Home সাক্ষাৎকার 'গোত্র' র 'মা' গান গেয়ে আমি আর আমার মা দুজনে কেঁদেছিলাম।" -...
শিবপ্রসাদ

দর্শক এই শিবপ্রসাদকে পেতে চাইবে বারবার !

নানান টানাপোড়েন এর মধ্যে দিয়ে গিয়ে অবশেষে রিলিজের সুযোগ আসে, মুক্তি পায় 'ইচ্ছে' (২০১১)। এক সপ্তাহের মধ্যেই দর্শক সমাগম দেখতে পারেন হল মালিকেরা। লাইমলাইটে...
অগ্নীশ্বর

সময়ের থেকে এগিয়ে থাকা অগ্নীশ্বর ! আসুন এক বার ফিরে দেখি ..

জোনাথন-ক্রিস্টোফার ভায়েরাই শুধু হলিউড কাঁপায়নি, টলিউডেও একসময় দুই ভাই ছিল। বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় এবং অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়। একজন লিখতেন আর একজন তাঁর গল্প নিয়ে সিনেমা বানাতেন।...
অরবিন্দ

রিক্সাওয়ালা বললেন, “বাবু, আমি জানি আপনি কে? আপনি অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়

পুরস্কার নয়, দর্শকের ভালোবাসা তাঁর আসল পুরস্কার... এই মনোভাবেই বিশ্বাসী ছিলেন অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়।ইন্ডাস্ট্রির ঢুলুদা। শতবর্ষে ঢুলুদা। শততম জন্মদিনে সেঞ্চুরি হাঁকালেন পরিচালক অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়।সেঞ্চুরি শুধু...

‘গোত্র’ র ‘মা’ গান গেয়ে আমি আর আমার মা দুজনে কেঁদেছিলাম।” – নাইজেল

তাঁর জীবনের গল্প ‘রত্নাকর’ থেকে ‘বাল্মীকি’-তে উত্তরণের গল্প।

নাইজেল আক্কারা ভিকির মুখোমুখি গুলগাল.কম।

সাক্ষাৎকার গ্রহণ ও লেখক –  শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়।

তাঁর ঋদ্ধ পৌরুষ,চোখের আবেদনে থমকাবে যে কোনো নারী, যার লুকস ফিল্মে সুপারহিরো থেকে সুপারস্টার হতে কোনো অংশে কম নয়।ওঁর কঠিন অতীতে,দৃঢ় পৌরুষে কোথাও গিয়ে আছে একটা সরলতা,অপাপবিদ্ধতা, শিশু মন। যে শুধু অভিনেতা নয় এই লেখা পড়লে বুঝবেন সে আজ একজন সমাজের বন্ধু,অসহায়দের সম্বল। ‘মুক্তধারা’-য় স্নাত হয়ে ‘গোত্র’-র সন্ধানে নাইজেল।

প্রশ্ন – ‘মুক্তধারা’ র সাত বছর পর ‘গোত্র’। আবার নায়ক নাইজেল। উইনডোজের ছবিতে পোষ্টার জুড়ে নাইজেল। কেমন অনুভূতি ?

নাইজেল – ‘মুক্তধারা’ র মাধ্যমে এই ইন্ডাস্ট্রিতে আসা, সেটা শিবপ্রসাদ মুখার্জ্জী এবং নন্দিতা রায়ের পরিচালনায় ওঁদের হাত ধরে। তার আগে আমার লড়াইটা ছিল সমাজে স্বীকৃতি পাওয়ার জন্যে। কারন ২০০৯ এ আমি জেল থেকে বেরিয়েছিলাম। বের হবার পর আমি কলকাতাতেই থাকতে চেয়েছিলাম। আমি বেরোবার পর চেয়েছিলাম নতুন জীবন। যা অপরাধ হোক বা যে কারনেই হোক আমি জেলে গেছিলাম, সেই শাস্তি শেষ করার পর জেল থেকে বাইরে বেরিয়েছি। এই বাইরে বেরোবার পর একজন নর্মাল মানুষের মতো বেঁচে থাকার সুযোগ দেওয়া উচিৎ। তো সেটা নিয়ে আমার লড়াইটা ছিল। জেলের আরেকনাম সংশোধনাগার। তুমি যতই শুধরে যাও, একটা কর্মস্থান যদি না পাও, নিজের পেটটা, নিজের সংসার যদি নিজে চালাতে না পারো তো সমাজে বেঁচে থাকার কোনো সুযোগ নেই। ঐ গ্রহনযোগ্যতা ঐ স্বীকৃতিটা পাওয়া আমার লক্ষ্য ছিল।

