Home ফিল্ম রিভিউ অনেক নিরাপত্তাহীনতার মাঝেও " গোত্র " আপনাকে নতুন আলো দেখাবে !
ঘটক

‘ওরে হিরোয়িন ছেড়ে অন্য হ, ভালো লাগবে ’ – ঋত্বিক ঘটক

হ্যাঁ , আবার ছবি বানাচ্ছি.. ছবি বানানো ছাড়া আর কী-ই বা করতে পারি আমি !" ভবানীপুরের বাড়িতে বসে ঋত্বিক ঘটক একথাই বলেছিলেন সুচিত্রা সেন-কে...

সুখেন দাসের ছবিতে সুচিত্রা সেন !

সুচিত্রা সেন একবার তাঁর বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডের বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন অভিনেতা,পরিচালক,প্রযোজক সুখেন দাসকে। তাড়িয়ে দেবার কারন? সেই নিয়েই আজকের গল্প। সুখেন দাস র ছবি...
একই অঙ্গে এত রূপ 1965

হারানো ছবির গল্প !

পরিচালক হরিসাধন দাশগুপ্তর বাংলা ছবিতে অবদান একদম অনালোচিত। চলচ্চিত্রকার হিসেবে তাঁর সবচেয়ে আলোচিত ছবি সুচিত্রা - উত্তম অভিনীত 'কমললতা'। খুবই গুণী মানুষ। কিন্তু মেঘে...

অনেক নিরাপত্তাহীনতার মাঝেও ” গোত্র ” আপনাকে নতুন আলো দেখাবে !

ছবি – ‘গোত্র’
পরিচালনা – শিবপ্রসাদ, নন্দিতা।
অভিনয়ে – অনসূয়া মজুমদার,নাইজেল আক্কারা ভিকি,মানালি দে, অম্বরীশ ভট্টাচার্য,সাহেব চ্যাটার্জ্জী,বাদশা মৈত্র,সন্তু মুখোপাধ্যায়,ওম,দেবলীনা ও খরাজ মুখোপাধ্যায় প্রমুখ।
রেটিং – ৪/৫

রিভিউ লেখক – শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়

জন্মাষ্টমী। বাংলা ছায়াছবিতে এতদিন আমরা জন্মাষ্টমী বলতে গোপাল থেকে কৃষ্ণ-রাধার প্রেমলীলা দেখেছি। সেই পৌরাণিক গল্প নিয়ে ‘কৃষ্ণ সুদামা’,’মহাবীর কৃষ্ণ’ এসমস্ত ছবিই হয়ে এসছে। কিংবা খুব বেশী হলে নিশিপদ্মর হিন্দি ভার্সন ‘অমর প্রেম’ এ শর্মিলা ঠাকুরের লিপে ‘বড়া নটখট হ্যায় ইয়ে’ কৃষ্ণ যশোদার গান। ‘গোত্র’ সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত ছায়াছবিটি এই জন্মাষ্টমীর পুজো নিয়ে,পুজোয় সংকল্প করার সময় নাম গোত্র ধর্ম নিয়ে এক বিপ্লব ঘটাল। যেটা আগে বাংলা কেন হিন্দি ছবিতেও হয়নি। মানুষের সম্পর্ক কি শুধু রক্তের সম্পর্ক,গোত্রের সম্পর্ক তেই বন্দি? নাকি বন্ধুত্ব,মানবধর্ম, মনুষ্যত্ব জরুরী যেকোন সম্পর্ক হতে? সেই গল্পই সুন্দরভাবে রুচিসম্পন্ন ভাবে উপস্থাপন করেছেন পরিচালকদ্বয় নন্দিতা রায়, শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং তাঁদের উইনডোজ প্রোডাকশান।

