Home সাক্ষাৎকার "ঋতুর মা থেকে শিবুর মায়ের চরিত্রে অভিনয় করতে পেরে আমি ধন্য।" -...
কুমার

যে গান গাইতে টাকা নেননি কিশোর কুমার !

কিশোর কুমার। যিনি আজ বেঁচে থাকলে নব্বই বছরের চিরকিশোর হতেন।আজ বলব এমন এক গল্প যা মন কেমন করাবেই। কিশোর কুমার পেমেন্ট ব্যতীত কোন গান...
মুক্তি

স্বামীর ওপর সন্দেহ হচ্ছে ? এই গল্পই খুলে দেবে রহস্যের জট

তুলসী চক্কোত্তি মানেই "পরশ পাথর" সন্তোষ দত্ত মানেই লালমোহন বাবু ... এর বাইরে কেউ ভাবেননা জানেননা ওনাদের। ওনারা আরও অনেক ভালো চরিত্র, কমেডি ক্যারেক্টার করেছেন...
অঞ্জন চৌধুরী

বাংলা ছবির দু:সময়ের অন্নদাতা ! ব্রাত্য বাংলা সিনেমার একশো বছরের ইতিহাসে !

যাঁকে কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসব গুরুদক্ষিণা টুকুও দিলনা। তিনি বাংলা ছবিকে বউ সিরিজ উপহার দিয়ে ডুবিয়ে দিয়ে গিছেন আজকালকার জ্ঞানপাপী দুটো শর্ট ফিল্ম বানানো পরিচালকরা...

“ঋতুর মা থেকে শিবুর মায়ের চরিত্রে অভিনয় করতে পেরে আমি ধন্য।” – অনসূয়া মজুমদার

‘মহাপৃথিবী, ‘তাহাদের কথা’,’সম্প্রদান’,’দেবাঞ্জলী’,’মুখার্জীদার বউ’,’গোত্র’ … এক বিশাল সফরের নায়িকা অভিনেত্রী অনসূয়া মজুমদার -এর মুখোমুখি। গুলগাল.কম কে অনসূয়া মজুমদার জানালেন তাঁর রিল টু রিয়েল লাইফের নানা কাহিনী ও ‘উইনডোজ’র আসন্ন ছবি ‘গোত্র’ নিয়ে নানা গল্প ।

সাক্ষাৎকার গ্রহণ ও লেখক – শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়

‘মুখার্জীদার বউ’ -এর শোভারাণী, ‘গোত্র’ র মুক্তি দেবী আর অনসূয়া মজুমদারের মধ্যে কতটা মিল?

অনসূয়া – অনসূয়া মজুমদার, আমি তো একজন অভিনেত্রী। মিল হল এঁরা তিনজনেই মা। আমিও একজন মা। দুটো চরিত্র ভিন্ন একদম। মুক্তি দেবী কে প্রথমে দেখে মনে হয় একটু রাগী। কিন্তু মনটা ভালো। অন্যদিকে শোভারাণীকে দেখানো হয়েছে শাশুড়ির সঙ্গে পুত্রবধূর যে সম্পর্ক। শোভারাণী আর মুক্তি দেবী দুটো চরিত্রর ডায়মেনশান আলাদা।

‘গোত্র’ র মুক্তি দেবী তো শিবুদার (শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়) মাকে ভেবে করা। শিবুদার মায়ের সঙ্গে দেখা করেছেন?কেমন অভিজ্ঞতা?

অনসূয়া – ওঁনাকে প্রথম দিন দেখে আমি অভিভূত হয়ে গেছি। উনি এত শিক্ষিতা, প্রচুর পড়াশুনো করেছেন, এত বই পড়েন, নিজে এই বয়সে এখনও রান্না করেন, তেমনি স্নিগ্ধ সুন্দরী,আমার ভীষন ভালো লেগেছে। আমায় যখন বলা হল শিবুর মায়ের ওপর বেস এই মুক্তি দেবীর চরিত্রটা ভাবলাম ফোটাতে পারব কি পারবনা। কিন্তু আমাকে বলেই দেওয়া হয়েছিল এটা তো কপি নয়। ওঁনাকে ভেবে করা কিন্তু আমি নিজের মতো করে করি প্লাস চিত্রনাট্যেও ইম্প্রোভাইজ করা হয়।

দুটো ছবিতে পর পর অনসূয়া মজুমদার লিড রোলে। যেখানে ‘মুখার্জীদার বউ’ সুপারহিট হাউসফুল বোর্ড ঝুলেছে বাংলা ছবিতে। আবার ‘গোত্র’। কেমন ফিলিংস?