একটা সময় ২০১০ এ আমি একটা কোম্পানী ফর্ম করি। কয়েকজন লোককে নিয়ে ট্রেনিং এর কাজ শুরু করি। ম্যানপাওয়ার সাপ্লাই।কিন্তু ‘মুক্তধারা’ র পরে ঐ স্বীকৃতি পাওয়াটা অনেক বেশী সোজা হয়ে গেছে। Mass Acceptance যাকে বলে সেটা পেলাম। সমাজের কাছে পৌঁছানোটা অনেক বেশী সোজা হয়ে গেছে। তারপর অনেক ছবি করেছি, সাউথে ছবি করেছি , সৃজিত মুখার্জ্জীর রাজকাহিনী, রাজ চক্রবর্তীর ‘যোদ্ধা’, শতরূপা সান্যালের ‘অন্য অপালা’ করেছি। আরো ছবি করেছি কলকাতায়। কিন্তু ‘মুক্তধারা’ য় আমার যে ইমেজটা তৈরী হয়েছিল কোথাও গিয়ে সেটা নষ্ট হচ্ছিল। আবার যখন’গোত্র’ র জন্য নন্দিতাদি আমি ফোন করে ডাকেন বলেন ” একটা ছবি আছে, তোমায় আমরা ভেবেছি, চরিত্রটা ইউসুফ নয়। কিন্তু এও ন বছর জেলে ছিল। জেল থেকে বেরিয়ে চাকরি পাবার জন্য কাজ পাবার জন্য চেষ্টা করছে। চরিত্রটা ‘মুক্তধারা’ র ইউসুফের চেয়ে আলাদা এবং চ্যালেঞ্জিং। আরো চ্যালেঞ্জিং তোমার বিপরীতে অনসূয়াদি আছে, অনসূয়াদির সঙ্গে তোমার বেশী স্ক্রীন শেয়ারিং এই ছবিতে। অনসূয়াদি দারুন প্রতিভাময়ী একজন অভিনেত্রী তাই সেই জায়গাটা তোমায় বুঝতে হবে। এছাড়াও তোমার হাতে সময় খুব কম আছে কুড়ি দিনের মধ্যে আমরা ওয়ার্কশপ করব এবং তোমাকে অনেক রকম টেকনিকাল কাজ শিখতে হবে।” তো আমি বললাম নন্দিতাদিকে “দিদি এটা তো আমার কাছে অনেক বড় সুযোগ। তোমাদের সঙ্গে আবার কাজ লিড রোডে। এটা আমার কাছে আর্শীবাদ। “সেইমতো ‘গোবিন্দ ধাম’ এ আমাদের ওর্য়াকশপ শুরু হল দক্ষিন কলকাতার একটি বনেদী বাড়িতে। এবং তারপর ছবির শ্যুটিং।এটাই পুরো ঘটনাটা ‘মুক্তধারা’ র আগে থেকে ‘গোত্র’ সফর।

প্রশ্ন – তারেক আলি চরিত্র করতে গিয়ে তোমায় কি কি শিখতে হয়েছে ?