বনেদী বাড়ির নাম ‘গোবিন্দ ধাম’। মুক্তি দেবী ওরফে অনসূয়া মজুমদার সেই বাড়ির মালকিন। ছেলে সাহেব চট্টোপাধ্যায় বিদেশে থাকেন। তাই মা কে দেখাশোনার জন্য কেয়ারটেকার নিযুক্ত করে যান ছেলে। কিন্তু কোনো কেয়ারটেকারই মুক্তি দেবীর সঙ্গে টেকেননা। তাই ছেলেকে বারবার আসতে হয় দেশে নতুন কেয়ারটেকার নিযুক্ত করতে। কিন্তু এই নিয়ে একজনও একবছরের বেশী টিকলনা। মুক্তিদেবীর সঙ্গে সাহায্যকারিনী থাকেন ঝুমা ওরফে মানালী দে। মুক্তি দেবী সত্তর পেরোলেই সবল সাহসিনী। তিনি চোরদের পিটিয়ে দেন। কেয়ারটেকারদের উপর নির্ভর করেননা। চোর পিটিয়ে সাহসিনী বৃদ্ধা খবরের শিরোনামে ওঠেন। তবু মায়ের সিকিউরিটির জন্য ছেলে নাজেহাল। তারওপর বাড়ি ভেঙে ফ্ল্যাট বানানোর চাপ পাড়াতুতো গুন্ডা বাপি ওরফে খরাজ মুখোপাধ্যায় ও তাঁর দলবলের। শেষমেষ বন্ধু পুলিশ অফিসার বাদশা মৈত্র র ভরসায় অনি ওরফে সাহেব খুঁজে পান ‘গোবিন্দ ধাম’র কেয়ারটেকার ন বছর জেল খেটে ফেরত তারেক আলি কে। এই ছবির নায়ক দেবদূত যাই বলুন নাইজেল আক্কারা। তারেক আলি যাবে হিন্দু বাড়ি গোবিন্দ ধামে? না তারেক মিথ্যে না বললেও পুত্র মা কে রাজী করাতে তারেক আলিকে তারক গুহ ন বছর বোর্ডিং এ থাকা কেয়ারটেকার বলে মায়ের দেখভালের জন্য নিযুক্ত করে।

কিন্তু এতই কি সোজা ধর্ম ছেঁটে ফেলে প্রাত্যহিক জীবনে আলি থেকে গুহ, মুসলিম থেকে হিন্দু হয়ে ওঠা? নাকি এতই সোজা হিন্দু বাড়িতে মুসলিমকে আপন করে নেওয়া?মুক্তি দেবী মাসিমা যদি জেনে যান তারকের আসল পরিচয় তিনি মেনে নেবেন যে বাড়িতে প্রতিষ্ঠিত রাধাগোবিন্দ আছে সেখানে এই অনাচার? আবার ঝুমা তারেক হিন্দু মুসলিম প্রেম কোন নতুন ডায়মেনশন দেবে ছবিতে? নাকি ঝুমার মা মেনে নেবে জেল ফেরত আসামী জামাই? কিন্তু সবার তো বাঁচার অধিকার আছে? কি বলবে আত্মীয় স্বজন? আমরা আর কদ্দিন ভাববো লোকে কি বলবে এই স্তোকবাক্য? নিজেদের মন যা চায় সেই পথেই চলে দেখি না!এইসব প্রশ্নের উত্তর পেতে দেখতেই হবে উইনডোজের নতুন ছবি ‘গোত্র’।ছবিটা কেন রিলিজ করল জন্মাষ্টমীতে? সে উত্তরও পাবেন ছবি দেখলে।

