Home ফিরে দেখা মেয়ে আর বৌমার মধ্যে কোনদিন তফাৎ করেননি অমলা শংকর
বন্ধুত্বের

বন্ধুত্বের সিনেমা পর্ব ২ !

এরপর আসা যাক হিন্দিতে। প্রথমেই যে সিনেমাটির কথা চলে আসছে সেটা হল শোলে। সত্তরের দশকের শেষ দিকে শোলে সিনেমার জনপ্রিয়তা এখনো ধরে রেখেছে। গল্প...
সুধা

মনে আছে “বা” কে?

সুধা শিবপুরি (14 July 1937 – 20 May 2015) । স্নেহময়ী মাতৃমূর্তি। দিদা ঠাকুমা প্রপিতামহী প্রমাতামহী সবার কাছেই যিনি ছিলেন আপন। বাড়ির বট গাছ।...
হারিয়ে

হারিয়ে যাওয়া মুভি : পর্ব ৩

কম বাজেট, কম প্রচার, বড় স্টার না থাকার জন্য কিংবা যুগের থেকে এগিয়ে থাকার জন্য হারিয়ে যায় কত ভাল ভাল সিনেমা। সেইরকম মানুষের অগোচরে...

মেয়ে আর বৌমার মধ্যে কোনদিন তফাৎ করেননি অমলা শংকর

‘কল্পনা’ … ১৯৪৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি। উদয় শংকরই ছবিটির পরিচালক৷ একজন নৃত্যশিল্পীর ডান্স অ্যাকাডেমি তৈরি করার কাহিনীকে কেন্দ্র করেই এই ছবির চিত্রনাট্য৷ উদয়-অমলা জুটির এই ছায়াছবি বিশ্ববন্দিত। রবীন্দ্রনাথ,বিবেকানন্দ র মতো উদয় শংকরও সেই বিশিষ্ট মানুষদের মধ্যে একজন যিনি বাঙালীকে বাংলাকে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিয়েছেন। আর তাঁর যোগ্য সহধর্মিনী অমলা শংকর। যিনি আজ শতবর্ষে। অমলা শংকর সেই কন্যা যিনি শাড়ি পড়ে বিদেশীদের সঙ্গে নৃত্য পারদর্শীতায় প্রথমা।

অমলার বাবা অক্ষয় কুমার নন্দী কলকাতার একজন নামী গয়না ব্যবসায়ী ছিলেন৷আদি বাস যশোর। ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে অমলা শংকর এবং তাঁর বাবা প্যারিসে গিয়েছিলেন৷ সেইসময় প্যারিসে নিজের ট্রুপ নিয়ে উদয় শঙ্করও উপস্থিত ছিলেন৷ ১৯৩১ সালে প্যারিসে উদয় শঙ্করের সঙ্গে প্রথম দেখা অমলা শঙ্করের৷ সেই সময় অমলার বয়স ছিল মাত্র ১২ বছর৷ সেখান থেকেই বাঁক বদল ঘটল অমলা শংকরের জীবনে। বাবা অক্ষয় কুমার নন্দী চেয়েছিলেন মেয়ে প্রকৃতির মাঝে যশোরের বাটাজোর গ্রামেই জীবনের আনন্দ খুঁজে পাক। কিন্তু মেয়ে অম প্যারিস ইন্টারন্যাশনাল কলোনিয়াল এক্সিবিশনে পেয়ে গেল তাঁর জীবনের ব্রত জীবনসঙ্গীর খোঁজ। অমলার ১৯১৯ সালের ২৭ জুন জন্ম। অমলা শংকর আজ শতবর্ষ জন্মদিনে।অম নামেই যে মেয়ে ছোটো থেকে পরিচিত। একশো বছর আগে এক মুক্তমনা ভাবাদর্শে অম বেড়ে ওঠে।যে ভাবাদর্শ অমলা শংকর দিয়েছেন তাঁর পুত্র কন্যা পুত্রবধূ ও পরবর্তী প্রজন্মকে। ইউরোপ থেকে ফিরে সেই কিশোরী অম লিখে ফেলল একটা বই ‘সাতসাগরের পারে’। ইউরোপ ভ্রমণ বৃত্তান্ত।যে বই পড়ে স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রশংসা করেন অমর লেখা।ভাবুন ঐ গ্রামের মেয়ে কোন কোন বড় মাপের কিংবদন্তিদের ভালোবাসা পেয়েছেন জীবনের শুরুতেই। পিতা অক্ষয় কুমার নন্দী চেয়েছিলেন কন্যা অম লেখিকা হোক। নাচ তখন কিছুটা পাশে রেখে ম্যাট্রিক পাশ ও আশুতোষ কলেজে ভর্তি হলেন।এরপর যতদূর সুভাষচন্দ্র বসুই অম’র পিতাকে বলেন অমকে আলমোড়ায় উদয়শংকর ড্যান্স ট্রেনিং সেন্টারে পাঠাতে। সেইশুরু নৃত্যসাধনার।