অনসূয়া – সেটা নিয়ে আপনারা কি ভাবেন?

আপনার মতো একজন প্রতিভাময়ী অভিনেত্রীকে তো দরকার বাংলাছবিতে বারবার প্রধান চরিত্রে।

অনসূয়া – আমি তো খুব কৃতজ্ঞ,খুশী যে উইনডোজ, নন্দিতা রায় , শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় আমার কথা এমন দুটি চরিত্রে ভেবেছেন। আর এটা তো টিমওয়ার্ক। ‘মুখার্জীদার বউ’ তে ছবির গল্প এবং আমার আর কনীনিকার চরিত্র দুটো শোভারাণী আর অদিতি এত ন্যাচারাল যে মনে হয় প্রত্যেকের ঘরেঘরে এমন চরিত্র রয়েছে।

‘গোত্র’ র অফার কিভাবে এল?

অনসূয়া -‘মুখার্জীদার বউ’ ডাবিং করার সময় শিবু আমায় ফোন করে বলেছে যে ওমুক মাসের এই দিনগুলো আমার জন্য রেখো। আর আমার তখন দুটো সিরিয়াল সবেসবে শেষ হয়েছে নভেম্বরে। ‘কুসুমদোলা’ আর ‘অন্দরমহল’।  ‘অন্দরমহল’এ কুন্দনন্দিনীও আমার খুব প্রিয় চরিত্র। এরপরই ‘মুখার্জীদার বউ’ ‘গোত্র’ চলে এসছে। না করার তো কোনো প্রশ্নই ওঠেনা। ওঁরা দুজন শিবু-নন্দিতা কত সাহস ওঁদের বড় স্টার না নিয়েও ছবি সুপারহিট করাচ্ছে। আমি তো সবজায়গায় ওঁদের বলি ‘ফিয়ারলেস ডুয়ো’। আমাকে ডিগ্ল্যামারাইজড করে মেকআপহীন লিড চরিত্রে কাস্ট করেছেন। ওঁদের কনফিডেন্স আছে বোঝে দর্শক কি নেবে।

মেগা সিরিয়াল,ফিল্ম,মঞ্চ নাটক তিনটে মাধ্যমে কি তফাৎ অভিনয়ে আপনার মনে হয়?

অনসূয়া – যে কোন চরিত্র হোক সিরিয়ালে,ছবিতে,মঞ্চে আমার কাছে মনে হয় সেটা একটা কেস অফ স্টাডি। সেখানে আমি কম্প্রোমাইজ করিনা। আমি তো লীনার চারটে সিরিয়ালে একটা বিশেষ ভাষা ব্যবহার করেছি কিন্তু চারটের চরিত্রায়ণ ভিন্ন। আবার ‘চোখের তারা তুই’ তে একজন বাঈজীর চরিত্র করেছি। আমি এই ডায়মেনশানটা আনতে চাই। এটা একটা এক্সারসাইজ।

‘গোত্র’র ‘নীল দিগন্তে’ গানে আপনাকে এতদিন পর নাচতে দেখা যাচ্ছে। নাচটা কি অনেক আগে থেকেই শেখা? কারন আপনি একজন প্রথাগত নৃত্যপটীয়সী দেখেই বোঝা যাচ্ছে। কিন্তু অনসূয়া মজুমদার আর নাচ এখনকার দর্শকরা অনেকেই অবগত নয়।