নাইজেল – মোটামুটি যেটা আমরা ট্রেলারে কিছুটা দেখেছি তারেক আলিকে। যেমন ঝুমার (মানালি) টিজারে শুনতে পেয়েছেন দর্শকরা “তারেক বাড়ির বাগানের মালিও , কেয়ারটেকার আরো অনেককিছু। “আবার আমার একটা জায়গা আছে আমি বলছি “নিশ্চয়ই ইলেক্ট্রিক খারাপ, পাম্প খারাপ গ্যাস খারাপ আমাকেই সারাতে হবে। ” এইকাজ গুলো তো শিখেইছি। যেগুলো ট্রেলারে দেখানো হয়েছে। আরো অনেক কাজ শিখতে হয়েছে সেগুলো যখন জন্মাষ্টমীর সময় ছবিটা রিলিজ হবে সবাই জানতে পারবে।

প্রশ্ন – ‘গোত্র’ ছবি তো খুব প্রাসঙ্গিক। যেমন এখন একটা আধুনিক সমস্যা একা থাকা। বয়স্ক লোকদের ছেলেমেয়েরা কাজের জন্য বাইরে থাকছে কলকাতার বাইরে বিদেশে বেশীরভাগ। তো এই বয়স্ক লোকদের সিকিউরিটি নিয়ে কি বলবে নাইজেল ?

নাইজেল – অনেকজনকেই কর্মসূত্রে বাইরে থাকতে হয়। কারন সুযোগ কলকাতা বাংলার বাইরে বেশী। তাই বয়স্ক বাবা মা রা এখানে থাকেন। আবার এই বয়স্ক বাবা মা র মধ্যে ক্লাসিফিকেশন আছে। কেউ ষাট বছরের বাবা মা। কেউ আবার নব্বই বছরের বাবা মা। অনেকে নিজের কাজটাও করতে পারেনা। তাঁদের দেখাশোনার জন্য ছেলেমেয়েরা কেয়ারটেকার নিযুক্ত করে যায়। কিন্তু বেশীরভাগ ক্ষেত্রে কি হয়, কারন আমি তো এরকম একটা সংস্থা চালাই , যেমন শিবুদার মা পাঁচ বছর একা ছিল আমি লোক দিই সেখানে। অনেকে যেমন চায় বয়স্ক হলেও একাই থাকব কারো বাড়ি থাকব না। নিজের জায়গায় থাকব। কিন্তু তাঁদের সিকিউরিটি দিতেই লোক দেয় আমার সংস্থা। আমি সিলেকটিভ জায়গায় লোক পাঠাই কারন ন্যুনতম ওয়েজেস আছে সরকারি নিয়মে সেটাও অনেকে দেয়না। ওঁরা যত কমে পায় লোক খোঁজে খাওয়া দেব সব দেব হাজার দেড় হাজার টাকায়। সেইজন্য অনেকে কম্প্রোমাইজ করে। কিন্তু বাবা মা র নিরাপত্তা যাদের হাতে দিয়ে যাচ্ছেন তাঁদের লোকাল থানায় বৈধতা লাগে। আমার সংস্থায় সেগুলো করা আছে। আমার সংস্থার নাম ‘কলকাতা ফেসিলিটিস ম্যানেজমেন্ট’। প্রথম যখন আমি শুরু করি তাঁদের নিয়ে শুরু করি জেল থেকে বেরিয়ে যে আসামী গুলো ভালো হতে চাইছে তাঁদের চাকরি দিই আমি।সেইভাবে ‘আই আই এম’ এও আমার সংস্থা সমাজ তত্ত্ব বিষয়ে কেস স্টাডি হিসেবে দেখানো হয়। বিশ্বাসী লোক পেতে ব্র্যান্ড নেমড সংস্থা থেকেই নেওয়া উচিৎ যে বাড়িতে সর্বক্ষন থাকবে।

আরেকটা কেস আছে বয়স্ক লোকদের যারা বৃদ্ধাশ্রমে থাকেন।নচিকেতার একটা গান আছে নাহ ‘বৃদ্ধাশ্রম’ ওটা শুনে আমি ভাবতাম যে সন্তানরা বাবা মা কে বৃদ্ধাশ্রমে দেয় তাঁরা খুব খারাপ। কিন্তু আমি পরে গিয়ে বুঝলাম যখন ছেলেমেয়ে সময়টা দিতে পারবেনা তখন বৃদ্ধাশ্রমে ওঁদের একটা বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। সেখানে অনেকে থাকেন সমবয়স্ক লোক। একা থাকার থেকে বৃদ্ধাশ্রমে থাকা একা লোকেদের জন্য অনেক বেশী আজকাল নিরাপদ।

প্রশ্ন – বাংলা ছবি অনেকগুলো করেছো তুমি, ‘গোত্র’ করলে এগুলো করতে গিয়ে বাংলা শিখতে হয়েছে?

