Home সাক্ষাৎকার "অশোক সুরানা দার মতো ভদ্র প্রযোজক বিরল! " - ভাস্বর চ্যাটার্জ্জী
রবি

শুধু ট্রিবিউট নয় ! একটু অন্য স্বাদে ছবিতে রবি

'রবি ঘোষ' এই নামটা শুনলেই গুপী গাইন বাঘা বাইন চলচ্চিত্রের বাঘা, গল্প হলেও সত্যির সেই চাকরের চরিত্রটিকে সবার আগে মনে পরে যায়। প্রবাদ প্রতিম...

রান্নাঘর থেকে রাজ্যপাল , গান দিয়ে জয় করলেন অনুভা গাঙ্গুলী !

ছোট্ট অরিন্দম ছোটবেলায় মা বলতে পারতনা,মুনা বলে ডাকত মা কে।সেইথেকে অনুভা গাঙ্গুলী হয়ে গেলেন সর্বজনের মুনা। এরপর তাঁর দুই কন্যা স্বর্ণালী বর্ণালী। তাঁরাও মা...
আর্ট

আর্ট ফিল্মবোদ্ধাদের কাছে উত্তমকুমারের জনপ্রিয়তা ছিল অসহ্য !

চল্লিশ বছর হয়ে গেল তিনি নেই কিন্তু আজও তিনি আছেন। তাঁর জনপ্রিয়তা এতটুকু কমেনি। আজও পূরণ হয়নি তাঁর ছেড়ে যাওয়া সিংহাসন। তিনি উত্তম কুমার।উত্তম...

“অশোক সুরানা দার মতো ভদ্র প্রযোজক বিরল! ” – ভাস্বর চ্যাটার্জ্জী

টেলিভিশন জগতে মেগা সিরিয়ালের স্রষ্টা প্রযোজক অশোক সুরানা প্রয়াত। আকাশ আটের প্রাণপুরুষ যিনি। তাঁকে নিয়েই স্মৃতিতর্পণ করলেন নায়ক অভিনেতা ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়।

সাক্ষাৎকার নিলেন শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়

বাংলায় প্রথম মেগা ‘জননী’ র প্রোডিউসার ছিলেন অশোক সুরানা। নামভূমিকায় সুপ্রিয়া দেবী। তারপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। নানা পরীক্ষামূলক গল্পের সিরিয়ালে দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছেন অশোক সুরানা। কলকাতা দূরদর্শন থেকে আকাশ বাংলা হয়ে আকাশ আট অশোক সুরানার সফর আজ শেষ হল। সব সিরিয়াল শেষে টিভি স্ক্রীনে ভেসে উঠত অশোক সুরানা নামটা। যে নামটা আইকনিক আজও বাঙালীর অন্দরমহলে। যিনি বাঙালী না হয়েও বাংলাকে বাঙালীকে আপন করে নিয়েছেন। পুরনো বাংলা ছবি থেকে বাংলা গানকে নতুন ভাবে উপস্থাপন করেছেন চ্যানেল এইটে। নতুন অভিনেতা অভিনেত্রী দের থেকে পরিচিত মুখ সবার কথাই ভেবে গল্প কাজ ভাবতেন তিনি।বাংলা টেলিভিশনের প্রবাদপ্রতিম প্রযোজক অশোক সুরানা রবিবার বেলা ১২টা নাগাদ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৬২ বছর। মুম্বই পাড়ি দেন তিনি কিডনি সংক্রান্ত অস্ত্রোপচার করতে। কিন্তু অস্ত্রোপচার সফল হলেও ধোকলটা বোধহয় আর সামলাতে পারেননি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াণ হয় তাঁর। অশোক সুরানা ভাস্বর চ্যাটার্জ্জীর কাছের মানুষ , অশোকদা। ভাস্বরের অভিনয় জীবনের বেশীরভাগ কাজই অশোক সুরানার সঙ্গে। তাই ভাস্বর স্মৃতিচারণা করলেন অশোক সুরানা সম্পর্কে নানা ফিরে দেখা গল্পে,