এরপর উদয় শংকরের সঙ্গে অম বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বলা ভালো মুক্ত হন।অম র জীবনে নতুন আলো নিয়ে এল এই মানুষটি উদয় শংকর। তাঁদের জুটির নাচ বিশ্ববন্দিত হতে লাগল। রবি শংকর যার দেওর ভাই। প্রথম সন্তান আনন্দ তারপর মমতা। শুধু নাচ নয় অমলা রান্না,ছবি আঁকা,আলপনা দেওয়া,অন্দরসজ্জা,পোশাক নির্বাচন,লেখা সবেতেই অর্নবচনীয়া। চুন, খয়ের দিয়ে কোনো তুলি ব্যবহার না করে আঙুলের নখ দিয়ে অসাধারণ ছবি আঁকতে পারেন অমলা। যে ছবির প্রদর্শনী কিছু বছর আগেই সাড়ম্বরে হয়েছিল। এমনকি সেবা শুশ্রুষাতেও অমলা যেন একজন ডাক্তার নার্সকে হার মানাতেন। সেটা পরিবারের লোক ছাড়িয়ে যে কাউর প্রতি। উদয় শংকর চলে গেলেন। এরপর মা হিসেবে আরও বড় আঘাত প্রথম সন্তান আনন্দ শংকরের অকাল প্রয়াণ। তাঁদের নৃত্যশৈলী সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে চলল কন্যা মমতা শংকর জামাই চন্দ্রোদয় ঘোষ ও পুত্রবধূ তনুশ্রী শংকর। এখন নাতি নাতনী নাতবৌমারাও রাতুল,ঋজু,শ্রীনন্দারাও এগিয়ে নিয়ে চলেছেন এই পরম্পরা। সঙ্গে অবশ্যই অজস্র অমলা আনন্দ মমতা তনুশ্রীর ছাত্রছাত্রীরা। এই বৃহত্তর পরিবার যা তৈরী করেছেন শংকর পরিবার তা বলাই বাহুল্য।

তনুশ্রীও খুব ছোটো বয়সেই আসেন পুত্রবধূ রূপে শংকর পরিবারে।তনুশ্রীর নাচের শুরু হাতেখড়ি শাশুড়িমার কাছেই। সেদিন যেন একটা বৃত্ত সম্পূর্ন হল। অম যখন প্যারিসে যায় উদয় শংকরের প্রদর্শনী দেখতে তখন উদয় শঙ্করের মা হেমাঙ্গিনী দেবী অমকে শাড়ি উপহার দেন এবং বলেন তাঁদের নাচের দলে যোগ দিয়ে নাচতে। ঠিক একভাবে অমলা শংকর পুত্রবধূ তনুশ্রীকেও নিজহাতে গড়ে তোলেন। মমতা তনুশ্রী দুজনেই বিশ্ববন্দিতা।কি অভিনেত্রী কি নৃত্যশিল্পী ব্যালেকুইনস।মমতার সংসার চন্দ্রোদয় ঘোষের সঙ্গে সুখী পরিবার। আনন্দ র মৃত্যু ছিল এক আকস্মিক শোক।পুত্রশোকে বিহ্বল হয়ে পুত্রবধূ নাতনীকে অবহেলা করেননি। সেইসময় বটগাছের মতো পুত্রবধূকে বুকে টেনে নিয়েছেন জননী হয়ে শাশুড়ি হয়ে নয়। অমলা শংকর তিনি যিনি কোনদিন কন্যা ও পুত্রবধূর মধ্যে তফাৎ করেননি।মমতা তনুশ্রী ননদ ভাজ একসঙ্গে দুটো বাংলা ছবি করেছেন ‘হেমন্তের পাখি’ ও ‘বালিগঞ্জ কোর্ট’। ছবিতে ওঁরা বান্ধবীর চরিত্রে।বাস্তবেও তো দুই বান্ধবী ওঁরা। অনেক জীবন যুদ্ধ অনেক সংগ্রাম অনেক সম্মান অনেক কিংবদন্তির সান্নিধ্য সব পেরিয়ে আজ অম নিজেকে নিয়োজিত করেছেন দীক্ষাগুরু সাঁইজির চরণে। শতবর্ষী কন্যা আপনাকে শতকোটি প্রণাম শ্রদ্ধা শতগোলাপের ভালোবাসা।

লেখক শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়

 

MUST READ

মহালয়ার সেরা পাঁচ ‘ মহিষাসুরমর্দিনী ‘

আকাশবাণী কলকাতার 'মহিষাসুরমর্দিনী 'র পর টেলিভিশনে 'মহিষাসুরমর্দিনী' সবার কাছেই ভালোবাসার। কিন্তু এখন অনেক চ্যানেল হওয়া সত্ত্বেও টিভির মহালয়া দর্শকের বিরক্তি উদ্রেক করে। সেই মেগার...

পুজোর সেরা পুরুষ কে ? এবার পুজোয় অভিনব উৎসব !

পুরুষ। পুরুষ যেন পড়ে পাওয়া চোদ্দ আনা। নারী দিবস নিয়ে হৈচৈ। নারী দিবসের দরকার তো আছেই কিন্তু পুরুষ দিবস কবে কোনদিন আমরা কজন জানি?...

এবার মহালয়াতেই অকাল বোধন !

দেবী দুর্গার ত্রিনয়ন, যার জ্যোতিতে আলোকিত বিশ্ব। সৃষ্ট প্রাণ। আমরা দেবী দুর্গাকে চোখে দেখিনি দেখিনা। কিন্তু দুর্গা মানে এক শক্তি। নারী শক্তি। ধরিত্রীতে সকল...

নটবর ১০০তেও নটআউট !

বাবা সতু রায় ছিলেন নির্বাক যুগের বিখ্যাত অভিনেতা। কিন্তু তাতে ছেলের বিশেষ কিছু সুবিধে হয়নি। তাঁর জন্ম বরিশালে। বাবা পরে চলে আসেন কলকাতায়। শেষে...