নাইজেল – অবশ্যই। বাংলা আমি ঠিক মতো বলতে পারতাম না। প্রথম যখন ‘মুক্তধারা’ চিত্রনাট্য পেয়েছিলাম ইংলিশে লেখা ছিল রোমান হরফে বাংলাটা। সেইটা পরে বাংলা পড়ি। ‘মুক্তধারা’ য় মহম্মদ ইউসুফ খান আধা বাংলা আধা হিন্দি আধা ইংরেজি বলাই ছিল চরিত্রটা। তারেক আলির এডুকেশান কম কিন্তু বাংলা ভালো জানে। কারন ট্রেলারে দেখবে মুক্তি দেবী ওরফে অনসূয়াদি ওঁকে পড়াচ্ছে।অনসূয়াদি বলছেন আমায় “তুমি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম শুনেছো?” আমি বলছি “আপনি হাতকাটা গোপালের নাম শুনেছেন?”কিন্তু ২০১৪ তে আমি বাংলা পড়া, লেখা রীতিমতো শিখি। তখন একটা ছবির জন্য দরকার ছিল বাংলা শেখা। তারপর থেকে বাংলায় সড়গড়। ‘গোত্র ‘ তে আমি বাংলায় স্ক্রিপ্ট পেয়েছি। এখন বাংলা পড়তে পারি।

প্রশ্ন – অনসূয়াদি মানালি র সঙ্গে অভিনয় করার কিছু মুহূর্ত কেমন ছিল ?

নাইজেল – অনসূয়াদি একদম এক্সপেরিয়েন্সড অভিনেত্রী। সবথেকে বড় জিনিস ওঁনার মধ্যে কাজ করতে করতে মায়ের মতো হয়ে যান। Motherly Affection ওঁনার মধ্যে খুব। শুধু ছবির জন্য নয়।বাস্তবেই। ওঁনার কাছে এত গল্প আছে যেগুলো শুনে শেষ হয়না। অনসূয়াদির সঙ্গে কাজ করা আমার জন্য আর্শীবাদ।আর মানালি খুব স্বতঃস্ফূর্ত অভিনেত্রী। আমাদের সবার চরিত্র যেমন আলাদা আলাদা। মানালির চরিত্র চুলবুলি প্রজাতপতি টাইপের, আমারটা সিরিয়াস টাইপের। মুক্তি দেবীর চরিত্রটা হিটলার মাসিমা ধরনের। আমরা এই চরিত্র গুলো নিয়ে ওয়ার্কশপ করতে করতে আমরা তিনজনে একটা পরিবার হয়ে গেছি।

প্রশ্ন ‘মুক্তধারা’ এবং ‘গোত্র’ দুটো ছবিতেই খরাজ মুখার্জ্জীদার সঙ্গে অভিনয় অ্যাকশান সিন তোমার।

নাইজেল – খরাজদা যখন অভিনয় করে তখন বসে দেখতে হয়। চোখ সরাতে পারবেনা। আর খরাজদার সঙ্গে অভিনয় করা চ্যালেঞ্জিং একটা ব্যাপার। খরাজদা স্ক্রীনে কাউকে ছাড়েনা।একদিকে বাদশা খরাজদা অন্যদিকে অনসূয়াদি … আমায় নন্দিতাদি প্রথম দিন একটা কথা বলেছিল ” আমার ছবি দর্শক স্টারদের দেখার জন্য দেখেনা , পারফরমেন্স দেখার জন্য দেখে। “শিবুদা নন্দিতাদির একটা গুণ আছে প্রত্যেক অভিনেতার থেকে আসল পারফরমেন্সটা ওঁরা আদায় করে নেয় চরিত্রের জন্য যতক্ষন ওঁরা সেটা পায়না কিন্তু ছাড়েনা।

 

প্রশ্ন তোমার পরিবারের লোক বাড়িতে কি বলছে আবার তুমি নায়ক এর ভূমিকায়?

