Home ফিরে দেখা রান্নাঘর থেকে রাজ্যপাল , গান দিয়ে জয় করলেন অনুভা গাঙ্গুলী !
একই অঙ্গে এত রূপ 1965

হারানো ছবির গল্প !

পরিচালক হরিসাধন দাশগুপ্তর বাংলা ছবিতে অবদান একদম অনালোচিত। চলচ্চিত্রকার হিসেবে তাঁর সবচেয়ে আলোচিত ছবি সুচিত্রা - উত্তম অভিনীত 'কমললতা'। খুবই গুণী মানুষ। কিন্তু মেঘে...
অনিল

ডুবন্ত কণিকা মজুমদারকে চুলের মুঠি ধরে প্রাণে বাঁচালেন অনিল !

'মেঘে ঢাকা তারা'র শংকর যখন বোন নীতার প্রেম পত্র আবিষ্কার করে বালখিল্য দুষ্টুমি হাসিতে 'দেখি, দেখি, দেখি তুই কার প্রেম পত্র পড়ছিস?' বলে চিঠি...
অগ্নীশ্বর

সময়ের থেকে এগিয়ে থাকা অগ্নীশ্বর ! আসুন এক বার ফিরে দেখি ..

জোনাথন-ক্রিস্টোফার ভায়েরাই শুধু হলিউড কাঁপায়নি, টলিউডেও একসময় দুই ভাই ছিল। বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় এবং অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়। একজন লিখতেন আর একজন তাঁর গল্প নিয়ে সিনেমা বানাতেন।...

রান্নাঘর থেকে রাজ্যপাল , গান দিয়ে জয় করলেন অনুভা গাঙ্গুলী !

ছোট্ট অরিন্দম ছোটবেলায় মা বলতে পারতনা,মুনা বলে ডাকত মা কে।সেইথেকে অনুভা গাঙ্গুলী হয়ে গেলেন সর্বজনের মুনা। এরপর তাঁর দুই কন্যা স্বর্ণালী বর্ণালী। তাঁরাও মা কে মুনা বলেই দাদার মতো ডাকেন। এবং এই মুনা ডাকেই জনপ্রিয় তিনি দেবশ্রী রায়,প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়,সব্যসাচী চক্রবর্তী থেকে সবার কাছে। কে এই মুনা? মাতৃমূর্তির আদর্শ উদাহরণ অনুভা গাঙ্গুলী।সম্প্রতি কলকাতা প্রেস ক্লাবে হয়ে গেল অনুভা গাঙ্গুলীর ‘সুন্দরী কন্যা’ এলবামের আনুষ্ঠানিক প্রকাশ।মাননীয় রাজ্যপাল ও গুণী শিল্পীরা করলেন মুনার এলবাম প্রকাশ।হাজির ছিলেন অনুভা গাঙ্গুলী এতদিন পর পাদপ্রদীপের সামনে। কিন্তু এই গুণী সঙ্গীতশিল্পী একদিন সরে গেছিলেন পাদপ্রদীপের আড়ালে। এক শিল্পীর জীবনী, এক মায়ের গল্প জেনে নিন।