ভাস্বর চ্যাটার্জ্জী জানালেন ,

ভাস্বরঅশোকদাকে নিয়ে এত আগে এই খবরে বলতে হবে এটা ভেবেই খুব কষ্ট হচ্ছে। মাত্র ষাটের ঘরেই চলে গেলেন। খুব খুব মন খারাপ। কিন্তু অশোকদাকে নিয়ে কথা বলে তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে চাই। আমি এই খবর পেয়েই সবার আগে লিলি আন্টিকে (চক্রবর্তী) ফোন করে জানিয়েছি। উনি খুব শকড্ শুনে। লিলি চক্রবর্তী কদিন আগেই আকাশ আটে অশোকদার ‘বৃদ্ধাশ্রম’ করেছেন তো। যেটা খুব হিট সবার মন ছুঁয়ে গেছে। লিলি আন্টিকে তাই জানালাম। অশোকদার সঙ্গে আমার পরিচয় ২০০৪ – ০৫ থেকে। তখন উনি ‘জননী’ প্রভৃতি মেগা করে এসছেন। সেসময় উনি আর মেগা করতেননা। ছোটো গল্প,পাঁচ দিনের গল্প,সাহিত্যধর্মী গল্প নিয়ে ধারাবাহিক করতেন। তখন প্রথম উনি শুরু করেন একমাসের গল্প। যেটার নাম ছিল ‘টাটকা গল্পে আটকা মাস’। এগুলো সবই আকাশ আটে , তখন আকাশ বাংলা। অশোক সুরানা মানেই আকাশ , চ্যানেল এইট।

‘টাটকা গল্পে আটকা মাস’ র প্রথম গল্পের শ্যুটিং যতদূর হাজারিবাগে হয়। সেখানে ডাকাত পড়েছিল। বিশাল খবর হয় তখন। আমি ছিলাম দ্বিতীয় গল্পে। সেটার শ্যুটিং হয়েছিল সুন্দরবনে। ‘টাটকা গল্পে আটকা মাস’ হত এমন গল্প নিয়ে সাহিত্যিকদের যেগুলো প্রকাশিত হয়নি কোথাও। যেমন আমি করেছিলাম বাণী বসুর ‘ শাকম্ভরীর দ্বীপ’। তখনও সেটা অপ্রকাশিত। তারপর করেছিলাম সুচিত্রা ভট্টাচার্যের ‘রঙ বদলায়’। সেটা পরবর্তীকালে গল্প হয়েই বেরিয়েছিল। ‘রঙ বদলায়’ র চিত্রনাট্য সুচিত্রাদি নিজে লিখেছিলেন। কতটা উন্নত কাজ ভাবো।কি জানো তো আমার যেটা মনে হয় , অশোকদা সময়ের থেকে অনেক এগিয়ে ছিলেন। উনি আগে থেকে বুঝে যেতেন যে কি ট্রেন্ড আসতে চলেছে। ধরো প্রথম মেগা সিরিয়াল নিয়ে এলেন ‘জননী’। আইকনিক লেজেন্ডারী হিট। নামভূমিকায় সুপ্রিয়া দেবী। তখন মেগা করতেন মেগা করতেন তারপর উনি মনে করলেন নাহ না মেগা লোকে আর দেখবেনা তখন সাহিত্য নিয়ে এলেন। ‘সাহিত্যের সেরা সময়’ কি বিশাল হিট করল। ওনার হাউস ‘চ্যানেল এইট’ এগিয়ে ভাবত, ভাবে।  কিছু বছর আগে ফের মেগা করেন ঐ আগের দিন গুলোর ঘরানা ভেবে ‘আবার জননী’। নামভূমিকায় অনুরাধা রায় কে নেন। সেটাতেও অশোকদা আমাকে করতে বলেছিলেন আমি করতে পারিনি ডেটের জন্য।

আমি আকাশ বাংলায় আমার সমসাময়িক শিল্পীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী কাজ করেছি। একটা সাহিত্য করলাম এক সপ্তাহে পরের সপ্তাহে আরেকটা করছি। আরেকটা হত পাঁচ দিনের গল্প নিয়ে ‘সোম থেকে শনি ‘। আবার একটা নতুন আইডিয়া দিয়ে করেন এক মাসের সিরিজ ঠাকুর দেবতাদের গল্প। সেখানে জগন্নাথদেবের পুরির মন্দির কি ভাবে প্রতিষ্ঠা হল সেই গল্পটা করেছিলাম। এরমাঝে একটা চমক আনলেন অশোকদা আবার মেগা করলেন আর সেটা খুব সাহসী পদক্ষেপ। তসলিমা নাসরিনের ‘দ্বিখন্ডিত’ নিয়ে মেগা। যে বইটা ব্যান ছিল। সবচেয়ে যেটা বলার কথা অশোকদা ‘দ্বিখন্ডিত’র সাহিত্যের দিকটা দেখান কোনভাবেই মুচমুচে খবর করতে অযথা অশ্লীলতা আনেননি। সুস্থ চিন্তার কাজ করতেন যার জন্য উনি লেজেন্ড। সেটা পঞ্চাশটা এপিসোড হয়। আমার করার কথা ছিল। সমতা, চান্দ্রেয়ী ,সোহিনী ,শুভ্রজিৎ অনেকে ছিল। পরিচালক ছিলেন সুশান্ত বসু।

