অবশেষে ‘দ্য জুকবক্স’কে নিয়ে লাইভ আসছেন শত্রুজিৎ..

ও ললনা, ঢিচকিঁয়াও আরো অনেক জনপ্রিয় বাংলা সিনেমার গানের গলা গায়ক শত্রুজিৎ দাসগুপ্ত এবার আড়াল ছেড়ে আসতে চলেছেন লাইভ। শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্মস থেকে শুরু করে অন্যান্য বড় বড় হাউসের প্লেব্যাক তালিকায় ওপরের দিকে নাম তাঁর। হঠাৎই তাঁর ঢুকে যাওয়া কর্পোরেট জগতে। তাই শ্রোতাদের সামনে আসার সুযোগ হয়ে উঠছিল না। তবে সব বাঁধা কাটিয়ে শেষমেশ ২রা আগস্ট লাইভ আসছেন শত্রুজিৎ নিজের ব্যান্ড ‘দ্য জুকবক্স’ নিয়ে। আর সেই নিয়েই গুলগালের সঙ্গে খোলামেলা আড্ডায় গায়ক।

‘দ্য জুকবক্স’ আসলে কারা?

শত্রুজিৎ: আমার দুই পুরোনো বন্ধু রোহিত আর প্যাট্রিক, ওরা প্রথম থেকেই আমার সঙ্গে। আমি যখন সম্পূর্ণভাবে প্লেব্যাকে তখন ওরাই প্রথম আমায় প্রস্তাবটা দেয়। তখন আমি প্লেব্যাক, রেকর্ডিং নিয়ে ভীষণ ব্যস্ত। ভাবিনি যে ব্যান্ডটা নিয়ে এগোবো। কিন্তু তারপর বুঝতে পারি মানুষের সামনে আসাটা খুব প্রয়োজন। এমনও কানে আসে যে আমার গান গেয়ে অন্যেরা প্রশংসা কোড়াচ্ছে। তখনই সিদ্ধান্ত নিই ব্যান্ডটা গড়ার। আমায় নিয়ে ‘জুকবক্স’-এর মোট পাঁচজন সদস্য। গিটারে রোহিত, বেসে প্যাট্রিক, ড্রামে কাইজার আর কিবোর্ডে দেবমাল্য।

‘দ্য জুকবক্স’ সম্পর্কে কিছু বলো।

শত্রুজিৎ: প্লেব্যাক গায়ক হিসেবে আমার নাম থাকলেও আমাকে লাইভ খুব একটা দেখা যায় না। আমি ইচ্ছাকৃতই এতদিন লাইভ আসিনি কারণ আমি বাজারে আমার জায়গাটা দেখতে চেয়েছিলাম। আর এটাও জানতে চাইছিলাম যে শ্রোতারা আমায় কতটা চাইছেন সরাসরি। এছাড়াও আমার প্রচুর বন্ধুরা আমায় বলে লাইভ গান গাওয়ার জন্য। আগে আমি অনেক লাইভ শো করতাম। কিন্তু হঠাৎই নানান কারণে কাজের চাপে সেটা বন্ধ হয়ে যায়। আবার আমি লাইভে ফিরছি আমার নিজের ব্যান্ড, ‘দ্য জুকবক্স’-কে নিয়ে।

কাল, ২রা আগস্টে হার্ডরক ক্যাফেতে ‘দ্য জুকবক্স’-এর লঞ্চিং ইভেন্টটা হতে চলেছে। খুব তাড়াতাড়ি আমরা একটা মিউজিক ভিডিও আনতে চলেছি। অখিলবন্ধু ঘোষের একটা জনপ্রিয় আধুনিক গান নিয়ে আসছি। গানটি আমার খুবই পছন্দের আর ভীষণই ভালো একটি কম্পোজিশন। কিছু রবীন্দ্রসঙ্গীত এবং কিছু অচিরাচরিত বাংলা গান নিয়ে আমি ফিরছি। আমরা বাংলা, ইংরাজি এবং হিন্দি এই তিনটি ভাষাতেই কাজ করতে চলেছি। তাতে আমাদের শ্রোতা পরিসীমাটা অনেক বাড়বে। আর আজকালকার বাজারে তিনটে ভাষাতেই কাজ করার একটা বড় সুযোগ রয়েছে। আর আমার মনে হয় এই বিষয়টা এই প্রজেক্টটার একটা ইউএসপি। এক্ষেত্রে আমি ওই বাংলা ব্যান্ড বা ইংরাজি ব্যান্ড ট্যাবুটা রাখতে চাইছি না। আমি শ্রোতাদের এই টিপিক্যাল ক্লিশে ধারণা থেকে বার করে এনে দেখাতে চাই যে এই ব্যান্ডটি তিনটি ভাষাতেই সমান ভাবে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। এতে আমরা সব ধরনের শোই করতে পারব। যেমন হার্ডরক ক্যাফেতে ইংলিশ নাইট হবে। যদিও এর আগে আমরা বেশ কয়েকটি শো করেছি কিন্তু এটা একটা বড় শো।

বাংলা সিনেমার গানের প্লেব্যাকের পরিচিত নাম তুমি। প্লেব্যাকের হালহলিকত এখন ঠিক কি? আর ব্যান্ডের হাত ধরে কি প্লেব্যাকে বিরতি?