লিখছেন শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়

অনুভা৮৩ বছর বয়স কিন্তু গায়কীতে কি অনাবিল মুগ্ধতা অনায়াস দক্ষতা। ‘সুন্দর কন্যা’ অনুভা গাঙ্গুলী। কে ইনি? চলচ্চিত্র কিংবা সঙ্গীত মহলে তিনি পরিচিত। কিন্তু আমজনতার কাছে তাঁর আরেকটা পরিচয় তিনি গায়ক নায়ক ‘হংসরাজ’ অরিন্দম গাঙ্গুলীর মা। ছেলের গান ও অভিনয়ের সহজাত প্রতিভা দেখে সেই মা সরে গেছিলেন পাদপ্রদীপের আড়ালে। আমাদের যেতে হবে আরো পেছনে যখন তিনি কুমারী অনুভা ঘোষ। অনুভা ঘোষ গানের নাড়া বাঁধেন প্রবাদপ্রতিম কৃষ্ণচন্দ্র দে র কাছে।মান্না দে রও গুরু কাকা যিনি।গান শেখার সুযোগ পেতে অবস্থাপন্ন ঘরের মেয়ে হয়েও নিজেকে রাঁধুনীর মেয়ে বলতেও দ্বিধাবোধ করেননি অনুভা দেবী।এতটাই গানের প্রতি প্যাশন।এই পরিচয়েই অন্ধ সঙ্গীতজ্ঞ কৃষ্ণচন্দ্র দের কাছে নাড়া বাঁধেন তিনি।অনুভা দেবীর আরো দুই গুরু যামিনী গঙ্গোপাধ্যায় ও দুর্গা সেন। এনাদের কাছেও ধৈর্যের পরীক্ষা দিয়ে গান শিখতে সক্ষম হন।এরপর গণনাট্য সংঘ। এইভাবে একদিন আকৃষ্ট হন লোকসঙ্গীতের প্রতি।লোকসঙ্গীত সম্রাট নির্মলেন্দু চৌধুরীর কাছে গানের তালিম থেকে গানের দল। সাথ দিলেন স্বামী গোকুল চন্দ্র গাঙ্গুলী থেকে ভাসুর দেওর সবাই সহগায়ক রূপে সেই দলে। নির্মলেন্দু চৌধুরীর প্রথম গানের ছাত্রী হলেন অনুভা গাঙ্গুলী। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাঁদের লোকগানের দলের গান শ্রোতাদের মন জয় করে নিল। কত আগেই তাঁরা আজকের ব্যান্ড ফরম্যাটে শো করেছেন। কতটা এগিয়ে। এরমধ্যে হয়ে গেল বিয়ে। অনুভা ঘোষ থেকে হলেন অনুভা গাঙ্গুলী। অবশ্যই পেয়েছিলেন স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সাহচর্য। যা বাংলার বেশীরভাগ মেয়ের কপালে জোটেনা। বিয়ের পরই গানের ইতি হয়ে যায়। কোলে এল প্রথম সন্তান অরিন্দম গাঙ্গুলী।

প্রথম সন্তান অরিন্দমের পর এল আরো দুই গুণী মেয়ে স্বর্ণালী ও বর্ণালী। অরিন্দম ছোটো থেকেই গানপাগল শিশু।অরিন্দমের শিশুশিল্পী রূপে প্রথম ছবি ‘প্রস্তর সাক্ষর’। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের ছেলেবেলা।প্রথম ছবিতেই অরিন্দমের লিপে শিপ্রা বসুর গান ‘সুয্যিমামা কেমন আছো’ হিট। এরপর উত্তম কুমারের সঙ্গে স্ক্রিনশেয়ার ‘সবরমতী’,’স্ত্রী’। যে ছবি অরিন্দমকে ঘরেঘরে চেনা মুখ করে দিল। স্বর্ণালীও শিশু অভিনেত্রী রুপে ‘বাবা তারকনাথ’ থেকে ‘হংসরাজ’,’বিগলিত করুনা জাহ্নবী যমুনা’ বহু ছবিতে সাফল্য পেলেন। বর্ণালী ‘সূজাতা’,’করুনাময়ী’ র মতো বিখ্যাত ছবিতে কাজ করেছেন। ‘সূজাতা’ ছবিতে অপর্ণা সেন ও সুমিত্রা মুখোপাধ্যায় দুই নায়িকার মেয়েবেলার রোলে স্বর্ণালী বর্ণালী করেছেন যা অনেকেই জানেননা আজ। সন্তানদের গান অভিনয় সঙ্গে পড়াশুনো ও সংসার ধরে রাখতে নিজের গানকে সরিয়ে রাখলেন ঘরের নিভৃত অন্তরালে অনুভা গাঙ্গুলী। সেসময় অনুভা দেবী গোঁকুল বাবুর বাড়ি তখনকার আরো দুই খ্যাতনামা শিশু বালিকা জুটি চুমকী(রুমকী)-ঝুমকীরও অবাধ যাতায়াত,মুনার বাড়ি স্নেহ আদরে। মুনা খুব কড়া আবার স্নেহময়ী। যাদের ভাব ছোটোবেলায় একসঙ্গে গান থেকে পুজোয় ঠাকুর দেখা। চিত্রাভিনেত্রী দেবশ্রী রায় যেমন বলছেন “মুনার বাড়ি আমরা গেলেই অরিন্দমের বাবা বলতেন “চুমকী ঝুমা এসছে রেষ্টুরেন্টের খাবার আনাই।” আসলে ওনারও খাবার ইচ্ছে যেটা মুনা এমনি সময় অনুমতি দিতেন না।