নাইজেল – প্রথম ‘গোত্র’র অফারটা যখন পাই বাইরে গিয়ে মা আর বউকেই ফোন করে জানাই। কিন্তু এটা তো আমার প্রফেশান তাই ফাইনাল রেজাল্ট দেখবে সবাই তারপর নম্বর দেবে।

প্রশ্ন – নাইজেল এত ভালো একজন অভিনেতা,এত দারুন লুক কিন্তু মুক্তধারার পর সে অর্থে লিড রোলে অন্য পরিচালকরা ভাবলেন না কেন? তোমার অভিনয়ের প্রশংসা করেও ডাকছেন নাহ। কি বলবে?

নাইজেল – যেটা হয়েছিল ‘মুক্তধারা’ র পরে ছ মাস আমি কোনো সিনেমা করিনি। বিভিন্ন জায়গায় ইন্টারভিউও বেরোয় আমি আর ছবি করবনা। সে সময় একটা চাপ তৈরীর হয় আমার উপর অন্যদের উপরও হয়তো। কারন হঠাৎ একটা ছেলে যার এরকম একটা অতীত আছে সে রাতারাতি স্টার হয়ে গেল , যাদের সঙ্গে কাজ করছিলাম যাদের চিনি তাঁরা অনেকেই নিতে পারছিল না। আমি ভাবলাম আর ছবিই করবনা এসবের জন্য।কিন্তু ছ মাস বাদে ভাবলাম আমি এই ছবিটা করে মানুষের কাছে যে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছি সেটা আমি দু বছরেও লোকের কাছে ঘুরে পাইনি। তাই আবার ছবিতে ফিরলাম। তখন সাউথে গেলাম ছবি করতে। সাউথে ঐ ছবিটা করার যখন কলকাতায় ফিরে আসি। যেই ছবি আসত সেটাই নিতাম। বাছাই করিনি।সময় থাকলে করতাম। কিন্তু শিবুদা নন্দিতা দিরা আমায় বলল “ছবি করছিস ভালো কথা কিন্তু বাজে ছবি গুলো করিসনা। কি বলত তোর কোয়ালিটি পড়ে যাচ্ছে। মেন এক্টর দের দলে আর পড়বিনা।” সেইথেকে গত এক বছর আমি ছবি করা কমিয়ে দিই। বাছাই করে করি। আমি সেসময় সোশ্যাল কিছু কাজ করি। একটা গ্রুপ ফর্ম করি। একটা NGO ফর্ম করি।’কোলাহল থিয়েটার’। পারফর্মিং আর্ট নিয়ে।ট্রান্সজেন্ডার দিয়ে নাটক করলাম ‘বিষাক্ত পাঁচালী’, যৌনকর্মীদের নিয়ে করলাম ‘ঝরাফুলের রূপকথা, যারা ড্রাগ নেয় তাঁদের অন্য জীবন দিতে এখন করছি ‘বেওয়ারিশ’ নাটক। এইকাজ গুলো নিয়ে ব্যস্ত। ‘গোত্র’ র পরে একটু বাছাই করে কাজ করব।

গোত্র র গান নিয়ে বল?