এবার আসি ছবির অভিনয়ে। ছবির মূল চরিত্র মাসিমা মুক্তি দেবী। যিনি মাসিমা হিটলার বলে খ্যাত কিন্তু মনটা নরম। অনেকটা নারকেলের মতো বাইরেটা কঠিন ভিতরে টলটলে জল। মুক্তি দেবী মাসিমার চরিত্রে অনসূয়া মজুমদার অনবদ্য। ছবির প্রাণপ্রতিমা। ছবির শুরুতেই চোর পেটানোর দৃশ্য দিয়েই অনসূয়া তাক লাগিয়ে দেন দর্শকদের। তারপর তো চলতে থাকে ভরপুর এন্টারটেনমেন্ট ডায়লগ আবার হৃদয় নিঙরানো অভিনয়ের মুন্সিয়ানা এই প্রতিভাময়ী অভিনেত্রীর। অনসূয়ার অভিনয় দেখে ‘পদীপিসির বর্মীবাক্স’ অথবা ‘আপনজন’ ছবির ছায়া দেবীকে মনে পড়ে যায়। বাংলা ছবিতে শিবপ্রসাদ নন্দিতা সেই সাহসটা দেখালো যে বয়স্ক অভিনেত্রীকেও লিড চরিত্রে নিয়ে ছবি সুপারহিট করা যায়। কারন এ ছবির যা গল্প, চিত্রনাট্য,অভিনয়ের বাঁধুনি,গানের চয়ন তাতে সুপারহিট হবার সবরকম মশলাই আছে পরিমানমতো কোনোটাই লাউড নয়। সেই আন্দাজটা শিবু নন্দিতা জানেন দর্শক কতটা নেবে। আর অনসূয়াকে দেখলে বোঝা যায় নায়িকাদের অভিনেত্রীদের অভিনয়ের কোনো বয়স প্রান্তবেলা হয়না। কি প্রানবন্ত পুলকিত চরিত্র অনসূয়ার। ছবির রাশ টেনে রেখেছেন। এরপরই বলতে হয় নাইজেলের কথা। নাইজেল যেন একটা ডিসকভারি শিবপ্রসাদ নন্দিতার। প্রথম দৃশ্যেই বস্কিং ফাইটিং দৃশ্য দিয়ে নায়কের আবির্ভাব। যেন মুক্তধারার পর আরেক নতুন নাইজেল এই ছবিতে। তারেক আলিও জেলে ছিল কিন্তু চরিত্রটা আলাদা। নাইজেলের সঙ্গে ‘মৃগয়া’ দিয়ে উঠে আসা মিঠুন চক্রবর্তীকে তুলনা করা যায়। সুপারস্টার হওয়া ভাগ্যের ব্যাপার কিন্তু নাইজেলের সেই অধ্যাবসায় আছে। যেন নতুন এক নায়ক পেয়েছে টলিউড। ওমন সিদ্ধপুরুষ লুকস স্নানরত দৃশ্যে নাইজেলের অভিনয় চমকপ্রদ।

নাইজেলের ডায়লগ ডেলিভারি,তাকানো একদম পারফেক্ট।শুধু তাই নয় এই তারেক আলির চরিত্র করতে গিয়ে নাইজেলকে কতরকমের কাজ শিখতে হয়েছে সেটা ছবিটা দেখলে বুঝবেন। এবার শিবু নন্দিতা ও অন্য পরিচালকদের কাছে চাহিদা নাইজেল কে এমন নায়কের চরিত্র চিত্রণে ভাবা যে আর জেলফেরত আসামী নয় কারন নাইজেলের সতন্ত্র নায়ক হবার প্রথমসারির নায়ক হবার দক্ষতা মুগ্ধতা দুইই আছে।আসলে এই গল্পে নাইজেলের চরিত্রটা পারফেক্ট। কারন ছবির গল্পটা সত্যি। নাইজেল জেল থেকে বেরোনোর পর ম্যানপাওয়ার সার্ভিস এজেন্সি তৈরী করে তাঁদের নিয়ে যারা জেলের সাজা শেষ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চায়। আর নাইজেলের এই সংস্থার একজন লোক শিবপ্রসাদের মায়ের বাড়ির কেয়ারটেকার ছিল। আর মুক্তি দেবীর চরিত্রটাও শিবপ্রসাদের মা কে বেস করে। তাই এই তারেক আলি কেমন হবে সে সম্পর্কে সবটা ধারনা নাইজেলের ছিল আর পরিচালকরা তো আছেনই। নাইজেলের কঠিনত্বে অপাপবিদ্ধতা দর্শকদের মন কেমন করাবেই। মানালি দে ঝুমা পাল এ ছবিতে প্রজাপতির মতো। ‘ঝুমা এটা বলছে ঝুমা ওটা বলছে’ বলে মানালির ডায়লগ সঙ্গে অভিনয় মন ভরায়। সিরিয়ালের নায়িকা বলে যে কিছু হয়না মানালিকে দিয়ে ছবির অভিনয় করিয়ে নিয়ে শিবু নন্দিতা সেইটা প্রমাণ করেছে। ঐ মৌরী ট্যাগটা মানালীর থেকে সরে গেছে এ ছবিতে। ঝুমা যেন মানালিকেই মানায়।মানালীর চেয়ে নাইজেল অনেকটা লম্বা চওড়া কিন্তু দুজনের জুটি বেমানান লাগেনি মন ভরিয়েছে দর্শকদের।