আর অরিন্দম মানেই ধুতি পাঞ্জাবী পরে গান সেই ছোট্ট থেকে। সঙ্গে মুনা স্টেজে বসে হারমোনিয়াম বাজাতো অরিন্দম গান গাইত। এটা কমন সব ফাংশনে।মুনা কিন্তু গান নিজে না গাইলেও পাবলিকলি, গানের সঙ্গেই ছিলেন। ” সরস্বতী পুজো কি অরিন্দমের জন্মদিন প্রতিবার বসত বাড়িতে ঘরোয়া জলসা থেকে পাত পেড়ে খাওয়া দাওয়া। হাজির থাকতেন টলিউডের সব শিল্পী। পরিবার তখন সবাই। কিন্তু সন্তানদের পরিনত বয়সে এল আরেক ঝড়। অনুভা দেবীর বিবাহিতা কনিষ্ঠা কন্যা বর্ণালী আক্রান্ত হলেন দুরারোগ্য ব্যাধিতে।। অনেক চিকিৎসা করেও শেষ রক্ষা হলনা। আজ থেকে দশ বছর আগে চলে গেলেন বর্ণালী। বৃদ্ধা বয়সে সন্তান শোক অতিক্রম করা এবং সবাইকে সাহস জুগিয়েছেন তখনও অনুভা মা। এত লড়াই করেছেন অনুভা দেবী।তাই বাকি দুই সন্তান অরিন্দম স্বর্ণালী তাঁদের মা কে ফিরিয়ে দিলেন সেই ছেড়ে আসা গানের তীর্থভূমি।

অনুভাতাই অনুভা দেবীর সিডি রিলিজের দিনটি ছিল সেই মাহেন্দ্র ক্ষন যেদিন অরিন্দম,স্বর্ণালী,দেবশ্রী,তনুশ্রী ঝুমকি রায়,অরিন্দম জায়া খেয়ালী দস্তিদার থেকে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় কন্যা পৌলমী বসু,বিশ্বজিৎ কন্যা পল্লবী চ্যাটার্জ্জী,সব্যসাচী চক্রবর্তীর মতো ফেলু মিত্তির স্টার,মিঠু চক্রবর্তী,হংসরাজের শামু দাদা বাসুদেব পাল,সবার পরিবার আজ এক হয়ে প্রকাশিত করলেন অনুভা দেবীর গানের এলবাম ‘সুন্দরী কন্যা’। বর্ণালী থাকলেও খুব খুশী হতেন মায়ের উৎসবে।নিশ্চয়ই তিনি সব দেখছেন খুশী হয়ে। সেদিনকার সেই অনুভা গানের এত তালিম নিয়েও গৃহবধূ রত্নগর্ভা জননী পরিচয়ে যিনি খুশী ছিলেন,তাঁর গানের রের্কড প্রকাশে আজ স্বয়ং এলেন বাংলার রাজা মাননীয় রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠী মহাশয়।প্রদীপ প্রজ্বলন করে অভয়প্রদীপপ্রজ্জোলনকারিনী অনুভা গাঙ্গুলীর দশ খানি গানের সংকলন মুক্তি পেল রাজ্যপাল ও অনুভা দেবীর সেই শিষ্য শিষ্যাদের হাত দিয়েই।বৌমা অভিনেত্রী খেয়ালী দস্তিদার বললেন দামী কথা “কেন একজন মা শুধু সন্তান সংসারের জন্য শুধু নিজেকে উজাড় করে দেবেন! আমার শাশুড়ীমাকে খুব বকব,কেন নিজেকে অবহেলা করেছেন। তাই আজকের এই দিনটা বিশাল প্রাপ্তি আমাদের ডাকে রাজ্যপাল থেকে এত মানুষ ভালোবেসে এসছেন।” … আসলে মাতৃত্ব তো সবার উপরে।