শত্রুজিৎ: ইন্ডাস্ট্রিতে প্লেব্যাকের ক্ষেত্রে কিছু অসুবিধা আছে। যেমন বড় বড় হাউসগুলো সবসময় মুম্বইয়ের শিল্পীদের নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী। এরজন্য কলকাতার অনেক শিল্পীরা সুযোগ পাচ্ছেনা। আমাকেই অনেক মুম্বই শিল্পীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে এগোতে হয়েছে। ওরা বাংলায় ওতটা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ না করলেও টাকা দিয়ে ওদের কাজ করানো হচ্ছে। আঞ্চলিক শিল্পীদের নিয়ে কাজ করার মতো পরিকাঠামো, মানসিকতা কোনোটাই এখানে নেই, যেটা ওপার বাংলায় বিশেষভাবে দেখা যায়। ওখানে শিল্পীদের প্রয়োজনীয় গ্রুমিং হচ্ছে। যতই ভাল শিল্পী হোক না কেন একজন অবাঙালিকে দিয়ে কাজ করানোয় গানের মান তো একটু কমেই। এ বিষয়ে একটু ভাবা দরকার।আর একটা সমস্যা আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে যে কোনো একটা ধারার ট্যাগ পেয়ে যায় শিল্পীরা। কারো যদি দু-তিনটে এক ধরনের গান হিট হয়ে যায় তখন তার কাছে কেবল সেধরনের গানেরই অফার আসে। মানে আমার ব্র্যান্ড হলো পেপি নাম্বার। আমি রোমান্টিকে যদি সমান দক্ষও হই তবু আমায় সেক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা করতে হবে অরিজিৎ সিং কিংবা আর্মান মালিকের সঙ্গে। এটা একটা অসম কম্পিটিশান। অথচ মুম্বইতে বেশির ভাগই কিন্তু বাঙালিরাই কাজ করছে। তবে আমি প্লেব্যাক থেকে বিরতি নিচ্ছি না।

‘জুকবক্স’-এর জন্য কি কোনো লক্ষ্য শ্রোতা রয়েছে?

শত্রুজিৎ: আমি শ্রোতাদের ক্ষেত্রে কোনো লিমিট রাখতে চাইছি না। আমি সবার কাছে পৌঁছোতে চাইছি। এভরিবাডি ইজ মাই অডিয়েন্স। আর সেজন্যই বাংলার সঙ্গে সঙ্গে ইংরাজিটাও রাখছি। আসলে আগে আমি কলেজ ক্রাউডটার কাছে পৌঁছতে চাইছি। শুনেছি ওখানে আমার বেশ চাহিদা রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই সেক্ষেত্রে ইংরাজিটা প্রয়োজন এখনকার দিনে। তাছাড়াও শুরুটাই হচ্ছে হার্ডরক ক্যাফে দিয়ে। আর আমি বাংলাটাও এমন ভাবে আনতে চাইছি যেটা ঠিক সমসাময়িক ব্যান্ড সাউন্ডের মতো নয়। পুরোনো স্ট্যান্ডার্ড আধুনিক বাংলা গানগুলো নতুন করে আনতে চাইছি। বাঙালির হৃদয়ছোঁয়া এমন গান, যেমন- মান্না দে, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, অখিলবন্ধু ঘোষ, হিমাংশু দত্ত বা মানবেন্দ্রর গানগুলো, যেগুলো প্রায় হারাতে বসেছে আজ। আমাদের গানের ধরনই বদলে গেছে এখন। কিন্তু এগুলি একসময়ে অসম্ভব জনপ্রিয় ছিল। এমনকি এখনো একজন বাঙালি শ্রোতার কাছে এই গানগুলি করা হলে আমার মনে হয় গ্রহণযোগ্যতা অনেক বাড়ে। সাম্প্রতিক কোনো ব্যান্ডকে ছোট করছি না কিন্তু আমরা বাংলা গানের সেই স্বর্ণযুগটায় ফিরে যেতে চাইছি যখন বাংলা গানের প্রকৃতই জনপ্রিয়তা ছিল, শ্রোতারা অপেক্ষায় বসে থাকতেন পুজোর গানের নতুন ক্যাসেটের জন্য।

‘দ্য জুকবক্স’-এর প্রোমোশনের ক্ষেত্রেও নতুনত্ব থাকছে কিছু?

শত্রুজিৎ: এখন তো সবটাই এভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানীগুলোর হাতে। এখনকার প্রতিযোগিতার বাজারে প্রোমোশান অবশ্যই ভীষণভাবে প্রয়োজনীয়। সেক্ষেত্রে ওরা যেভাবে প্রজেক্টটাকে শ্রোতাদের কাছে পৌঁছতে চাইবে সেভাবে আমাদের এগোতে হবে। আপাতত সামনেই সিজিন, তাই লাইভ শো গুলিতে বেশি ফোকাস করছি। আর যেহেতু এটা একটা নতুন কনসেপ্ট তাই ‘দ্য জুকবক্স’-এর ব্র্যান্ডিংটাও একটু অন্যরকম ভাবেই হবে। কিছু প্রোমোশানাল ইভেন্ট হয়তো করা হবে। কিন্তু সেবিষয়ে এখনো সেভাবে কিছু ঠিক হয়নি।

প্রজেক্ট কি আছে সামনে?

শত্রুজিৎ: আশা করছি এবছর তিনটে কাজ রিলিজ করবে। ‘নেটওয়ার্ক’ বলে একটি ছবি আসছে অপুদার(শাশ্বত চ্যাটার্জি)। পরিচালনা করেছে সপ্তাশ্ব বসু। ছেলেটি নতুন কিন্তু খুব ভালো কাজ। মনোজ মিচিগানের ‘তৃতীয় অধ্যায়’-তারপরে। আবির আর পাওলি রয়েছে অভিনয়ে। আরেকটা প্রজেক্ট বাংলাদেশ থেকে। রাজা চন্দের ‘বেপরোয়া’।