ধর্ম

এবার আসি চরিত্রাভিনেতাদের রোলে। যদিও উইনডোজের ছবিতে সব চরিত্র যোগ্য সম্মান পায়। প্রথমেই বলতে হবে পুরোহিত মশাই অম্বরীশ ভট্টাচার্যর কথা। নেচেনেচে আরতি করা থেকে হাঁটাচলা মুখভঙ্গি চোখ কুঁচকানো সবেতেই যখনই পর্দায় এসছেন দর্শকদের হাসিয়ে ছেড়েছেন অম্বরীশ। অম্বরীশ দারুন দারুন। এই ছবি যেমন হাসাবে তেমন কাঁদাবে। অম্বরীশ এর অনবদ্য অভিনয় ও শিবু নন্দিতার চিত্রনাট্য এটা প্রমাণ করল কমেডি মানেই যে আজকাল শুধু যৌন খিল্লি হয় সেটাই শুধু কমেডি নয় নিখাদ হাস্যরস উঠে এসছে পুরোহিত মশাই অম্বরীশের অভিনয়ে। আমরা অম্বরীশকে ‘শ্রীময়ী’ সিরিয়ালে দেখি কি দারুন সিরিয়াস স্পষ্টবক্তার অভিনয় করে সেই এখানে কমেডি বাড়ির পুরোহিতের চরিত্রে যেন ছবিতে মুক্ত অস্কিজেন নিখাদ কমেডি। অম্বরীশের অভিনয় স্বর্ণযুগের কৌতুকাভিনেতা শ্যাম লাহাকে মনে করায়। এই রোল এখন অম্বরীশ বাদে কেউ পারতনা। অম্বরীশ একজন শক্তিশালী অভিনেতা এবং এ যুগের সেরা কমেডিয়ান যার খুব অভাব ছিল বাংলা ছবিতে।কমেডিয়ান অনেক এসছে কিন্তু চড়া এক্সপ্রেসন অতি অভিনয় যুক্ত। অম্বরীশ নিখাদ হাস্যরসের খেঁজুর গুড়ের ভান্ডার। শিবপ্রসাদ নন্দিতা সত্যি স্টার নিয়ে সবসময় কাজ করেননা ওঁদের ছবিতে দর্শক পারফরমেন্স দেখতে যায়। এই ‘গোত্র’ ছবি সেকথা একশো ভাগ প্রমাণ করে। মানালি আর অম্বরীশের কমিক টাইমিং গুলো ঋতুপর্ণ ঘোষের ‘বাড়িওয়ালি’ র মালতী-প্রসন্নকে মনে করায়।সাহেব চ্যাটার্জ্জীর চরিত্র ছোট হলেও ছবির প্রথম ও শেষ জুড়ে বেশ সুন্দর। সাহেব আগের থেকে রোগা হয়ে আরো সুন্দর দেখতে লেগেছেন স্ক্রিনে। যেন মুক্তিদেবীর ছেলেই হয়ে উঠেছে সাহেব। অন্যদিকে বাদশা মৈত্রও পুলিশ অফিসারে দক্ষ অভিনেতা। যথাযথ পুলিশের ড্রেসে মানিয়েছেও ভালো।ছবির ভিলেন বাপি খরাজ মুখোপাধ্যায় অসাধারন। মাসিমাকে পোটানো থেকে তারেককে ধমকি দেওয়া কিংবা পুজোর ভোগ নিয়ে তর্ক সবেতেই খরাজ দুরন্ত। মাসিমার বন্ধুর ভূমিকায় সন্তু মুখার্জ্জী পারফেক্ট। অনেকদিন পর সন্তু মুখার্জ্জীর কন্ঠে আবৃত্তি শোনা গেল এ ছবিতে। অন্যরকম রেশ দিল।

