সত্যজিৎ রায়ের আরও এক অমর সৃষ্টি !

সত্যজিৎ

ই এস এস ও কোম্পানি ওয়ার্ল্ড থিয়েটারের জন্য সত্যজিৎ রায়কে একটা শর্টফিল্মের জন্য অনুরোধ করে। হাতে ছিল মাত্র তিন দিন আর তাঁকে বানাতে হবে ইংরেজি শর্টফিল্ম। তিনি সেই শর্টফিল্মে কোন ভাষাই রাখলেন না ৷ সাদাকালো এই ফিল্মটি রিলিজ ১৯৬৪ সালে৷ কি মানে ছিল সেই শর্টফিল্মটিতে?

ফিল্মে দেখানো হয় দুটো ছয় সাত বছরের বাচ্চাকে। প্রথমে এক ধনী ব্যক্তির সন্তানকে দেখা যায়। যে বাড়িতে একা। এথেকে বোঝা যায় ধনীর সন্তানরা বাবা মা কে কাছে পায় কম৷ এরপর অজস্র খেলনা দেখানো হয়। ধনীদের ভোগের বস্তু সব। এরপর বাচ্চাটা কোকাকোলা খেতে থাকে মদ খাওয়ার আদলে। আগের দিন জন্মদিনের পার্টি হয়েছে তার ছাপ ও দেখা যায়৷ ধনী শিশুরা কত তাড়াতাড়ি খারাপের দিকে ঝুঁকে পড়ে সেটাই বোঝানো হয়েছে। এমন সময় বেজে ওঠে বাঁশির সুর। জানলা দিয়ে তাকিয়ে সে একটা গরিব ছেলেকে দেখতে পায়। সে একটা বড় ট্রাম্পেট নিয়ে এসে বাজাতে থাকে। গরিব ছেলেটা অবাক হয়। সে কারোর পাকা ধানে মই দেয়নি৷ তাহলে হঠাৎ এ প্রতিযোগিতা কেন? সে একটা ঢোল নিয়ে আসে। ধনী ছেলেটা ড্রাম নিয়ে আসে। গরিব ছেলেটা হেরে যায়। সে কিছুক্ষণ পর ঘুড়ি ওড়াতে থাকে। রাগে ধনী ছেলেটা এয়ারগান দিয়ে ঘুড়িটা ছিন্নভিন্ন করে দেয়। এরপর মধ্য দিয়ে ধনীদের ধ্বংসাত্মক নীতিকে দেখানো হয়েছে। আসলে গরিবেরা সুখে থাকে। তারা নিজেদের মত করেই বাঁচতে চায়। কিন্তু ধনী মানসিকতা সেটা দেখতে পারে না। তাদের আনন্দকে দুঃখে পরিনত করাটাই যেন তাদের কাজ৷

এরপর ধনী ছেলেটা নিজের সব যান্ত্রিক খেলনা গুলো একে একে চালু করে। ধনীদের যন্ত্র-নির্ভরতাকে প্রকাশ পায়। তারা আনন্দের জন্য কতটা নির্ভর করে যন্ত্রের উপর সেটা বোঝানো হয়। এরপর সেই গরিব ছেলেটির আবার বাঁশির সুরটি ভেসে ওঠে। ধনী ছেলেটার মন খারাপ হয়ে যায়। গরিব তার নিজের জীবন নিয়েই মত্ত থাকে।