অশোক সুরানা দা যে কোনো বাঙালীর থেকে বেশী বাঙালী। ওনার যা সাহিত্যে জ্ঞান আর কারুর নেই। আরেকটা চিরসত্য কথা অশোকদার মতো ভদ্র প্রোডিউসার আর পাওয়া যাবে কিনা খুব সন্দেহ আছে। এটা বড় বড় অক্ষরে লেখা থাকবে। উনি কোনদিন কোনো আর্টিস্টকে অসম্মান করেননি, কোনদিন কাজে ইন্টারফেয়ার করেননি, যে যা চেয়েছেন ওনার সাধ্য মতো দিয়েছেন , কোনদিন কারো টাকা মারেননি। এত ভদ্র প্রোডিউসার অবাঙালী হয়েও বাঙালীদের প্রতি বাংলা সাহিত্যের প্রতি এই সম্মান আর কোনো প্রযোজককে দিতে দেখিনি। যখন ‘ওঁম সাইরাম’ করলাম শ্রেষ্ঠাংশে আমি , তখন অশোকদা ,অশোকদার মেয়ে ঈশিতার বিরাট অবদান ছিল। ওঁরাই আমাকে ভাবেন। সুশান্ত বসু ডিরেক্টর আমায় ডেকেছিলেন তখন সিরিয়ালটা করতে। অশোকদা একশো দুশো পর্বের সেলিব্রেশনে সেটে এসে অসম্ভব প্রশংসা করে বলেছিলেন “তুমি ছাড়া এই কাজটা হতনা ভাস্বর। অশোকদা এতটাই উৎসাহ দিতেন। “

আরেকটা ব্যক্তিগত মুহূর্ত বলতে পারি ,আমার জীবনে একসময় একটা খুব বড় ঝড় উঠেছিল। কাজ ছেড়ে দি কিছুদিন। সেইসময় আমি যখন আবার কাজের জগতে ফিরি অশোকদাই প্রথম এগিয়ে এসে আমায় কাজ দেন। প্রথম কল ওনার হাউসের থেকে পাই। ভাস্বরকে মনে রাখেন। আমার কামব্যাক ছিল অশোকদার হাউসেই ছোটো গল্প দিয়েই ‘বাসরলগ্ন’। আমি আর মল্লিকা মজুমদার। আমি একটা গ্যাপের পর সমস্যা কাটিয়ে কাজের জগতে ফিরেছিলাম কিন্তু লোককে বলতে হয়নি। প্রথম কলটাই অশোকদার থেকে পাই। এখন মেগার ট্রেন্ড সেই শাশুড়ি বউমায় ভিলেনগিরি এগুলো কেউ দেখছেনা। আবার সেই ছয় মাসের ছোটো ছোটো গল্পে ফিরে আসছে সিরিয়াল। অশোকদাই এটা চালু করেন প্রথম। গত বছরও আকাশ আটে একটা কাজ করলাম এক মাসের সাহিত্যে ‘ফুলেশ্বরী’। অশোকদার মেয়ে ঈশিতা এত ভালো কাজ করছে এখন ও পারবে বাবার সুনামটা ধরে রাখতে।

শেষ কথা এটাই বলব অশোক সুরানা বাংলা টেলিভিশনের অগ্রদূত পথিকৃত পথপ্রদর্শক Pioneer ।

এনা

MUST READ

১০০ দিনে কথনীয় ‘কন্ঠ’

একশো দিন একশোরও বেশী কন্ঠে উচ্চারিত আজ শিবপ্রসাদ-নন্দিতা জুটির 'কন্ঠ' ছবিটি। উইনডোজ প্রযোজিত 'কন্ঠ' ছবিটি একশো দিন পার করল।'কন্ঠ' ছবির অনুপ্রেরণা একজন ক্যান্সার রোগ...

“ঋতুর মা থেকে শিবুর মায়ের চরিত্রে অভিনয় করতে পেরে আমি ধন্য।” – অনসূয়া মজুমদার

'মহাপৃথিবী, 'তাহাদের কথা','সম্প্রদান','দেবাঞ্জলী','মুখার্জীদার বউ','গোত্র' ... এক বিশাল সফরের নায়িকা অভিনেত্রী অনসূয়া মজুমদার -এর মুখোমুখি। গুলগাল.কম কে অনসূয়া মজুমদার জানালেন তাঁর রিল টু রিয়েল লাইফের...

রজনীগন্ধা ঝরে গেলেন !

চলে গেলেন বিদ্যা সিনহা। যিনি আলোচনা প্রচারের বাইরে ছিলেন। বলিউড মানে শুধু বিদ্যা বালান নন। তাঁর আগেও সত্তর দশকে দমকা মুক্ত হাওয়ার মতো মধ্যবিত্তর...

পুজারিনীর এই মিমিক্রি না দেখলে কিন্তু মিস করবেন !

পোস্টমাস্টার থেকে বড় পর্দায় উঠে আসা পূজারিণী কিন্তু এখন অনেক পরিণত , হাতে রয়েছে অনেক গুলো ছবি সাথে কিছু ওয়েব এর কাজ । সদ্য...