রঙ্গবতী দেবলীনা কুমার ও রঙবাজ ওম সাহানি রঙ্গবতী গানে ছবিতে ফুল এন্টারটেনমেন্ট। খুব কালারফুল ওড়িয়া গান নাচে যেটা বাংলায় খুব সুন্দর জমাটি করে গেয়েছেন সুরজিত ও ইমন। গানে অবশ্যই অদিতি মুন্সীর শ্রীকৃষ্ণকীর্তণ গান জন্মাষ্টমীতে মন ভরায়। ক্যামিও রোলে বাবুল সুপ্রিয়র গানে বিশ্বনাথ বসু ফুল্টু এন্টারটেইনমেন্ট।নীল দিগন্তে খুব মেলোডিয়াস কি মিষ্টি গেয়েছেন শ্রেয়া। মানালি নাইজেলের কেমিস্ট্রি দারুন কোনো যৌন/চুম্বন দৃশ্য না এনেও। আর যখন এই গানে অনসূয়া মজুমদার এতদিন পর এই বয়সে পর্দায় নাচেন হল ভর্তি দর্শক হাততালি দিয়ে ওঠেন। এমনকি মুক্তি দেবীর ধর্ম গোত্র নিয়ে কিছু ডায়লগ শুনে দর্শকরা হাততালি দিয়ে ওঠেন, চোখে জল এনে দেয়। যেটা বাংলা ছবিতে বড় পাওয়া এই দর্শক ও সিনেমার চরিত্রদের কানেকটিভিটি। অরিজিত সিং এর ‘মা’ গানের কথা ও গায়কী হৃদয়স্পর্শী। শ্রেয়া ঘোষালের কন্ঠে গান্ধীজীকে স্মরণ করে বাংলা লিরিক্সে ‘বৈষ্ণব সেইজন’ গান ছবির শেষে এক শান্তি সম্প্রীতির বার্তা তৈরী করে। অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গীত পরিচালনা মাত করেছেছবির দ্বিতীয়ার্ধ্ব থেকে গল্প কি ভাবে এগোবে আন্দাজ করা যায় কিন্তু এত সুন্দর মন ভালো করা ডায়লগ,অভিনয়,পরিচালনা যে দর্শকদের চোখের জল মুছতে শেষে রুমাল বার করতেই হবে।

