প্রেমপত্র লিখতে গেলেই কপোত-কপোতী দের মনে পড়ে ‘শেষের কবিতা’ র কথা …তখনও আজও।হ্যাঁ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শেষের কবিতা’। অনেকসময় সাহিত্যের ঘটনা বাস্তব জীবনের সঙ্গে মিলে যায়। যদি আজ থেকে ২৫ বছর আগে ঘটে যায় এমন রবি কাহিনী বাস্তবে? এই প্রেক্ষাপটের উপর পরিচালক অনঞ্জন মজুমদার একটি ছোট ছবি তৈরি করেছেন। ২৫ বছর বাদে ‘শেষের কবিতা’র চরিত্রগুলোর কিছু পরিবর্তন পরিবর্ধন হয়েছে। তাঁদের পরবর্তী প্রজন্ম এসেছে। কি ভাবে ফিরে আসছে পুরনো প্রেম নতুন প্রেমের হাত ধরে? বর্তমান কি ভাবে মেনে নিচ্ছে, নতুন আঙ্গিক দিচ্ছে প্রাক্তন প্রেমের?
ছবির নাম ‘অবশেষের গল্প’। ইউটিউবে মুক্তি পেয়েছে ছোটো ছবিটি। রবীন্দ্র সাহিত্যকে (শেষের কবিতা ) নতুন আঙ্গিকে বেশ নতুন রূপ দিয়েছেন অনঞ্জন। ছবির শুরুতেই জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির ফটক দেখিয়ে শুরু বেশ রাবেন্দ্রিক ভাব নতুন মোড়কে আনে। ‘শেষের কবিতা’র চরিত্ররা তো চিরবিখ্যাত।অমিত রায়, লাবন্য ,কেটি বা কেতকী ,শোভনলাল অনাঞ্জনের ‘অবশেষের গল্প’ ছবিতে অমিত রায় নেই। কেতকী ও লাবন্য বহু যুগ পর বেয়ান সম্পর্কে মুখোমুখি।কি ভাবে করবে তাঁরা এই সম্পর্কের নতুন বিশ্লেষন? শোভনলাল কি মেনে নেবে লাবন্যর অমিত কে?
ছোটো ছবি এবার দেখুন বাকিটা।অভিনয়ে তিন জনেই দারুন অভিনেতা অভিনেত্রী। বাদশা মৈত্র,অঞ্জনা বসু এবং বিদীপ্তা চক্রবর্তী। বিদীপ্তা প্রথম এপিয়্যারেন্সেই বুঝিয়ে দিলেন তাঁর জাত। অসম্ভব ভালো অভিনয় ও ক্লাসি সাজ বিদীপ্তার। এক ঝাঁক রোম্যান্টিসিজমে আজও অঞ্জনা বসু। অঞ্জনা কেও অসম্ভব সুন্দর দেখতে লেগেছে তেমনি সুন্দর বোঝাপড়ার অভিনয়।বাদশা মৈত্র ইতিহাসবিদ রূপে লুকে অভিনয়ে অসাধারন। নবাগত দের অভিনয়ে আরও তালিম দরকার।বিশেষ করে নবাগতা মেয়েটি অভিনয়ে বড়ই কাঁচা,ডায়লগ ডেলিভারি দুর্বল। নবাগত দের দিয়েই ছবি শুরু করছেন পরিচালক।অনেকটা জুড়ে তারা তাই দর্শক যাতে বোর ফিল না করে তাই নবাগতদের প্রতি আরো যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন ছিল। কিন্তু ছবিটাকে একরাশ মন কেমন ভালোবাসা মন্দবাসার গল্পে পার করে দেয় বাদশা,অঞ্জনা ও বিদীপ্তার অভিনয়। ‘কখনও কাকভোরে’ গানটি বেশ শ্রুতিমধুর।অনঞ্জন মজুমদার কে ফিচার ফিল্ম এবার যাতে বানাতে পারেন তার জন্য শুভেচ্ছা নিরন্তর।