অনসূয়া – হ্যাঁ, প্রফেশানাল তালিম নিয়েছি। আমি মঞ্চে অনেকগুলো পারফর্ম করেছি। কত্থক আমি শিখেছি তালিম নিয়েছি। কত্থক তো খুব কঠিন। আমার গুরুজী হলেন গুরু প্রহ্লাদ দাশ মহাশয়। পরবর্তীকালে ওঁনার ছেলের কাছেও শিখেছি। নাচ খুব ন্যাচারাল ভেবেই এসছে আমার ভিতর। থিয়েটারে আসার আগে আমি ভেবেছিলাম নাচটাই পুরোপুরি করব। ড্যান্সার হতেই চাইতাম। নাচটা আরও সিরিয়াসলি শুরু করি একটা মঞ্চ নাটক ছেড়ে দিয়ে। আমি কিন্তু চাকরি জয়েন করার পর নাচের প্রফেশানাল তালিম নিই। অনেকে অনেক আগে থেকেই ছোটোবেলা থেকে শেখে। ফলে আমার উপর চাপটা বেশী ছিল। কত্থক অনেক ঘন্টা রেওয়াজের দরকার পড়ে। তখন স্টেজ পারফর্মও করতাম। তারপর তো আমার ছেলে হবার পর নাচটা ছেড়ে দিলাম। চাকরিও করব,থিয়েটারও করব,সিরিয়াল, ছবিও করব এতগুলো তো একসঙ্গে হয়না। নাচটাকে স্যাক্রিফাইস করতে হল। সব তো একসাথে হয়না। কিন্তু এখনও মিউজিক শুনলেই নেচে উঠি। এতদিন পর ‘গোত্র’ ছবিতে নাচ করেও খুব ভালো লাগল।

আপনি মৃণাল সেনের সঙ্গে ‘মহাপৃথিবী’, বুদ্ধদেব দাশগুপ্তর ‘তাহাদের কথা’, ঋতুদার ‘চিত্রাঙ্গদা’ তথাকথিত আর্ট ফিল্ম করেছেন। আবার এই কিছুটা মূলধারার ছবি ‘গোত্র’ তেও প্রধান চরিত্রে। দুই ধারার ছবিতে অভিনয়ের পার্থক্য?

অনসূয়া – দুই ধারার ছবিতেই অভিনয় করতে ভালো লাগে। আমি আমার বেস্টটা দি। মূলধারার ছবিতে একটু ড্রামাটিক করা যায়। আর্ট ফিল্মে আরো কন্ট্রোলড। নাটকে মঞ্চে শেষ রোয়ের দর্শকেও পৌঁছতে হয় অভিনয়টা।আর পরিচালক তো রয়েছেনই। আমি ডিরেক্টর’স এক্টর। এটা ভেবে ভালো লাগে সেই তখন থেকে এখনও পরিচালকরা আমার উপর ভরসা করেন। কোনো কঠিন কমপ্লেক্স চরিত্র ভাবলে তাঁরা আমায় অফার করেন আমার কথা ভাবেন। যেটা আমার কাছে বিরাট বড় একটা প্রাপ্তি। আমি তো সবসময় বলি আমায় একটু কমপ্লেক্স চরিত্র দাও যাতে চরিত্রটা বিশ্লেষণ করে ফুলের মতো খুলতে পারি। থিয়েটারের অনুশীলন আমায় শিখিয়েছে কোনো চরিত্র করতেই ভয় পেয়না। সব কিছু পরখ কর।

যেমন অপর্ণা সেনের ‘সোনাটা’ য় একজন ট্রান্সজেন্ডার এর চরিত্রায়ণে কি অনবদ্য আপনি।

অনসূয়া – হ্যাঁ সেটা ছবিতে। কিন্তু ‘সোনাটা’ অনেক বছর আগে থেকেই মঞ্চসফল নাটক। আমি শাবানা আজমির চরিত্রটা করি মঞ্চে। সোহাগ সেনের পরিচালনায় নাটকটা। ছবিটায় রিনাদি যখন বলল করবি? বললাম হ্যাঁ। ‘সোনাটা’ ছবিতে আমার যেহেতু একটা দৃশ্যই ছিল তাই লিমিটেড স্কোপ। তাই নিজেকে কতটা ছড়ানো যায়। দু একবার রিহার্স করে একটা টেকেই ওরকম একটা তৃতীয় লিঙ্গের চরিত্র করি। এগুলো তো এক একটা চ্যালেঞ্জ।

ঋতুদা থেকে শিবুদা দুজনের সঙ্গেই কাজ করেছেন কেমন অভিজ্ঞতা?

