Home চেনার মাঝে অচেনা ববিতা,চম্পা,অঞ্জুদের থেকে জয়া বোধহয় কলকাতার মানুষের কাছে অনেক বেশী আপন !
গীতা দত্ত।

‘বরণ’ ভাগ্য ছিল না জনমদুখিনীর !

গীতা দত্ত র গায়িকা সত্তা বহুচর্চিত বহুপঠিত বহুশ্রুত কিন্তু গীতা দত্তের নায়িকা সত্তা আমরা কজন জানি! তখন গীতার অর্থনৈতিক অনটন চলছিল। গুরু দত্তের সঙ্গে...
Mohamed Aziz

“শেষ গান নয় আজ গেয়ে যাব জীবনের এই জয়গান” ..

মহঃ আজিজ। যেন বাংলার মহঃ রফি। আবার বোম্বেরও রফি কন্ঠী শিষ্য যেন তিনি ছিলেন। আশির দশকে বাংলা হিন্দি ছবির সুপারহিট গানের গায়ক যিনি। রফির...
কাজল

বাংলা ছবির কাজললতা !

শরতের শিউলি হয়ে আজকের দিনেই 22 শে অক্টোবর ঝরে গেছিলেন মাত্র ষাটেই খ্যাতনামা অভিনেত্রী কাজল গুপ্ত।তখন 1996 সাল ঋত্বিক ঘটকের 'অযান্ত্রিক' দিয়ে যিনি দর্শকের...

ববিতা,চম্পা,অঞ্জুদের থেকে জয়া বোধহয় কলকাতার মানুষের কাছে অনেক বেশী আপন !

ছোট্ট জয়া গোলগাল নাদুষনুদুষ দেখতে ছিল। তখনই মডেলিং করার অফার আসে। ইংল্যান্ডের একটি গুড়ো দুঁধের কোম্পানী বেবি জয়াকে মডেল করতে চেয়েছিল। ঢাকায় জন্মেছিল যে সে শুরুতেই পেল বিদেশে মডেলিংর ডাক।যখন তাঁর সেটা বোঝার বোধই হয়নি। কোনো কারনে সেই ইংল্যান্ডের মডেলিং করা হয়নি জয়ার। কিন্তু মেয়ে যে খ্যাতনামা নায়িকা হবে ঐ অফারই ছিল তার আগমণী বার্তা।ছোটো থেকেই পশুপাখি প্রেমী ছিল জয়া। খরগোশ বাড়ির লোক না চাইলেও খরখোশ মা ও তার বাচ্চাদের বাড়ি থেকে বের করার উপায় ছিলনা। খরগোশ নিয়েই ব্যস্ত মেয়ে।যে সারমেয় ক্লিও প্রেমে আজও মগ্ন জয়া।মূলত গোপালগঞ্জ জেলায় বাস। তাঁর বাবা মুক্তিযোদ্ধা এ এস মাসউদ এবং মা রেহানা মাসউদ ছিলেন একজন শিক্ষিকা। তাঁরা দুই বোন এক ভাই। অভিনয় শুরুর আগে জয়া নাচ ও গানের প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন। প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়ার পাশাপাশি তিনি ছবি আঁকা শিখেছিলেন।তিনি একটি সংগীত স্কুলও পরিচালনা করেন।রবীন্দ্র সঙ্গীত ও ক্লাসিকাল গানের ট্রেনিং নেন জয়া। কিন্তু স্কুলে ছোটো বয়সেই ভর্তি হননি।বাড়িতেই চলত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা।জয়ার জীবনে বড় অবদান ভারতেশ্বরী হোমস এর। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই সব শিক্ষার পাঠ পেয়েছেন জয়া। এরপর অগ্রণী স্কুল অভিনয়ে আসা সেই মডেলিং এর হাত ধরে। শিশুকালের অফার বাস্তব হল জয়ার জীবনে। কোকাকোলার বিজ্ঞাপন থেকে স্যান্ডেলিনা স্যান্ডাল সোপ সাবানের বিজ্ঞাপন সবেতেই মাত করলেন যৌবন সরসী জয়া।জয়ার অভিনয় কৃতিত্ব এরপর দর্শক মন জয় করে নিল টেলিভিশনে।

