছে কোথায় হয়তো তারা ওনার সাথে আমার গলার সিমিলারিটি খুঁজে পেয়েছে তবে এটা অবশ্যই ইন্সপায়ারিং যে শ্রেয়া ঘোষালের সাথে তুলনা হয় কারন উনি এই মুহূর্তে ওয়ান অফ দি ফাইনেস্ট ভয়েস উই হ্যাভ ইন ইন্ডিয়া…এটা একদিকে যেমন ভালো তেমন একটা থ্রেটও ছিল আমার কাছে কিন্তু আমি হ্যাপি যে সেখান থেকে অনেকটাই আমি বেরিয়ে এসেছি এখন মানুষ আমাকে আমার জন্য চেনে এটাই বড় প্রমান!

তোমার ভক্তরা বলে মা সরস্বতীর আশীর্বাদ রয়েছে তোমার মাথার উপর। সরস্বতীর একহাতে বীণা আরেক হাতে পুস্তক তেমনই তোমার এখন একহাতে কলকাতা তো আরেক হাতে বম্বে… কাকে কোন হাতে রাখবে?

অন্বেষা- (হাসি)… ভেরি টাফ! প্রশ্নটা খুব ইন্টারেস্টিং… বিভিন্ন ভাষায় কাজ করতে পারা দারুন এক্সপিরিয়েন্স আমার জন্য তবে বম্বে বা কলকাতা দুটো আমার কাছে সেপারেট কেরিয়ার নয় কারন গান গাওয়া চিরকাল আমার কাছে প্রাধান্য পেয়েছি সেটা যেকোন ভাষাই হোক না কেন আর বাংলায় গান হলে অবশ্যই বেশী খুশি হই, হিন্দিতে হলে অনেক মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়া যায় তাই ডিভাইড করতে পারবো না…

তাহলে জিজ্ঞেস করা যাবে না কোন হাতের ওজন বেশী…

অন্বেষা- নাহ…(হাসি)

দুটো হাতে এতো ব্যালন্স করে চলছো এটার পেছনে সিক্রেটটা কি?

অন্বেষা- সিক্রেট কিছুই নেই, তোমাদের সবার বেস্ট উইশেস! সবাই মিলে যদি কারুর ভালো চায় আমি খুব এটা বিশ্বাস করি ইন দ্যা পাওয়ার অফ পেয়ার্স! টুইটারেও কিছুদিন আগে লিখেছিলাম কেউ মন থেকে যদি ভগবানের কাছে চায় সেটার থেকে পাওয়ারফুল কিচ্ছু নেই, আমি এটা খুব স্ট্রংলি বিশ্বাস করি! সবাই আমার কাছে ভালো জিনিস এস্পেক্ট করছে এটাই আমার কাছে বড় পাওনা!

রিয়্যালিটি শো এই কনসেপ্টটা যদি না থাকতো আজকের এই অন্বেষাকে পাওয়া যেত?

অন্বেষা- ওয়েল… হ্যাঁ রিয়্যালিটি শো আমাকে অনেকটা হেল্প করেছে বাট কেউ যদি মনে করে নিজেকে এই ফিল্ডে এস্টাবলিস্ট করবো, গান বাজনা নিয়েই থাকতে চায় তো সে ঠিক করবে আমি কোনদিন ফ্যাশিনেশন ছিল না যে যাব ট্যালেন্টহান্টে, সবাই চিনে ফেলবে , তারপর শো করতে শুরু করবো এটা ভেবে যাই না আমার মাথায় ছিল যে টেলিভিশনের অনেক দর্শক যাদের কাছে আমি আমার আওয়াজ পৌঁছে দিতে পারবো আর মিউজিক ডিরেক্টররা যারা আমাকে ভবিষ্যতে কাজ দিতে পারে তাঁদের কাছে একটু পরিচিতি পাব এটাই মাথায় ছিল কম্পিটিশেন জেতার জন্য গান গাইতে যাই নি!

এখনো কোন রিয়্যালিটি শো’তে তোমার কোন ফার্স্ট প্রাইজ নেই… আক্ষেপ হয় না…

অন্বেষা- ফার্স্ট হলে তাৎক্ষনিক কষ্টটা হয়তো ভোলা যেত কিন্তু একটা ভেতরে ভেতরে যে জেদ হয়, নিজের মধ্যে একটা আগুন না জ্বললে ভালো করার খিদেটা থাকতো না আর এই ম্যাডনেসটা না থাকলে সাংঘাতিক ভালো কিছু তৈরি হয় না তাই এই ফেলিয়ারগুলো আমাকে সাহায্য করেছে আকচুয়ালি সাকসেসফুল হতে!

অন্বেষার একটা ইমেজ রয়েছে সবার কাছে বেশ শান্ত, স্নিগ্ধ একটা ব্যাপার, কেউ রাগতে দেখে নি, তো রাগলে কি করে অন্বেষা?