অনসূয়া – হ্যাঁ। থিয়েটারে যেমন রমাপ্রসাদ বণিক। অসাধারন দেখাতো অভিনয়। তেমনি ঋতু যখন চিত্রনাট্য পড়ত তখন ওঁকে দেখে মনে হত ওঁর চেয়ে ভালো আর কেউ করতে পারবে না। শিবুকে দেখেও আমার সেটাই মনে হয়। এত সুন্দর দেখায় অভিনয়টা। আমি তো প্রথম কাজ করছি নন্দিতা শিবুর সাথে। যে পরিচালকরা অভিনয় পারে সেটা আমাদের কাছে বড় সুবিধে।ঋতুর সঙ্গে অনেক আগে ধারাবাহিক ‘বাহান্ন এপিসোড’ এ কাজ করেছি। ‘দহন’ এ ডাবিং করেছি। ‘এবং ঋতুপর্ণ’ তে গেছি। তিন চারটে ওঁর প্রজেক্টে ছিলাম। বড় রোল পেলাম ঋতুর ছবি ‘চিত্রাঙ্গদা’ য়।
ঋতু ভীষন বুঝত।

‘চিত্রাঙ্গদা’র আগে আপনি মানবী বন্দ্যোপাধ্যায় অভিনীত একটা টেলিছবি করেন ‘পাগলী তোমার সঙ্গে’। সেখানেও মানবীর মা।

অনসূয়া – হ্যাঁ ঐ চরিত্রটা খুব ইন্টারেস্টিং লেগেছিল। এরপর ‘চিত্রাঙ্গদা’ করার সময় ঋতু আমায় ফোন করে বলেছিল তাও কত বছর পর “শোন তুই আমার মায়ের রোল করবি।” আমি বললাম ” হ্যাঁ , আমি তো ইউনিভার্সাল মাদার।” ঋতু বলেছিল ” না, তুই আমার মায়ের রোল করবি।” তখন আমার মনে হয় এটা শুধু রোল নয় এটা আমার দায়িত্ব। তারপর আবার এতদিন পর শিবু আমায় ওঁর মায়ের রোলে কাস্ট করল। এখানেই ভালো লাগা ভরসা প্রাপ্তি।

ঠিক। মানালি, নাইজেলের সঙ্গে অভিনয় করে কেমন লাগল?

অনসূয়া – মানালির সঙ্গে অনেকদিন কাজ করছি অনেকদিন চিনি। ‘বৌ কথা কউ’ র দিদিশাশুড়ি আর নাতবৌমা। ‘বৌ কথা কউ’ তে সাড়ে তিন বছর কাজ করেছি মানালির সঙ্গে। কি মজার চরিত্র ছিল আমার। লাভলি! তারপর ‘সখী’ মেগাতে কাজ করেছি। খুব স্নেহ করি। আর নাইজেল একটা আবিস্কার। যেটা শিবু নন্দিতা করেছে। নাইজেল নিজের কাজ নিয়ে এত মনযোগী যে ওঁর কাজটা হচ্ছে কি হচ্ছে না বারবার জিজ্ঞেস করা পরিচালকদের, আমায়।  “দিদি তুমি বলো ঠিক হচ্ছে কিনা।” পুরো সিনটা টিম ওয়ার্ক হচ্ছে কিনা সেটাও ও দেখে।

সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়,মাধবী মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গেও আপনি কাজ করেছেন করছেন। কেমন অভিজ্ঞতা?