প্রথম মিউজিক রিলিজ করে ‘নীল দিগন্ত’।’নীল দিগন্ত’ গান নিয়ে বাঙালীরা তো বটেই কিন্তু যারা অবাঙালী আমার আত্মীয় পরিচিত তারাও বলেছে গানটা খুব মেলোডিয়াস শ্রেয়া ঘোষালের কন্ঠে।তারপর এল ‘রঙ্গবতী’। সবাই চ্যালেঞ্জ নিচ্ছে ফেসবুকে। কিন্তু আমি শ্যুট করবার সময় নাচতে পারিনি। আমার ছিলনা সিনে নাচ।সতেরো ঘন্টা টানা শ্যুট হয়েছিল মে জুন মাসের উড়িশ্যার সমুদ্রতটে গরম বালিতে। রাত অনেক হয়ে গেছিল শ্যুট শেষ হতে। চোদ্দ রকমের ডান্স ফর্ম। ওড়িশার বিখ্যাত গান ওটা। কিন্তু আমার নাচবার ইচ্ছে ছিল অথচ আমার চরিত্র নাচেনা সিনেমায়।

প্রশ্ন তার মানে মুক্তধারা র ইউসুফকে নাচাতে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তকে সাধ্য সাধনা করতে হয়েছিল। কিন্তু আসলে নাইজেল নাচতে ভালোবাসে?

নাইজেল – হ্যাঁ অবশ্যই। আমি ‘রঙ্গবতী’ মিউজিক লঞ্চের দিন বৃষ্টির মধ্যে নেচেছিলাম রাস্তায়। সুযোগটা ছাড়িনি। তারপরে শুরু হয়ে গেল ‘রঙ্গবতী’ ড্যান্স চ্যালেঞ্জ। বাইরে আমার বন্ধু বান্ধবও ভিডিও করে পাঠিয়েছে হোয়াটস এপ মেসেঞ্জারে। ওয়ান মিলিয়ন ক্রস করে গেছে।তারপর এল ‘মাসিমা হিটলার’ বাবুল সুপ্রিয় গেয়েছেন।প্রত্যেকটা গলিতে পাড়ায় এরকম হিটলার মাসিমা থাকত থাকেন।ছোটোবেলায় যখন পাড়ায় ক্রিকেট খেলতাম বল গেলে বল ফেরত পেতাম নাহ।দুপুরবেলায় ক্রিকেট খেললে মাসিমা চেঁচাতো। তারপর এল ‘মা’ । সেন্টিমেন্টাল গান। আমি যখন জেলে ছিলাম তখন সবচেয়ে কষ্ট পেয়েছিল আমার মা। সবথেকে বড় কথা,মা কে আমি গানটা পাঠিয়েছিলাম। মা ঐ গানটা দেখে কেঁদেছে। পরে মা গানের কথাটা বলতে বলতে আমার সঙ্গে কেঁদেছে।কারন ঐ যে ছেলে খাচ্ছেনা বলে মা খেতে পাচ্ছেনা ওগুলো দেখে আমার মায়ের সব অতীত মনে পড়ছে।অরিজিত সিং এর মেলোডিয়াস গলা তার সঙ্গে গানের কথা গানের শব্দ গুলো ,

(নাইজেল নিজেই গেয়ে দিলেন ‘মা’ গানটা)

“তুমি নরম ফুলের গান,
তুমি গরম ভাতের ভাপ।
তুমি অভিমানের চুপ,
তুমি কান্না জমা মোম …
আমি তোমার ছায়ায় ছায়ায় থাকি মা ।”

একটা আলাদা লেভেল। বুকে লাগার মতো গান। যাদের লাইফে মা নেই মাকে হারিয়ে ফেলেছে তাঁরাও মায়ের সঙ্গে ছবি দিয়ে ফেসবুকে পোষ্ট করছে।

প্রশ্ন – শিবুদার অভিনয় নিয়ে বলবে যে হ্যাপি সিং ও করেছে?