জয়া যে বাংলাদেশের ধারাবাহিক ও টেলিছবি ওদের ভাষায় নাটক , করেছেন সেগুলোর নাম এনেছি সূর্যের হাঁসি,শঙ্খবাস,আমাদের ছোট নদী,৬৯,সংশয়,নো ম্যানস ল্যান্ড প্রভৃতি।তারপরেও আঙুরলতা নন্দকে ভালবাসে,বিকল পাখির গান।’এনেছি সূর্যের হাসি’ ধারাবাহিক নাটকে অভিনয়ের পর জয়া জাতিসংঘের নারী ও শিশু সহায়তা বিভাগের শুভেচ্ছা দূত হন।ছবির জগতে এলেন ‘ব্যাচেলর’ ছবির হাত ধরে। এরপর সাফল্য ‘ডুব সাঁতার’। ‘গেরিলা’-য় বিলকিস বানুর চরিত্র করে জয়া সাড়া ফেলে দেন পুরস্কারে ভূষিতা হন। বাংলাদেশের খাঁচা ছবিটিও জয়ার ক্যারিয়ারে উল্লেখযোগ্য।পাশাপাশি করেছেন বানিজ্যিক ছবি। কিন্তু জয়ার কাছে যে ছবি বানিজ্যিক হলেও শিল্পসম্মত সেই ছবিতেই কাজ করেছেন করতে চান তিনি। কিন্তু বাংলাদেশের ছবি বেশী বানিজ্যিক শৈল্পিক কাজ কম হয় সেই দিক থেকে নতুন দরজা খুলল জয়ার জীবনে। কলকাতার ছবিতে অভিষেক ঘটল জয়ার অরিন্দম শীলের হাত ধরে ‘আবর্ত’। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি জয়াকে যদিও কলকাতার ছবিতে ধাতস্থ হতে, উচ্চারন আরো উন্নত করতে একটু সময় নেন। সৃজিত মুখার্জ্জীর ‘রাজকাহিনী‘ কিংবা ইন্দ্রনীল রায়চৌধুরীর ‘ভালোবাসার শহর‘,’একটি বাঙালী ভূতের গল্প‘।

জয়া

এরপর এল আরো বড় ব্রেক কৌশিক গাঙ্গুলীর ছবির নায়িকা জয়া। ‘বিসর্জন‘। যে ছবি কলকাতার আমজনতার কাছে সেরা নায়িকা করে তোলে জয়াকে। ছবি সুপারহিট। পথ আরো প্রশস্ত হল। ছবিতে জয়া ভালোবাসা বিসর্জন দিলেও এই ছবি দর্শকের ভালোবাসা দ্বিগুন ফেরত দেয় জয়াকে। এল এই ছবির সিকোয়েল ‘বিজয়া’। এবারেও কিস্তিমাত করলেন জয়া। আছে আরো অজস্র ছবি তাঁর আগামী ছবির তালিকায়। আটকে আছে অনেক ছবি বাংলাদেশে যেমন জয়া-ফিরদৌস অভিনীত ‘বিউটি সার্কাস’। একটা পয়েন্ট বলা উল্লেখযোগ্য, আমরা যদি সত্তর দশক থেকে বাংলাদেশের নায়িকাদের কলকাতার ছবি করতে আসার গ্রাফ দেখি।

জয়া

প্রথমেই আসবে বাংলাদেশের মহানায়িকা ববিতার নাম। ববিতা কলকাতার ছবি করেছেন ‘অশনি সংকেত’। স্বয়ং সত্যজিৎ রায়ের। চারুলতা মাধবী মুখোপাধ্যায় এবং শর্মিলা ঠাকুর কাজ করতে না পারায় ‘অশনি সংকেত’ এ বাংলাদেশ থেকে আনা হল ববিতাকে। সৌমিত্র সন্ধ্যা রায়ের পাশে ববিতার উজ্জ্বল উপস্থিতি আজও ম্লান হয়নি। কিন্তু ববিতার কলকাতার ছবি ঐ দু একটি। ববিতা সুচন্দার বোন গুলশান আরা আক্তার চম্পা পদ্মা নদীর মাঝি, লাল দরজা,আবার অরন্যে,মনের মানুষ ছবি করেছেন সব কটি উল্লেখযোগ্য কিন্তু সরে এসছেন পার্শ্বচরিত্রে।রোজিনা করেছেন শক্তি সামন্তর ছবি ‘অন্যায় অবিচার’ মিঠুন চক্রবর্তীর বিপরীতে, বক্সঅফিস হিট কলকাতা বাংলাদেশ বোম্বে হিট ছবি।হিন্দি বাংলা দ্বিভাষিক।ঐ একটি কলকাতার উল্লেখযোগ্য ছবি। অঞ্জু ঘোষ ‘বেদের মেয়ে জোসনা’। ঐতিহাসিক হিট। এরপর কালী আমার মা,দিদি আমার মা,কুমারী মা,রাজার মেয়ে পারুল। অঞ্জু বক্সঅফিস হিটে অন্যতমা কিন্তু কলকাতার ক্লাস দর্শক কোনদিনই অঞ্জুর ছবি দেখেনি। অঞ্জু গ্রাম বাংলার নয়নের মণি।অঞ্জুর বক্সঅফিস হিটকে অস্বীকার করতে পারেননি সত্যজিৎ রায়ও। কিন্তু অঞ্জু কোথাও গিয়ে বদ্ধ জলের মাছ হয়ে গেলেন।

