গল্প মন ছুঁলেও, সুরে ‘ফেরারী মন’ হলো না !

সব ফেরারী মিউজিক রিভিউ রসদ

ন্দ্রনীল মিত্রের সুরে, ডঃ আতিউর রহমানের কথায়, জয়তি চক্রবর্তীর নতুন গান সব ফেরারীর মিউজিক ভিডিও দেখে একটা কথা না বলে থাকা যায় না, বিষয়বস্তুর ব্যবহার করার ধরণ হোক বা গল্প বলার ধরণ দুটোই ভীষণ সুন্দর। কিন্তু গানের সুর যেন কোথাও একটা গিয়ে মন ছুঁয়ে যেতে পারল না। মিউজিক ভিডিও ভালোলাগার জন্য কী বেশী প্রয়োজন, গান নাকি গল্প, এই ব্যাপারে তর্ক বেশ অনেকদূর এগোতে পারে। তবে মিউজিক ভিডিওতে যদি গান মন না ছোঁয় তাতে বোধহয় একটা খুঁতখুঁত থেকেই যায়। জয়তি চক্রবর্তীর গায়কী নিয়ে নতুন করে প্রসংশা করার জায়গা থাকে না। তবে কোথাও গিয়ে যেন একলব্যের জয়তি এবং অবশ্যই রবীন্দ্রনাথের গানের যে জয়তি তার কথা বার বার করে মনে পড়ে যায়। সব ফেরারীঅসাধারণ গায়কীতে গানটি প্রেজেন্ট করেছেন তিনি, কিন্তু সুরের মাধুর্যে একটা অভাব কিছুতেই গানের ভিতরে মন টেনে নিয়ে যেতে দেয় না। চোখ আটকে থাকে গল্পের উপর। এক মধ্যবিত্ত বাবা মা আর তাদের বিদেশ পাড়ি দেওয়া বড়লোক ছেলের গল্প দেখতে বেশ ভালোলাগে। গল্পের তাগিদে ভিডিওটি শেষ পর্যন্ত দেখতেও ইচ্ছা করতে পারে, কিন্তু তাতে গানের সংযোগ কতটা, সে বিষয়ে সন্দেহ আছে। শেষ বয়সের দিকে ঢলে পড়া, বিদেশবাসী সন্তানের বাবা মার একাকীত্ব যেন সুরে ফুটে উঠল না! কোথাও একটা খামতি থেকে গেল। জয়তি বারবার মন জয় করেন তার শ্রোতার। এবারে যেন সেই এক্স ফ্যাক্টরটুকু মিসিং। সুরের মধ্যে একটা অদ্ভুত ব্যস্ততা আছে, যা বিষয়ের থেকে বেশ কিছুটা আলাদা। কথা নিয়েও আপত্তিটা ঠিক এই জায়গাতেই। কথার মধ্যে বেদনার রসদ আছে, কিন্তু বেদনা নেই। আসল কামাল করেছে ক্যামেরাই। মনে হতেই পারে এ যেন গল্পের জন্যই গানটি লেখা, কিন্তু গানের জন্য গল্প, সে আর কই হলো।