অনসূয়া – সৌমিত্রদার সঙ্গে অনেক গুলো ছবি করেছি। ‘মহাপৃথিবী’তে ওঁনার মেয়ের চরিত্র করেছি,’পাষন্ড পন্ডিত’, ‘কালরাত্রি’ তে ওঁনার স্ত্রীর চরিত্র করেছি। শৈবাল মিত্র র ছবি ‘দেবতার গ্রাস’ ডাবিং শেষ হয়নি এখনও সেখানেও সৌমিত্রদার স্ত্রী হয়েছি। ‘জল নূপুর’ এও সাবুদির স্বামীর চরিত্র করেন। আমার ভাসুর হন। সাবুদি মাধুদি লিলি দি এঁনারা কি সুইটহার্ট। আমাদের সৌভাগ্য ওঁনাদের থেকে এখনও শিখতে পাচ্ছি। ওঁনাদের সঙ্গে মেক আপ রুমে একটু বসলে একটু শুরু করলেই হল কথা সাবুদি বলোনা পুরনো সিনেমার গল্প বলোনা। ঘন্টার পর ঘন্টা বলে যাবেন। মাধুদি কত বই পড়েছেন। সৌমিত্রদার খুব সেন্স অফ হিউমার।

মৃণাল সেনের সঙ্গেও আপনি কাজ করেছেন। আপনার প্রথম রিলিজড ছবি মৃণাল সেনের ‘মহাপৃথিবী’।

অনসূয়া – মৃণালদা কে নিয়ে আমার মনে একটা আলাদা জায়গা। আমাদের নাটকের শো দেখতে আসতেন। ‘মহাপৃথিবী’ র সময় উনি আমায় ফোন করেছিলেন।

কিন্তু আমার প্রথম ছবি ‘বৃত্ত’। যেটা রিলিজড হয়নি। অমল পালেকারের স্ত্রীর চরিত্রে। জুটমিল ওর্য়াকারদের নিয়ে গল্প। আমাকে বৌদি মানে তৃপ্তি মিত্র ফোন করে বলেছিলেন যে “একটা ছবি করছি আমি এই ছবিটাতে অভিনয় করছি। তুই করবি? একটা চরিত্র আছে খুব বিরাট চরিত্র না কিন্তু খুব পুলকিত চরিত্র।” এই কথাটা আমার এখনও মনে আছে “খুব পুলকিত চরিত্র।” কিন্তু সেটা রিলিজড করেনি কোন কারনে। তারপরেই ‘মহাপৃথিবী’।

মৃণালদার বাড়ি গেলাম। গীতা সেন বৌদি আ ওয়ান্ডারফুল লেডি। মৃণালদা বললেন তোমার চরিত্রটায় ডায়লগ কম আছে। বলতে গেলে ডায়লগই নেই। আমি বললাম “আই লাভ সাইলেন্ট এক্টিং।” অনেককিছু করে দেখিয়েছিলাম। উনি খুব পছন্দ করেছিলেন। কাদের সাথে অভিনয় সৌমিত্রদা,ভিক্টরদা,রিনাদি,অঞ্জন,গীতা বৌদি। আর মৃণালদা এত কনসার্ন। মৃণালদা একটু ধমকে ধমকে কথা বলতেন। আমি তো তখন চাকরি করতাম। আমায় বললেন “তুমি ছুটি নিয়ে এসছো নাকি?কাল অফিস আছে?” আমি বললাম “মৃণালদা অফিস তো আছে।” মৃণালদা বললেন “আচ্ছা তুমি এসো তোমায় কাজ করিয়ে নিয়ে লাঞ্চটাইমে ছেড়ে দেব।” ঠিক আমায় ছেড়ে দিলেন বাকি হাফটা অফিস করলাম।  একবার একটা বিপদ হয়েছিল আমার, উনি আমায় সঙ্গেসঙ্গে সাহায্য করেন। যখন গীতাবৌদি অসুস্থ ছিলেন আমি গিয়ে দেখা করেছিলাম। মৃণালদার ‘অন্তরীণ’ ছবি করার সময় আমায় বললেন “ডাবিং করে দেবে?” ডিম্পল কাপাডিয়ার পুরো ডাবিংটা আমার।মৃণালদা আমার ডাবিং করার পুরো সময় বসে রইলেন।  মৃণালদা বললেন “কি দেব কত টাকা চাও?” আমি বললাম মৃণালদা কি বলছেন আপনি! একটা টাকার অঙ্ক বললেন আর বললেন “শোনো তোমার নামে কৃতজ্ঞতায় আলাদা কার্ড যাবে।” এগুলোই প্রাপ্তি কি স্নেহ করতেন।

সিরিয়াল চলচ্চিত্র নাটক সব মাধ্যমেই আপনি সুপারহিট। দর্শক আপনাকে চাইছে নিচ্ছে। হল ভিসিট করেন যখন কেমন অভিজ্ঞতা?