একমাত্র বাংলাদেশের নায়িকা কলকাতার প্রথমা নায়িকাদের পিছনে ফেলে এক নম্বরে জায়গা করে নিলেন জয়া আহসান। জয়া নিজেকে প্রতিটি ছবিতে অতিক্রম করছেন।’এক যে ছিল রাজা’, ‘কন্ঠ’ যার উদাহরণ। জয়ার ছবি রিলিজ কলকাতায় ধারবাহিক ভাবে, ক্রমাগত হিট,জয়াকে মুসলিম নায়িকা বলে,অন্য দেশের নায়িকা বলে ব্রাত্য করে রাখেননি কলকাতার দর্শক।জয়া এলেন ছবি প্রযোজনায়। ‘দেবী’। সাফল্যর নতুন মুকুট উঠল জয়ার মাথায়। আজকাল কিন্তু পাওলি ঋতুপর্ণার সাথে সাথে বাঙালি দর্শককে সমান ভাবে হলমুখী করতে সক্ষম জয়া ।যে কৃতিত্ব আর কোনো বাংলাদেশী নায়িকার নেই। কলকাতা ও বাংলাদেশ দু জায়গাতেই সুপারহিট ছবি রিলিজের ধারাবাহিকতা আর্ট কর্মাশিয়াল দুই ধারার ছবিতেই জয়া আহসান অনন্যা। জয়াও দুই দেশকে আপন করে নিয়েছেন। ধর্মীয় বেড়াজাল বোরখায় না ঢেকে মুক্ত করেছেন নিজের মানসিকতা। বাংলার দুর্গা পুজো থেকে ঈদ সবেতেই জয়ার প্রাণপ্রতিমা মুখ প্রথমা।

লেখক শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়

 

MUST READ

মহালয়ার সেরা পাঁচ ‘ মহিষাসুরমর্দিনী ‘

আকাশবাণী কলকাতার 'মহিষাসুরমর্দিনী 'র পর টেলিভিশনে 'মহিষাসুরমর্দিনী' সবার কাছেই ভালোবাসার। কিন্তু এখন অনেক চ্যানেল হওয়া সত্ত্বেও টিভির মহালয়া দর্শকের বিরক্তি উদ্রেক করে। সেই মেগার...

পুজোর সেরা পুরুষ কে ? এবার পুজোয় অভিনব উৎসব !

পুরুষ। পুরুষ যেন পড়ে পাওয়া চোদ্দ আনা। নারী দিবস নিয়ে হৈচৈ। নারী দিবসের দরকার তো আছেই কিন্তু পুরুষ দিবস কবে কোনদিন আমরা কজন জানি?...

এবার মহালয়াতেই অকাল বোধন !

দেবী দুর্গার ত্রিনয়ন, যার জ্যোতিতে আলোকিত বিশ্ব। সৃষ্ট প্রাণ। আমরা দেবী দুর্গাকে চোখে দেখিনি দেখিনা। কিন্তু দুর্গা মানে এক শক্তি। নারী শক্তি। ধরিত্রীতে সকল...

নটবর ১০০তেও নটআউট !

বাবা সতু রায় ছিলেন নির্বাক যুগের বিখ্যাত অভিনেতা। কিন্তু তাতে ছেলের বিশেষ কিছু সুবিধে হয়নি। তাঁর জন্ম বরিশালে। বাবা পরে চলে আসেন কলকাতায়। শেষে...