লাকি আলী – হারিয়ে যাওয়া এক গায়কের গল্প !

আলী

ভিনেতা কমেডিয়ান মেহমুদের দ্বিতীয় পুত্র হল মাকসুদ আলী ৷ ছোট থেকেই জানতেন তার মেজ ছেলে খুব ট্যালেন্টেড। চেষ্টা করেছিলেন অভিনয় জগতে আনতে৷ কিন্তু ছেলে পড়ে রইল আর ডি বর্মন, কিশোরকুমারকে নিয়ে। গান চর্চা শুরু করে দিল বেহিসাবি নেশাখোর ছেলেটা। বাবা অনেক চিন্তায় পড়ে গেলেন ছেলেকে নিয়ে। কিন্তু ছেলে তখন অন্যজগতে রয়েছে। অনেক জায়গায় গানগুলো নিয়ে গেলে সেসব অদ্ভুত সুর আর কথাগুলো শুনে সবাই তাড়িয়ে দিত৷ অনেক কষ্টে তিনবন্ধুকে নিয়ে ১৯৯৬সালে বার করলেন ‘সুনোহ‘ অ্যালবামটি৷ এম টি ভিতে টানা ষাট সপ্তাহ এশিয়ার সেরা গান ছিল ‘ও সনম‘।

লাকি আলিএলেন দেখলেন জয় করলেন এমন নয়। অনেক পরিশ্রম করে তিনি ওই জায়গায় গিয়েছিলেন। এরপর ‘সফর‘ অ্যালবামটা জীবনের সাফল্য এনে দেয়। ঢুলু ঢুলু চোখ খোচা খোচা দাঁড়িতে অদ্ভুত সুরে গাওয়া মানুষটার প্রেমে পড়ে যায় সবাই। এরপর ‘গোরি তেরি আঁখে‘, ‘কভি অ্যায়সা লাগতা হ্যায়‘ এর মত হিট গান দেন। জনপ্রিয়তা এতটাই বেড়ে যায় যে বলিউডে পা দেন৷ ঋত্বিকের ট্রেডমার্ক ‘এক পল কি জিনা‘ তারই গাওয়া। এছাড়া ‘কাঁটে‘ ও ‘সুরে‘র মত সিনেমায় তার অভিনয় দক্ষতা দেখিয়েছেন। কিন্তু হঠাৎ বলিউড ছেড়ে দেন। বলিউডে পা দেওয়াটা নিজের জীবনের সব থেকে বড় ভুল বলে মনে করেন তিনি। পয়সার জন্য কোনদিন গান করতে চাননি তিনি। তিনি বেহিসাবি, আড়াই বছর বয়স থেকে বাড়ি ছাড়া মানুষ। তার গানের মধ্যে দিয়ে সেই মানুষকে সেই ঈশ্বরের সন্ধান দিতে চেয়েছিলেন যে জগত সংসার থেকে মুক্ত। তার গান সুদূরপ্রয়াসী চোখের দৃষ্টি দেয়।

যাইহোক, শেষ তাকে ‘তামাশা‘ সিনেমায় সফরনামা গানটি গাইতে দেখা গিয়েছিল। শেষ অ্যালবাম ছিল ২০১১তে। এখনো গান করেন স্টেজে বাউন্ডুলে লোকটা। মাঝে মাঝে আলু চাষ করেন। বিতর্কিত টুইট করেন৷ কিন্তু তার ভক্তরা তাকে ভুলবে না কোনদিন। এখনো হেডফোনে তাঁর মন উদাস করা গান গুলো গেয়ে যায়..

“হাসতে হাসাতে ইউঁ সবকো মানাতে হাম জায়েঙ্গে… বারসো কি দুরি কো মিলকে হাম সাথ মিটায়েঙ্গে… পেয়ার রহে উনকে লিয়ে, যো ঢুঁনঢে ও উনকো মিলে…।”

Written By – শোভন নস্কর