আলোয় ফেরার গল্পের নাম কন্ঠ !

আলোয়

ভাবুন আপনার জীবন সুখ সমৃদ্ধিতে পরিপূর্ণ, যাকে এককথায় সোনার পাথরবাটি বলে আর কি! ঠিক তখনই আপনার জীবনে নেমে এল দুঃস্বপ্নের রাত। ঘনিয়ে এল নিকষ কালো অন্ধকার, যে অন্ধকারের না আছে কোনো শুরু না আছে কোনো শেষ। রঙ-তুলির ছোঁয়ায় পূর্ণ আপনার জীবন এক লহমায় শূন্য হল। দুঃস্বপ্নের সে রাতগুলিতে তখন – “রোজ এক স্বপ্ন দেখা, আলোতে আলোতে ঢাকা”। ধূসর সে রাতে হঠাত সন্ধান পেলেন আলোর এক উৎসের। প্রিয় মানুষগুলোর পাশে থাকার অঙ্গীকারকে সম্বল করে শপথ নিলেন সে দূর্গম পথ অতিক্রম করবার। ফিকে হয়ে আসা ক্যানভাসে রামনুর সাত রঙ মেশাতে ছুটে চললেন অভীষ্টের দিকে। ঠিক এমনই এক গল্প নিয়ে সিনেমা বানালেন শিবপ্রসাদ-নন্দিতা জুটি। ছবির নাম ‘কন্ঠ‘, গত ১০ মে মুক্তি পেল উইন্ডোজ প্রযোজিত এই ছবি।

ছবির বিষয় ক্যান্সার আক্রান্ত এক বাচিকশিল্পীর(রেডিও জকি) জীবনযুদ্ধ এবং সেই যুদ্ধে তার পরিবারের কন্ট্রিবিউশন। সেক্ষেত্রে এইরকম লার্জার দ্যান লাইফ ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র একটু স্পেশাল হওয়া বোধহয় বিশেষ প্রয়োজন ছিল। তাই নিজেই সে ভূমিকা পালনে উদ্যত হলেন শিবপ্রসাদ। দেবাশিস, অর্ক, হ্যাপি সিং, লাল্টু দত্তের চরিত্রে তার অভিনয় প্রতিভার পরিচয় পেয়েছিল বাংলা ছবির দর্শক। তাই এবারে অনেকটা বড় চমক দিতে চাইলেন তিনি। বাচিকশিল্পীর চরিত্রে শুধু অভিনয়ই করলেন না, বাঁচার তাগিদ হয়ে উঠলেন বহু মৃত্যু পথযাত্রীর কাছে। আলোয় ফেরার পথ দেখালেন কতশত মানুষকে।

ছবির স্ক্রিপ্ট মোটের উপর বেশ ভাল, বিশেষত ছবির দ্বিতীয়ার্ধ বেশ জমাট লেগেছে। রেডিও প্রোগ্রাম, রেডিও স্ক্রিপ্ট, শিল্পীর বাচনভঙ্গি, ল্যারিঞ্জিয়াল ক্যান্সার সংক্রান্ত খুঁটিনাটি নিয়ে এত গভীর গবেষণা বাংলা ছবিতে বিরল। পরিচালনার ক্ষেত্রে ইচ্ছে, বেলাশেষে যে মাপকাঠি তৈরি করেছিল শিবপ্রসাদ-নন্দিতা জুটি তাকেই ছুঁয়ে দিল কন্ঠ ছবিটি। সাউন্ড ডিজাইনিং এই ছবির অন্যতম ইউ.এস.পি। কয়েকটি দৃশ্যে শব্দের ব্যবহার বেশ নজরকাড়া। যেমন একটি দৃশ্যে অর্জুন ও তার স্ত্রী পৃথা (পাওলি দাম) একে অপরকে জড়িয়ে কাঁদতে দেখা যায়, দৃশ্যটিতে শব্দপূর্ণতা ও শব্দশূন্যতার যে খেলা তা বহুদিন মনে রাখবে বাংলা ছবির দর্শকের। ছবিতে মিউজিক দিয়েছে অনুপম রায়। বাংলা ছবিতে অনুপমের করা অন্যতম সেরা কম্পোজিশন কন্ঠের গানগুলো। যা দর্শকদের কাছে আরো জীবন্ত করে তুলেছে ছবিটিকে।

ছবির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ স্পিচ থেরাপিস্ট রোমিলা চরিত্রটি। চরিত্রটি কখনও ওয়ার্কিং পার্সোনালিটি, কখনো মা আবার কখনো নিছকই একজন বন্ধু। বিজয়া, বিসর্জন কিংবা রাজকাহিনির জয়া এহসান মুগ্ধ করেছিল আপামর বাঙালিকে। তবে এত ভিন্ন স্তরে টলিউড ইন্ডাস্ট্রি প্রথমবার পেল জয়াকে। স্ক্রিনে যখনই রোমিলা চরিত্রের দেখা মিলেছে তখনই আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়েছে চরিত্রটি, যাকে বলে শো স্টিলার।

অ্যাক্সিডেন্ট, রামধনু, পোস্ত, হামির মত কন্ঠ-ও নিখাদ একটি পারিবারিক ছবি। শুধু বলেই নয়, যে কোন ধারার বাংলা ছবির দর্শকের কাছে কন্ঠ একটি মাস্ট ওয়াচ ছবি। যথাযথ মূল্যায়ন করলে তাই ৫-র নিরিখে ৪ পাবেই কন্ঠ ছবিটি।

REVIEW OVERVIEW
Konttho Movie Review