অন্বেষা- (হাসি) এটা আকচুয়ালি বাইরে প্রকাশ পায় না মানে ঘরের বাইরে, তবে এমনটা নয় আমি প্রিটেন্ড করি খুব শান্ত এন অল! আমি মোটামুটি শান্তই তবে মা-বাবা সেটার সাথে এগ্রি করবে না(হাসি)! আমি একটুতেই রেগে যাই অনেক সময়!

দই, আইসক্রিম এরকম ডেলিসিয়াস খাবারগুলো স্যাক্রিফাইস করে গান করো তারপাশে যখন শোনো কেউ সফটওয়্যারে সাহায্যে গান হিট করে নিয়ে যায় কতোটা বিরক্তিকর হয় সেটা?

অন্বেষা- …(মুখ কুঁচকে)বিরক্তি মানে সাংঘাতিক রাগ হয়! এটা বলে বোঝানো যাবে না কতোটা ফ্রাস্ট্রেটিং! যারা কষ্ট করে গানটা শিখছে বা গাইছে তাদের কাছে ভীষণ বিরক্তির ব্যাপার এটা! সফটওয়্যারের ভালো দিকও আছে খারাপ দিকও আছে, তবে যারা রিয়েল সিঙ্গার, রিয়েল ট্যালেন্ট তাদের কাছে এই ব্যাপারটা ভীষণ অ্যানোয়িং! ইন্ডাস্ট্রিতে আজকাল টেক্সচার চলে এটা এখন নতুন ট্রেন্ড বিশেষ করে বম্বেতে, তবে এটা ভালো না খারাপ হচ্ছে সেটা বলতে পারবো না!

আইটেম গানে কতোটা স্বচ্ছন্দ এখন তুমি?

অন্বেষা-  এটা মিউজিক ডিরেক্টাররা বেশী ভালো বলতে পারবে…রিসেন্ট পুজোতে আমি “চকলেট” সিনেমায় একটা ক্যাব্রে স্টাইলের গান করেছি ইন্দ্রদীপদার সুরে গেয়েছি যেটা আইটেম সং ছিল… আমি তো এই ধরনের গান আরও চাই করতে কারন এইধরনের সুযোগ পেলে ভালোই লাগে আর ওঁরাও যখন ডাকেন এরকম গানের জন্য! অন্বেষা মানেই মিষ্টি মিষ্টি গান এটা ভাঙতে চাই (হাসি)!

বলিউড না টলিউড কোথায় টিকে থাকার লড়াইটা বেশী কঠিন?

অন্বেষা- দুটোই খুব কঠিন ইন্ডাস্ট্রি, কম্পিটিশনও দুজায়গায় বেশী! ইদানিং অনেক মানুষ আসছেন, বেশী ভিড় হয় সেখানে প্রতিযোগিতা তো বেশী হবেই!

তাহলে ২০১৭তে কি কি উপহার পাচ্ছে তোমার শ্রোতারা?

অন্বেষা- অনেক গান আছে বলিউডে, টলিউডে, সাউথে পাইপলাইনে মানে সেট টু রিলিজ…রিসেন্ট গান গাইলান শান’দার সাথে খুব ভালো একটা গান! গোবিন্দার সিনেমা “অ্যা গ্যায়া হিরো”তে মিকা সিং’র সাথে একটা ডুয়েট গাইলাম কিন্তু ওঁরা প্রচার করছে গানটা অন্যএকজনের নাম দিয়ে এমনকি ফেসবুকেও পোষ্ট করে বলছে যে সে গানটা গায় নি! অ্যাকচুয়াল সিঙ্গারদের ক্রেডিট দেওয়া উচিৎ!

ফেব্রুয়ারি মাস তো পুরো প্রেমের মাস, প্রেম করছো?

অন্বেষা- দেখো যারা আর্টিস্ট হয় স্পেশালি আমার কথা বলতে গেলে আমি খুব ইমোশনাল, যে কোন মুহূর্তে (তুড়ি মেরে) প্রেমে পড়ে যাই তা বলে এই নয় যে রিলেশেনে চলে যাব! আর আমরা তো খুব ফিল্মি মানুষ তাই মাথায় রোমান্টিক ব্যাপারটা চলে কারন ফিল করাটা খুব জরুরী…আপাতত প্রেম করছি না তবে গানের প্রেমেই আছি!

একটা জায়গা পুরো ফাঁকা,জনবসতি থেকে অনেক দূরে তুমি আছো ও আরেকজন মানুষ আছেন! তুমি নিজের গাওয়া প্রিয় গানগুলো তাঁকে শুনিয়ে যাচ্ছ পরপর! এরকম সিচুয়েশেনে কোন মানুষকে চাইবে তোমার বিপরীতে?

অন্বেষা- (কিছুক্ষণ চুপ)……আমার মা।

প্রশ্নের ওপারে- শুভদীপ কাজলী (এডিটর)