অনসূয়া – ঠিক ঠিক। হল ভিসিট আমি প্রথম করলাম এই ‘মুখার্জীদার বউ’ তে। আমি মন্ত্রমুগ্ধ। পাগলের মতো কেউ আমাকে জড়িয়ে ধরছে,কেউ কাঁদছে। কেউ বলছে আমার মেয়ের গল্প।কেউ বলছে আমার মায়ের গল্প।বেরোতে পারতাম না গেট থেকে। এত হাউসফুল শো প্রতিটা। এমন একটা গল্প শাশুড়ি বউমা মনোবিদের কাছে গেছে। দর্শক নিয়েছে। আমার জন্য ডিসকভারি এগুলো। উইনডোজের ছবির মেসেজ গুলো সমাজের শেষ প্রান্তে পৌঁছে যায়।

‘গোত্র’ নিয়ে দর্শকদের কি বলবেন ?

অনসূয়া – গোত্র এইসময় প্রাসঙ্গিক একটা ছবি। ‘গোত্র’ তে যা যা আছে অনেককিছুই তা চারপাশে ঘটছে। এই বয়স্ক লোকেদের একা থাকা। এই তো সম্প্রতি পরপর দুটো খুন হল কাগজে বেরলো। আমরা সবসময় ভয় পাই। বয়স্ক দম্পতিদের দেখাশোনা করার লোক চাই। তাঁরা একা থাকেন। ছেলেমেয়েরা বিদেশে বাইরে থাকেন। আবার অনেকসময় তাঁরা একা থাকতেই পছন্দ করেন। যেমন আমার মা একা থাকতেই পছন্দ করত। না কারুর বাড়ি গিয়ে থাকবনা। নিজের বাড়িতেই থাকব। কিন্তু সিকিউরিটিটা কোথায়? সেখানে এই ছবিটা ভীষন প্রাসঙ্গিক।

‘গোত্র’-তে ভরপুর মনোরঞ্জন তো আছেই কিন্তু হল থেকে দেখে বেরিয়ে যাবে হবেনা। মানুষ ভাববে এবং ভাবাবে। ছবিটার রেষ থেকে যাবে মনে। দর্শকদের বলব টিকিট কেটে ছবিটা দেখুন, বাংলা ছবিকে বাঁচিয়ে রাখুন।

MUST READ

মহালয়ার সেরা পাঁচ ‘ মহিষাসুরমর্দিনী ‘

আকাশবাণী কলকাতার 'মহিষাসুরমর্দিনী 'র পর টেলিভিশনে 'মহিষাসুরমর্দিনী' সবার কাছেই ভালোবাসার। কিন্তু এখন অনেক চ্যানেল হওয়া সত্ত্বেও টিভির মহালয়া দর্শকের বিরক্তি উদ্রেক করে। সেই মেগার...

পুজোর সেরা পুরুষ কে ? এবার পুজোয় অভিনব উৎসব !

পুরুষ। পুরুষ যেন পড়ে পাওয়া চোদ্দ আনা। নারী দিবস নিয়ে হৈচৈ। নারী দিবসের দরকার তো আছেই কিন্তু পুরুষ দিবস কবে কোনদিন আমরা কজন জানি?...

এবার মহালয়াতেই অকাল বোধন !

দেবী দুর্গার ত্রিনয়ন, যার জ্যোতিতে আলোকিত বিশ্ব। সৃষ্ট প্রাণ। আমরা দেবী দুর্গাকে চোখে দেখিনি দেখিনা। কিন্তু দুর্গা মানে এক শক্তি। নারী শক্তি। ধরিত্রীতে সকল...

নটবর ১০০তেও নটআউট !

বাবা সতু রায় ছিলেন নির্বাক যুগের বিখ্যাত অভিনেতা। কিন্তু তাতে ছেলের বিশেষ কিছু সুবিধে হয়নি। তাঁর জন্ম বরিশালে। বাবা পরে চলে আসেন কলকাতায়। শেষে...