“দাদা, ঐ পেছনের ডানদিকে দুটো হামি দিন না!”

প্রথমেই একটা ঘটনা দিয়ে শুরু করি, নন্দনের টিকিট কাউন্টারে তখন তিল ধারণের জায়গা নেই, এক ঝলক দেখলে মনে হবে কোন মেলাতে ঢুকে পড়েছেন বোধহয়, ভিড় ঠেলে এগিয়ে গেলে পাবেন আবার অন্য মজা, যিনি টিকিট কাটছেন তার কাছে ক্রমাগত অনুরোধ আসছে- “দাদা, চারটে হামি দিন!”, “দাদা,ঐ পেছনের ডানদিকে দুটো হামি দিন না!” -বুঝুন ব্যাপারটা!

বাবুল সুপ্রিয়’র গাওয়া “হামি”র টাইটেল ট্র্যাক এখানেই হিট হয়ে গেল…সিনেমার দেখার আগেই যেন দর্শকদের ধরে ফেলেছেন পরিচালক জুটি নন্দিতা রায়-শিবপ্রসাদ মুখার্জি। এই গরমের ছুটিতে বাঙালিদের কাছে আবার হাজির তাঁরা একটা অসাধারণ গল্প নিয়ে, যেটা কিন্তু আদপে আপনাদেরকে একটা সামাজিক পাঠ পড়াতে চলেছে এবং ভীষণ সহজ সরল ভাবে। গোটা সিনেমা মাতিয়ে দিয়েছে ভুটু-ভাইজান ওরফে ব্রত। এই বছরের অন্যতম সেরা জুটি কিন্তু হতে চলেছে ব্রত-তিয়াসা, সেটা দু’জনের কেমেস্ট্রি দেখেই আপনারাও স্বীকার করবেন। কিছুদিন আগেই কলকাতার এক নামী স্কুলে বাচ্চাদের সেফটি ইস্যুতে তোলপাড় হয়েছিল রাজ্য, এইরকম ঘটনাতে আজকের দিনে স্কুলের উপর ভরসা উঠে যাচ্ছে মা-বাবা’দের। এই পরিস্থিতিতে যেভাবে পরিচালকদ্বয় তাঁদের গল্প সাজিয়েছেন এবং যে সহজ সরল পাঠটা পড়াতে চেয়েছেন সেই “হামি” কিন্তু আজকের মা-বাবা’দের কাছে অভিভাবকের মত কাজ করবে, নতুন করে ভাবতে শেখাবে। এই সিনেমা আবার প্রমাণ করে দিল শিবপ্রসাদ মুখার্জি কতোটা বড়মাপের অভিনেতা, একজন বাঙালি ব্যবসায়ীর চরিত্রে এবং এক দুরন্ত ছেলের ‘বাবা’ হিসেবে যে অভিনয়টা করেছেন, আপনারা বেশ উপভোগ করবেন। বাকি প্রত্যেকে গার্গী রায় চৌধুরী, কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, খরাজ মুখার্জি, তনুশ্রী শঙ্কর, চূর্ণী গাঙ্গুলি, সুজন মুখার্জি প্রমুখদের অভিনয় আপনাকে গল্পের প্রতি ভালোবাসা বাড়িয়ে দেবেই তবে আলাদা করে বলতেই হবে অপরাজিতা আঢ্যের কথা, স্কুলের শিক্ষিকার ভূমিকাতে দেখার পর দর্শকদের অনেক ‘হামি’ পাবেন তিনি।

সিনেমার গল্পটা ভীষণ চেনা কিন্তু যেভাবে উপস্থাপনা করা হয়েছে সেটা বেশ মজাদার এবং কোথাও গিয়ে নিজেদের ছোটবেলাকেও খুঁজে পাবেন আর তাতে বিশেষ ভূমিকা নেবে সংলাপ ও চিত্রনাট্য। আক্ষরিক অর্থে এটা বড়দের জন্য তৈরি ছোটদের ছবি। একজন ভদ্রলোক অবশ্য সিনেমা দেখে বেরিয়ে মত দিচ্ছেন, “বাচ্চাটা (ব্রত) একটু বেশিই পাকা! আমাদের বাড়ির ছেলেপুলেরা কিন্তু অত পাকা নয়।” তবে এটাও ভাবতে হবে আপনাদের চোখের আড়ালে আপনাদেরকে নকল করেই এমন কোন কাজ করার চেষ্টা করছে না তো যেটা করার বয়স নয় তাদের? পাশের জনের এই প্রশ্ন শুনে সেই গ্যারেন্টি এই ভদ্রলোকও দিতে পারলেন না…বেশ বোঝা যাচ্ছিল সরল হাস্যরসে পরিচালকরা যে কথাটা বলতে চেয়েছেন সেটার প্রভাব পড়া শুরু হয়ে গেছে! এতএব আর দেরি না করে অবশ্যই দেখুন “হামি” এবং সিনেমার শেষে আপনারাই “হামি” দেবেন পরিচালক জুটির গালে কারণ সবভুলে আপনাদের নিয়ে আসবে এক ক্লাসে…