উপস্থিত ছিলেন শিবাজী চট্টোপাধ্যায়,সৈকত মিত্র,স্বপন বসু র মতো ব্যক্তিত্বরা।হৈমন্তী শুক্লাও অতিথি তালিকায় ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চলনায় আরেক বিখ্যাত নারী বিজয়লক্ষী বর্মণ। এত আনন্দ আয়োজনে অনুভা দেবী তবু নিজের পায়ের তলার মাটিকে ছাড়েননি এতই মাটির মানুষ তিনি। তিনি বললেন “লোকগীতি যারা গায় তাঁরা তো গেয়ো তাঁদের গানের উদ্বোধনে রাজ্যপাল এলেন এ তো গেঁয়ো মানুষের বিশাল ঈশ্বরের আর্শীবাদ।”সত্যি অরিন্দম ও স্বর্নালী আজ যা করে দেখালেন তা অনন্য। মা কে তাঁর যোগ্য জায়গা ফিরিয়ে দিলেন সন্তানেরা।

ভাবনা রের্কড কে অনেক ধন্যবাদ এমন এক শিল্পীকে যোগ্য সম্মান দেওয়ার জন্য। এক সিটিংয়ে দশ খানি গান একসঙ্গে তিরাশি বছর বয়সে রের্কডস করেছেন অনুভা মা। যা সত্যি কুর্নিশ করার মতো। ‘প্রেম জানেনা রসিক কালাচাঁদ’,’হস্তি কন্যা হস্তি কন্যা,’কুঁচবরণ সুন্দর কন্যা’,’লোকে বলে বলে রে’,’এমন প্রেমের নদীতে সইগো’ র মতো সব গান গেয়েছেন অনুভা গাঙ্গুলী। ‘সুন্দরী কন্যা’ সিডিটা পাওয়া যাবে সাউথ সিটি স্টারমার্ক, রাসবিহারী গোলপার্ক মেলোডি তে।

প্রণাম অনুভা মা।

তথ্য ঋণ ও ছবি সৌজন্যে – অরিন্দম গাঙ্গুলী ও স্বর্ণালী গাঙ্গুলী নাগ।

MUST READ

মহালয়ার সেরা পাঁচ ‘ মহিষাসুরমর্দিনী ‘

আকাশবাণী কলকাতার 'মহিষাসুরমর্দিনী 'র পর টেলিভিশনে 'মহিষাসুরমর্দিনী' সবার কাছেই ভালোবাসার। কিন্তু এখন অনেক চ্যানেল হওয়া সত্ত্বেও টিভির মহালয়া দর্শকের বিরক্তি উদ্রেক করে। সেই মেগার...

পুজোর সেরা পুরুষ কে ? এবার পুজোয় অভিনব উৎসব !

পুরুষ। পুরুষ যেন পড়ে পাওয়া চোদ্দ আনা। নারী দিবস নিয়ে হৈচৈ। নারী দিবসের দরকার তো আছেই কিন্তু পুরুষ দিবস কবে কোনদিন আমরা কজন জানি?...

এবার মহালয়াতেই অকাল বোধন !

দেবী দুর্গার ত্রিনয়ন, যার জ্যোতিতে আলোকিত বিশ্ব। সৃষ্ট প্রাণ। আমরা দেবী দুর্গাকে চোখে দেখিনি দেখিনা। কিন্তু দুর্গা মানে এক শক্তি। নারী শক্তি। ধরিত্রীতে সকল...

নটবর ১০০তেও নটআউট !

বাবা সতু রায় ছিলেন নির্বাক যুগের বিখ্যাত অভিনেতা। কিন্তু তাতে ছেলের বিশেষ কিছু সুবিধে হয়নি। তাঁর জন্ম বরিশালে। বাবা পরে চলে আসেন কলকাতায়। শেষে...