পুরুষ। পুরুষ যেন পড়ে পাওয়া চোদ্দ আনা। নারী দিবস নিয়ে হৈচৈ। নারী দিবসের দরকার তো আছেই কিন্তু পুরুষ দিবস কবে কোনদিন আমরা কজন জানি? নারী দিবসে তো পুরুষরা নারীদের শুভেচ্ছা জানান। কিন্তু পুরুষ দিবসটা কেউ জানেই না, নারীরাও শুভেচ্ছা জানায় না পুরুষদের। গুগল টাই দেখুন পাবেন পুরুষ দিবস। কিন্তু প্রচার নেই। পুরুষদের এসব বলা মানায়না। সমাজ হাসে। পুরুষ মানে তাঁর কাঁধে সব দায়িত্ব, পুরুষ মানে অবলম্বন,পুরুষ মানে তো পুরুষ সিংহ। তাই পুরুষ দুঃখ পেলে সে কাঁদবেনা। চোখের জল পুরুষদের জন্য নয়। সমাজে নারী-পুরুষ সমান সমান বিধান হলেও বাসে মেট্রোয় নারীদের সিট সংরক্ষিত,পুরুষদের জন্য সিট সংরক্ষণ নেই। পুরুষ পড়ে পাওয়া চোদ্দ আনা।
নারীরা যৌন হেনস্থার শিকার হলে বলবার আইন জায়গা আছে। বিচার আছে।কিন্তু পুরুষ হেনস্থা হলে? সবাই হেসে উড়িয়ে দেয়। পুরুষ পড়ে পাওয়া চোদ্দ আনা।নারীদের জন্য বিউটি পার্লার, ফ্যাশন ,সুন্দরী প্রতিযোগিতা কিন্তু যদি পুরুষদের এরকম হয়? মেনে নেবে কি সমাজ?আমাদের ঘরে ঘরেই দেখুননা আপনার বাবা,আপনার কাকা,আপনার দাদা কিংবা আপনার স্বামীটিকে সংসারের সব প্রয়োজনীয় দ্রব্য বাজার থেকে নিয়ে এসে ঘাম মোছার সময় পাননা ফের অফিস। নারীরা কি অন্য পুরুষরা ভেবে দেখেছেন পুরুষদের যদি একটু নিজেকে গুছিয়ে রাখার সুযোগ দেওয়া যায়।
এবার দুর্গা পুজোয় সেরকমই এক চমকপ্রদ আইডিয়া নিয়ে এলেন নন্দিনী ভট্টাচার্য। ‘পুজোর সেরা পুরুষ ২০১৯’। পুজোর সুন্দরী তো কত ব্র্যান্ড করে কিন্তু পুরুষরা এতদিন অবহেলার পাত্র ছিলেন। এবার পুরুষদের নতুন স্বপ্ন দেখাতে আসছে এই পুরুষদের নিয়ে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠান। বাছাই পর্ব শেষ। রীতিমতো গ্রুমিং করে তৈরী হচ্ছেন প্রতিযোগীরা। যা একদম নতুন উদ্যোগ। মূল অনুষ্ঠান পুজোর শুরুতেই। কিন্তু প্রচার পর্ব চলছে আরো পুরুষদের, সমাজকে অবগত করার জন্য যাতে এমন একটি অনুষ্ঠান কলকাতা শহর করে দেখালো সেটা জেনে আরো পুরুষরা সামনের বার যোগ দেন এই প্রতিযোগিতায়।’পুজোর সেরা পুরুষ ২০১৯’ অনুষ্ঠানের মূল উদ্যোক্তা কিন্তু একজন নারী। সেটা ভেবে দেখার মতো। পুরুষদের হয়ে বলতে একজন নারী এগিয়ে এলেন তিনি নন্দিনী ভট্টাচার্য। নিপীড়িত পুরুষ আন্দোলনে অগ্রণী নন্দিনী।
অল বেঙ্গল ম্যান ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও সোশ্যাল এক্টিভিস্ট নন্দিনী ভট্টাচার্য জানালেন ” আমরা For Ever For You ও All Bengal Men’s Forum এর তরফ থেকে এবার আয়োজন করেছি “পুজোর সেরা পুরুষ”। বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোতে সেরা সুন্দরীদের ভীড়ে সেরা পুরুষেরা হারিয়ে যায় । এবারের পুজো হোক পালাবদলের পুজো। কাঠামো গড়া থেকে মৃণ্ময়ী মূর্তিতে প্রাণ প্রতিষ্ঠা, নারীদের দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন সব কাহিনীর অলিন্দে থাকে পুরুষের নিরলস প্রচেষ্টা । তাই এবারের পুজোয় আমরা এনেছি পুজোর সেরা পুরুষ ।” নন্দিনী আরো জানালেন এই সেরা পুরুষ প্রতিযোগিতার বাছাই পর্ব নিয়ে ” পুজোর সেরা পুরুষ” অনুষ্ঠান এর দুটি ভাগ। এক ভাগে প্রতিযোগিতা । অন্য ভাগে আমরা বেছে নিয়েছি সেই মানুষগুলোকে যাঁদের হাত ধরে একেকটি পুজো হয়ে উঠেছে গল্পকথার মতো। যাঁরা পুজোটি কে লালন করেন সন্তানের মতো। এই পুজোই তাঁদের জীবন যাপন । এমন দশটি মানুষকে আপনাদের সামনে নিয়ে আসবো এ বছর আমরা । এঁরাও আমাদের সেরা পুরুষ । “
অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হচ্ছে ১লা অক্টোবর, আই সি সি আর, বিকেল পাঁচটা থেকে ।সেরা পুরুষেরা আসছেন। কলকাতায় এই অভিনব উৎসবের প্রতীক্ষার আর কয়েকদিন। ১লা অক্টোবর, আই সি সি আর । বিকেল পাঁচটা থেকে । আপনারাও আসুন ।
আজ বাজে মন মাঝে ওই আগমণীর গান
জগৎ ও জননী মাকে করে আহ্বান।।
শক্তি রূপে ভক্তি রূপে জাগো তুমি জাগো
পুরুষ প্রকৃতি মাঝে জাগো তুমি জাগো।।