নাইজেল – শিবুদা কতটা ভালো অভিনেতা এটা প্রশ্নাতীত ! শোনো তবে , আমাদের শ্যুটিংর সময় শিবুদা মানালির এক্সপ্রেশন দেখালে শিবুদার সঙ্গে প্রেমে পড়ে যাবে। শিবুদার সবচেয়ে ভালো অভিনয় দেখতে হলে ‘কন্ঠ’ দেখতে হবে। আমি এই মানুষটার কাছে অভিনয় শিখেছি। অভিনয়টা শিবুদা বেশী করলে ভালো হত। কিন্তু শিবুদা নন্দিতা জুটির পরিচালনার তুলনা হয়না। প্রতি বছর একটা করে ছবি ওঁদের পরিচালনায় উপহার থাকে দর্শক অপেক্ষা করে থাকে আর এবার এক বছরে দুটো ছবি পরপর। আমি অডিয়েন্স হিসেবে প্রিমিয়ারে যাই আবার টিকিট কেটেও যাই আমার বউকে নিয়ে দেখতে।আর এবার উইনডোজের ছবিতে আমি আছি সেটা অনেক বড় ব্যাপার।

প্রশ্ন – ‘গোত্র’ নিয়ে দর্শকদের কি বলতে চাও?

নাইজেল – এটাই বলব যে একটা লোকের আরেকটা লোকের সম্পর্ক হবার জন্য বন্ধুত্ব হবার জন্য ধর্ম জাতি গোত্র এগুলো কি খুব গুরুত্বপূর্ণ ?জন্মাষ্টমীতে সিনেমা হলে গিয়ে গোত্র দেখতে হবে।আর সবশেষে একটা কথা বলব সম্প্রতি একটা খবর এসছিল জোম্যাটো’-তে একজন মুসলিম ডেলিভারি বয়কে দিয়ে খাবার পাঠানো হয়েছে বলে খাবার বাতিল করেন একজন হিন্দু। টুইটারে তিনি লেখেন, ‘হিন্দু রাইডার না দেওয়ায় খাবারের অর্ডার বাতিল করলাম।’ তো খাবারেরও তো ধর্ম জাত গোত্র হয়ে যাচ্ছে। আমাদের ‘গোত্র’ ছবিতেও এরকম একটা দৃশ্য আছে জন্মাষ্টমী তে ভোগ দেওয়া নিয়ে। আমার কাছে মানুষ গুরত্বপূর্ণ।আমি বলব ‘গোত্র’ ছবিটা শিবুদা নন্দিতাদির প্রতিবাদ করার ভাষা।

MUST READ

তোমায় আমায় মিলে !

তাঁরা দুজনে অতনু ঘোষের দুটি ছবি পৃথক ভাবে করেছেন। 'ময়ুরাক্ষী' এবং 'বিনি সুতোয়'। কাদের কথা বলছি? হ্যাঁ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় ও জয়া আহসান। কিন্তু এবার...

বাংলার বাইরে মুক্তি পেল ‘গোত্র’

উইনডোজ নিবেদিত 'গোত্র' রিলিজ করেছে জন্মাষ্টমীতে। ইতিমধ্যে বক্সঅফিস কালেকশানে সর্বোচ্চ হয়েছে ছবিটি। কলকাতা সহ শহরতলীর প্রতিটি হলের প্রতিটি শো হাউসফুল। শিবপ্রসাদ-নন্দিতা জুটির প্রতিটি ছবিতেই...

কোয়েল নিবেদিত ছবিতে ভূতপরী জয়া !

পরী পিসি থেকে ভূত পরী। হ্যাঁ সৌকর্য ঘোষালের 'রেনবো জেলি' শিশুমহল থেকে বড়দের সবার খুব কাছের ছবি। যেখানে শ্রীলেখা মিত্র পান একটি সেরা চরিত্র...

” নকল কন্ঠীর স্থায়িত্ব বেশীদিন না ” রাণু মন্ডলকে নিয়ে বললেন লতাজী

রানাঘাটের রাণু মন্ডল। হতদরিদ্র ভিখারিনী। অনাথা আত্মীয় পরিজনহীনা রাণু আজ প্রচারের শীর্ষে। লতাকন্ঠী রাণু মন্ডল রানাঘাটের স্টেশনে গান গেয়ে বেড়াত। ফেসবুকে ভাইরাল হয় তাঁর...