“…সেই জন্যই তো মাঝে মধ্যে রিস্ক নিয়ে নিই!”- অপরাজিতা আঢ্য।

বাংলায় যে “অস্কার” আসতে চলেছে সেই খবর আপনাদের আগেই দিয়েছিলাম। আর সেই “অস্কার” আসছে পার্থ সারথি মান্না এর পরিচালনায়। আগামী ২৭শে জুলাই মুক্তি পেতে চলেছে ‘অস্কার’। এর আগে মুম্বইতে বহু পরিচালককে অ্যসিস্ট করলেও, নিজের পরিচালনায় এটি পার্থ এর প্রথম কাজ। আর প্রথম কাজেই রয়েছে সাহেব ভট্টাচার্জ্য, অপরাজিতা আঢ্য, খরাজ মুখোপাধ্যায়, শকুন্তলা বড়ুয়া, প্রিয়াংশু চ্যটার্জী দের মতো অভিনেতা-অভিনেত্রী দের নাম। ‘অস্কার’ নিয়ে বিশদে জানতে ফোনের ওপারে ধরা হল ছবির পরিচালক পার্থ সারথি মান্না এবং ছবির অন্যতম চরিত্র অপরাজিতা আঢ্য কে –

যেহেতু ‘অস্কার’ পার্থ’র প্রথম পরিচালনা, স্বাভাবিক ভাবেই প্রথম ছবি পরিচালনার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল সেই প্রশ্ন দিয়েই শুরু হল আড্ডা, পার্থ জানাচ্ছেন, “অ্যমেজিং এক্সপিরিয়েন্স। স্ক্রিপ্ট লেখা থেকে শুরু করে সিনেমা বানানো সবটাই অসাধারণ। অনেকেই স্ক্রিপ্টটা রিজেক্ট করেছিলেন। ফাইনালি ছবিটা বানানো হয়”।

‘অস্কার’ এর গল্পটা মাথায় কিভাবে আসে জানতে চাইলে পরিচালক জানান, “আমি যখন অ্যসিস্ট করেছি দেখেছি সিনেমার জন্য খুব কম লোকই কাজ করে, একটা সিনেমাকে কেন্দ্র করে সবাই ফায়দার কথা ভাবে। সেই সব ব্যপারটাকে নিয়ে আমি এমন একটা ছবি বানাতে চেয়েছিলাম যে দর্শক জানবে এই জিনিস গুলো হচ্ছে, কিন্তু এন্টারটেইনমেন্ট থাকবে”। তাহলে কি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির ভিতরের কোনও গল্প দর্শক জানতে পারবে? “একদমই তাই, অধিকাংশ সিনেমা বানানোর ব্যাক স্টোরি হল অস্কার”।

শ্যুটিং এর এক্সপিরিয়েন্স নিয়ে পার্থ বলছেন, “অনেক মজার মজার ঘটনা ঘটেছে। যখন ঝাড়খন্ডে শ্যুট করেছিলাম গ্রামের লোকেরা দেশী চিকেন বানিয়ে খাইয়েছেন। আর ওখানে অপরাজিতা আঢ্য, খরাজ মুখোপাধ্যায় এর এতোটাই ক্রেজ, যে ওদের দেখার জন্য লোক প্রায় রাজবাড়ির গেট ভেঙে ফেলবে”। গ্রামের লোকেদের থেকে এই রেসপন্স পেয়ে খুবই খুশি অপরাজিতা আঢ্য। কতটা এনজয় করেন তিনি এই বিষয় গুলো? জানাচ্ছেন, “এগুলো তো ঈশ্বরের আশীর্বাদ, সব সময়ই ভালো লাগে”(হেসে)।

জেনারালি নেগেটিভ চরিত্রে দেখা যায় না অপরাজিতা আঢ্য কে, এই চরিত্রের জন্য রাজি হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি জানাচ্ছেন, “আমি একদমই নেগেটিভ করতে চাইনা। কিন্তু এই নেগেটিভে অন্য একটা ফ্লেভার আছে, একটা কমেডি আছে”। দর্শক তোমাকে নেগেটিভে রোলে কতটা পছন্দ করবে বলে মনে হচ্ছে? “আমাকে দর্শক সাধারণত নেগেটিভে রোলে পছন্দ করেন না। ওনারা এক্সপেক্ট করেন সব ভালোটাই আমার মধ্যে থাকবে। কিন্তু অভিনেতা হিসাবে নেগেটিভ রোলে অভিনয় করার একটা খিদে থেকেই যায়। সেই জন্যেই মাঝে মধ্যে রিস্ক নিয়ে নিই”। এই প্রসঙ্গে পরিচালক জানাচ্ছেন, “অপরাজিতা আঢ্য কে একদম নতুন রূপে দেখবে দর্শক, হাতে বন্দুক, একটা দারুণ ব্যাপার”।

নতুন পরিচালককে দরাজ সার্টিফিকেট দিয়ে অপরাজিতা আঢ্য জানাচ্ছেন, “পরিচালক ভালো কাজ জানে, এডুকেডেট ডিরেক্টর”। অন্যদিকে পার্থ জানাচ্ছেন, “যেভাবে চেয়েছি অপাদি সেভাবেই কাজ করেছেন। সি ইজ ভেরি কোঅপারেটিভ”।

বাংলায় এই মুহুর্তে প্রচুর ছবি রিলিজ করছে, এমনও হচ্ছে ছবি এক শুক্রবার রিলিজ করে পরের সপ্তাহে বেশিরভাগ হল থেকে নেমে যাচ্ছে, সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে নতুন একজন পরিচালকের ছবি দর্শক কেন দেখতে আসবে? পরিচালক বলছেন, “ছবিটা ফুল অফ এন্টারটেইনমেন্ট, লোকে এনজয় করবে। একটা সিরিয়াস মেসেজ আছে কিন্তু সেটা গম্ভীর ভাবে প্রেসেন্ট করা হয়নি। দর্শক হল থেকে বেরোনর পর ভাববে বিষয়টা নিয়ে”। অন্যদিকে অপরাজিতা আঢ্য এরও একই মত, “এটা লাকের ব্যপার। সৃজিত মুখার্জী, অনিকেত চট্টোপাধ্যায় যখন প্রথম সিনেমা করেছিলেন কেউ চিনত না, কিন্তু তাদের প্রথম ছবিই দর্শক খুব পছন্দ করেছেন। ভালো ছবি হলে একটা মাউথ পাবলিসিটি হয়। ছবি মানুষের ভালো লেগে গেলে, মাউথ পাবলিশিটিতেই হিট করে যায়। দর্শককের ভালো লাগবে অস্কার”।