লড়াইয়ের মোড়কে বাজুক প্রেমের দোতারা !

দোতারা ট্রেলার রিভিউ
ত্তরবঙ্গের কোচবিহার। রাজবংশী সম্প্রদায়ের প্রধান বাসভূমি। ইতিহাসের পাতায় কোচবিহার পশ্চিমবঙ্গে ঠাঁই পায় উনিশশো উনপঞ্চাশ সালে, যদিও তার জেলা হয়ে উঠতে লেগে যায় আরো একটা বছর। কিন্তু তাতেও বদলায় না কিছুই। বেশ কয়েকটা যুগ পেরিয়েও আজো রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষ, তাদের সংস্কৃতি সব কিছু ভীষণ রকম ব্রাত্য পশ্চিমবঙ্গের মূল স্রোতের মানুষের কাছে। তাদের নিজেদের প্রতিষ্ঠা করার লড়াইটা আজো সমান রকম প্রাসঙ্গিক, আর সেই লড়াই আর তাকে ঘিরে তৈরী হওয়া প্রেম, বন্ধুত্ব, কিছু সম্পর্ক, এই সব কেন্দ্র করেই অমিতাভ দাশগুপ্তের নতুন ছবি দোতারাদোতারাঅভিনয়ে সুব্রত দত্ত, রাজেশ শর্মা, স্নিগ্ধা পান্ডে, সোনালী চৌধুরী, দীপঙ্কর দে, বিশ্বজিত চক্রবর্তী সহ আরো অনেকে। তাপসি দাশগুপ্ত কমিউনিকেশনের এই ছবির কনটেন্ট যেমন ইন্টারেস্টিং, তেমনি ট্রেলর রিলিজের টেকনিকটাও দারুন। মেকারস সোশাল মিডিয়াকেই বেছে নিয়েছে ট্রেলর লঞ্চের বেস্ট অপশান হিসাবে। রিলিজ ডেট নতুন বছরের এগারোই জানুয়ারি। ছবির ট্রেলার আর স্টোরিলাইন যদি একটু ভেঙে বিচার করা যায়, তাহলে এক কথায় বলা যায়, কেচপ মার্কা রক্তের প্রেজেন্স, খেলনার মতোন দেখতে পিস্তলের ব্যবহার, । ছবির ট্রেলরে রাজেশ শর্মা, দীপঙ্কর দে, বিশ্বজিত চক্রবর্তীর মতোন বর্ষীয়ান অভিনেতাদের ট্রেলরে বেশ অনেকটা জুড়ে উপস্থিতি একটা প্রাপ্তি হতেই পারে। তবে প্রশ্ন থেকে যায় লিড কাস্ট হিসাবে দেবদত্ত আর স্নাতার চরিত্রে সুব্রত আর স্নিগ্ধার অভিনয় নিয়ে। উত্তরবঙ্গের উজ্জ্বল প্রকৃতির প্রেক্ষাপটে গুলিগালাজের মূহুর্মূহূ শব্দ, রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষের সমাজের মূল স্রোতে ফেরার জন্য অসামাজিক কাজকর্ম আর জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে জড়িয়ে পড়া, আর তাদেরই একজন হয়েও দেবদত্তের একটু অন্যরকম করে সংগ্রাম করার স্বপ্ন দেখা, সব মিলিয়ে ট্রেলর বেশ ইন্টারেস্টিং করে দেয়। দোতারা ট্রেলার রিভিউসিনেমাতেও যদি এই এসেন্স থাকে তবে যে ছবি দর্শকের বেশ প্রিয় হবে, তা বলাই যায়। টালিগঞ্জের অন্য এক বেশ চেনা মুখ, ছোটপর্দার নাম করা নায়িকা সোনালী চৌধুরী অনেক দিন পর আবার বড় পর্দায়, অমিতাভর নতুন ছবি দোতারাকে সঙ্গে করে। ট্রেলার দেখে যতটুকু বোঝা যায়, জঙ্গি দলের একজন জরুরি অংশ হিসেবেই ছবিতে রয়েছেন তিনি। দোতারা ট্রেলার রিভিউনায়কের সঙ্গে যে তার একটা বেশ অতৃপ্ত প্রেমের অ্যাঙ্গেলও রয়েছে, ট্রেলরে তাও স্পষ্ট, একদিক থেকে সোনালীর ফ্যানদের জন্য বড় রকমের সুখবর তার এই কামব্যাক! ক্যামেরার কাজ খারাপ নয়, তবে আরো ভালো যে হতে পারত, তা স্বীকার করতেই হয়। সাবজেক্ট বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কামাল করেছেন ডিরেক্টর অমিতাভ দাশগুপ্ত। ইতিহাস আর বর্তমানের একটা বেশ মিক্সড রিপ্রেজেন্টেশন এই ছবি এখন দর্শকের কাছে কতটা গ্রহণযোগ্য হয় সেটাই দেখার। বছর ফুরোলেই দোর গোড়ায় রিলিজ ডেট, দর্শকই ঠিক করে দেবে এই দোতারায় সাফল্যের সুর বাজে কীনা!