বিশেষ করে যারা মা কে হারিয়েছেন তাঁদের এ ছবি খুব কাছের মনে হবে। কলকাতা একা বয়স্ক মানুষদের জন্য কতটা নিরাপদ? সেটা জানতেও এ ছবি দেখা উচিৎ। একাকীত্ব কমাতে রক্তের সম্পর্ক পরিবার বাদেও সমাজকে বন্ধু করলে অনেক নিরাপদ থাকা যায়। যেটা আমরা এই অনু পরিবার যুগে করিনা প্রায়। সেজন্য এ ছবি প্রাসঙ্গিক।সর্বোপরি ‘গোত্র’ পরিবার নিয়ে মন ভালো করার মতো সুপারহিট ছবি হতে চলেছে।এধরনের ছবি সিঙ্গেলপ্লেক্স হল গুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে খুব দরকার। মাল্টিপ্লেক্স তো আছেই কিন্তু পাড়ার মহিলারা কিংবা সপরিবারে যারা মাল্টিপ্লেক্সে যেতে পারেননা তাঁদের কাছে পাড়ার হল গুলোই সম্বল। ঠিক সেই আগের মতো একটা ভালো ছবি দেখতে দর্শকরা এই ছবিতে মন ভালো করা আমেজ খুঁজে পাবেন।শুধু মেলোড্রামা দেখিয়ে দিলাম দর্শকের চোখ মুছতে তা নয় উচ্চ ক্লাস থেকে মধ্যবিত্ত হয়ে থেকে সমাজের শেষ প্রান্তেও একটা সম্প্রীতির বার্তা পৌঁছে দেবে এই ছবি। হিন্দু মুসলিম মানেই সেটা খুনোখুনি রায়াট লাগিয়ে করতে হবে তা নয়। মুক্তি দেবীর কথায় শান্তির বার্তা সম্রাট অশোকের ন্যায় দিতে থাকে তারেক আলি কিংবা তারেক গুহ যে রূপেই হোক নাইজেল।ঈদের চাঁদ আর রাখি পূর্ণিমার চাঁদ যেমন এক চাঁদই ,তেমনি মুসলিম সন্তানের মা আর হিন্দু সন্তানের মা ,একজনই মা। যশোদা শ্রীকৃষ্ণকে নিজের সন্তান করে নিয়েছিলেন নাম,গোত্র নির্বিশেষে , ‘গোত্র’ ছবিতে কি হয়? টিকিট কেটে হলে গিয়ে বাংলা ছবি দেখে আসুন নিরাশ হবেন না এটুকু বলতে পারি।

MUST READ

তোমায় আমায় মিলে !

তাঁরা দুজনে অতনু ঘোষের দুটি ছবি পৃথক ভাবে করেছেন। 'ময়ুরাক্ষী' এবং 'বিনি সুতোয়'। কাদের কথা বলছি? হ্যাঁ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় ও জয়া আহসান। কিন্তু এবার...

বাংলার বাইরে মুক্তি পেল ‘গোত্র’

উইনডোজ নিবেদিত 'গোত্র' রিলিজ করেছে জন্মাষ্টমীতে। ইতিমধ্যে বক্সঅফিস কালেকশানে সর্বোচ্চ হয়েছে ছবিটি। কলকাতা সহ শহরতলীর প্রতিটি হলের প্রতিটি শো হাউসফুল। শিবপ্রসাদ-নন্দিতা জুটির প্রতিটি ছবিতেই...

কোয়েল নিবেদিত ছবিতে ভূতপরী জয়া !

পরী পিসি থেকে ভূত পরী। হ্যাঁ সৌকর্য ঘোষালের 'রেনবো জেলি' শিশুমহল থেকে বড়দের সবার খুব কাছের ছবি। যেখানে শ্রীলেখা মিত্র পান একটি সেরা চরিত্র...

” নকল কন্ঠীর স্থায়িত্ব বেশীদিন না ” রাণু মন্ডলকে নিয়ে বললেন লতাজী

রানাঘাটের রাণু মন্ডল। হতদরিদ্র ভিখারিনী। অনাথা আত্মীয় পরিজনহীনা রাণু আজ প্রচারের শীর্ষে। লতাকন্ঠী রাণু মন্ডল রানাঘাটের স্টেশনে গান গেয়ে বেড়াত। ফেসবুকে ভাইরাল হয় তাঁর...