মায়ার বাঁধনে আবীর পদ্মাপ্রিয়া !

পদ্মাপ্রিয়া
“দূর হতে আমি তারে সাধিব
গোপনে বিরহ ডোরে বাঁধিব
বাঁধনবিহীন সেই যে বাঁধন
অকারণ
মায়াবন বিহারিনী।”
হ্যাঁ, মায়াবন বিহারিনী গহন স্বপন সঞ্চারিনীর ফাঁসেই এক পুরুষ। বলা ভালো দুই পুরুষ। আবার মায়া নিজেই মায়ায়, গোপন ভালোবাসার মায়ার জালে বন্দী। ‘অন্তহীন’, ‘পিঙ্ক’ ছবি খ্যাত পরিচালক অনিরুদ্ধ রায়চৌধুরী ওরফে টনির নতুন ছোটো ছবি মায়া মুক্তি পেল ইউটিউবে। মুখ্য ভূমিকায় রয়েছেন আবির চট্টোপাধ্যায় ও দক্ষিনী নায়িকা পদ্মাপ্রিয়া। দক্ষিনী নায়িকা হলেও পদ্মাপ্রিয়া বাংলায় অচেনা নয়। টনির ছবি ‘অপরাজিত তুমি’ তে প্রসেনজিতের বিপরীতে অভিনয় করেছেন পদ্মাপ্রিয়া।’মায়া’ শর্ট ফিল্মে এক মায়া তৈরী করেছেন টনি। পদ্মাপ্রিয়া মায়াসতেরো মিনিটের ছবির গল্প বলে ছবি দেখার আগ্রহ নষ্ট করবনা। ছবিটি দেখা খুবই সহজ হাতের নাগালেই ইউটিউবে ভেসে উঠবে মায়ার কারসাজি। আবীর চট্টোপাধ্যায় দুরন্ত অভিনয় করেছেন দুই ভাবে এই ছবিতে। দুটো নায়ক চরিত্র, একজন একেবারে সরল সাধাসিধে মধ্যবিত্ত তেল দিয়ে পাট করে চুল আঁচড়ায় আর অন্যজন নানা বিষয়ে পারদর্শী সেক্সি নারীমন জয় করতে পারঙ্গম। কিন্তু দুজনের মাঝে রয়েছে অপ্রতিরোধ্য আড়াল। আবিরের সরল অভিনয় এ ছবিতে বেশ ভালো লাগে নরম মোলায়েম। যাতে আমরা অনেকদিন দেখিনি ব্যোমকেশকে। আর স্টাইলিশ স্মার্ট আবীরের মাটির মানুষ আবীরকে কালো সানগ্লাসের আড়ালে দেখা ট্যাক্সির কাঁচের জানলায় এ ছবির সেরা দৃশ্য। আবির চট্টোপাধ্যায় মায়াপদ্মাপ্রিয়া ঝরঝর ঝরনার মতো এ ছবিতে। অসাধারন অভিনয় করেছেন। যৌবন সরসীর মায়া ছড়িয়েছেন। কিন্তু চরিত্রের থেকে পদ্মাপ্রিয়া বয়সে একটু বড় লেগেছেন, পৃথুলা লেগেছেন। পরিচালনা ও ছবির সাবজেক্ট নিয়ে বলতে অনিরুদ্ধ ম্যাজিক আছে এ ছবিতে। তবে কোনো নতুনত্ব নেই। বিষয় নির্বাচনে আরো নতুন চমক রাখতে পারতেন পরিচালক। এ ছবির যা নিয়ে বিষয় তা আমরা অনেক আগেই দেখেছি মৃণাল সেনের ‘অন্তরীন’ ছবিতে। কিংবা দেবশ্রী রায় ফারুখ শেখ অভিনীত ‘গুঞ্জন’ বাংলা ছবিতে। কিন্তু এগুলো তো কয়েক দশক আগের ছবি এ প্রজন্মের কাছে অজানা তাই ‘মায়া’ তাদের নতুন করে ভালো লাগা দেবে। টনির নিজের ছবি ‘অন্তহীন’ এর মধ্যেই ছিল হয়তো ‘মায়া’ র গল্প। সেই শর্মিলা ঠাকুরের প্রথম যৌবনে এক অচেনা মাদকতাময় পুরুষ কন্ঠের ফোন আসার গল্প। যা পিসি বলেছিল ভাইপোকে। কিন্তু ‘মায়া’ দের তো স্পর্শ করা যায়না। মায়ার উপমা এক এক জনের কাছে এক এক রকম। মায়ার বাঁধন দুটি হৃদয়ে চির গোপন। আবীরও যেন বললেন তাই মায়াকে
“থাক্ থাক্ নিজ-মনে দূরেতে,
আমি শুধু বাঁশরির সুরে তে
পরশ করিব ওর প্রাণমন
অকারণ।
মায়াবন বিহারিনী।”