‘আহা রে’ জীবন – ‘আহা রে’ আলাপন !

চিত্রনাট্য

ছায়াছবি – ‘আহা রে
কাহিনী চিত্রনাট্য ও পরিচালনা – রঞ্জন ঘোষ
অভিনয়ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, আরিফিন শুভ, পরান বন্দ্যোপাধ্যায়, অমৃতা চট্টোপাধ্যায়, শুভ্রশঙ্খ দাস, দীপঙ্কর দে ও শকুন্তলা বড়ুয়া।

বসন্তকালে এক অন্যরকমের প্রেমের গল্প বলল ‘আহা রে’। ভালোবাসার গল্প, প্রাণের টানের গল্প, মন কেমনের গল্প দেখালেন পরিচালক রঞ্জন ঘোষ তাঁর নতুন ছবি ‘আহা রে’ তে? বসন্ত ঋতু,সরস্বতী পুজো,দোল,দুর্গোৎসব, রবীন্দ্রনাথ ,নজরুল,বাঙালীয়ানা, বাঙালী পোশাক,বাঙালী অন্দরসজ্জা যদি সব গুলোকে একসাথে দেখতে চান তাহলে দেখে ফেলুন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত আরিফিন শুভ অভিনীত রঞ্জন ঘোষের নতুন ছবি ‘আহা রে’। আহার এ ছবিতে বড় মাধ্যম। চোখ জুড়নো খাবার দেখতে হলে এ ছবি কিন্তু দেখতেই হবে। বাঙালী খাবার তাঁর ইতিহাস চিংড়ি মাছের মালাইকারি মানে কি দুধের মালাই না অন্য কিছু? কিংবা চিকেন ডাকবাংলো নামটা উদ্ভব কি ভাবে? রান্না শুধু দেখা নয় রান্নার ইতিহাস চর্চা খুব সুক্ষ ভাবে আছে এই ছবিতে।

আহার থেকে কি আহা রে?

না। এ ছবি কিন্তু সম্পর্কের ছবি। খাবার একটা মাধ্যম এ ছবির কিন্তু আসলে মন কেমনের গল্প এ ছবি। এক মুক্তমনা ছবি ‘আহা রে’। সেটাই এ ছবির বিপ্লব। বসুন্ধরা আমাদের এ ছবির নায়িকা। নায়িকা যদিও সে লুকে নয়, বসুন্ধরা নায়িকা জীবন যুদ্ধের। এক সাধারন মেয়ের অসাধারন হয়ে ওঠার গল্প ‘আহা রে’। বসুন্ধরা তাঁর বাবা ও ছোটো ভাইয়ের জন্য, সংসারের জন্য নিজের ভালোবাসার রান্নার গুণকে কাজে লাগায়। ‘ইয়ং বেঙ্গল’ হোম ডেলিভারি ক্যাটারিং সার্ভিস, রান্না করে নিজেই চালায় বসুন্ধরা, সঙ্গে বসুন্ধরার লক্ষণ সম ভাইয়ের সাহায্য, সবার ওপরে ভরসার হাত তাঁদের বাবার। ‘ইয়ং বেঙ্গল’ ছোটো হলেও রান্নায় সুস্বাদু।আহা রে সিনেমা রিভিউ

কিন্তু বসুন্ধরার জীবনে আছে কি কোনো দুঃখ? কেন এত চাপা সে?

“আমার চোখে বসন্ত দারুণ চৈত্রমাস
চতুর্দিকে শিমূল-পলাশ কৃষ্ণচূড়ার ত্রাস।
ঝড় উঠেছে নিখুঁত কালো বৃষ্টি ভেজা রাত
আঁচল দিয়ে দুঃখ ঢাকি কোথায় তোমার হাত ?”

এমন করেই একদিন বসুন্ধরার দেখা হয় অচেনা এক যুবক শেফ রাজা চৌধুরির সঙ্গে। কচুরী ছোলার ডালে ঝগড়া থেকে ভাব। রাজা চৌধুরী হোটেল ম্যানেজমেন্ট পাশ করা বাংলাদেশের ঢাকার পাঁচতারা হোটেলের চিফ শেফ। রাজা ওঁর ডাক নাম যা বলে ঢাকায় মা ডাকে ওঁকে। রাজার আসল নাম ফারহাজ চৌধুরী। শেফ রাজা বিশ্বাস করে রান্নায় নিয়ম বইয়ের পুঁথি পড়া বিদ্যা জরুরি নয় রান্নায় আসল হল কল্পনা ইমাজিনেশান সেটাই অন্যদের সঙ্গে রান্নায় স্বতন্ত্রতা এনে দেয়। এই রাজাই নতুন জগতে নতুন হোটেলে আসে ঢাকা থেকে কলকাতার পাঁচ তারা হোটেলে শেফ হয়ে। রাজার মা ও মায়ের দ্বিতীয় স্বামী থাকেন ঢাকায়। রাজা কিছুতেই মেনে নিতে পারেনি তাঁর দ্বিতীয় বাবাকে। সেই পরিবেশ থেকে মুক্তি পেতেও ভালো অফার পেতে চলে আসে কলকাতায়। রাজার বাবা মা খোঁজ নেন ফোন করে। কিন্তু এখানে ভালো রান্নার লোক লাগবে রাজার। ঠিকে মাসীর রান্না রাজার মুখে রোচেনা। আর এই সমস্যার মুশকিল আসান হয়ে আসে ‘ইয়ং বেঙ্গল’ হোম ডেলিভারি ক্যাটারিং সার্ভিস। সেখানেই আবার দেখা হয় বসুন্ধরা-রাজার। এরমধ্যে একদিন পড়ে রাজার জন্মদিন। মায়ের ফোন এলেও মায়ের হাতের জন্মদিনের পায়েস আসা সম্ভব না ঢাকা থেকে কিন্তু বসুন্ধরার ভুল হয়না সে নিজে পায়েস রেঁধে রাজার হোম ডেলিভারির অর্ডারের সঙ্গে পাঠিয়ে দেয় ভাইয়ের হাত দিয়ে রাজাকে তাঁর জন্মদিনের পায়েস উপহার স্বরুপ। বসুন্ধরার এই আন্তরিকতাই রাজার মন ভালো করে দেয়। বসুন্ধরা কলকাতা পশ্চিমবাংলার রান্নায় পাকা রাঁধুনী। রাজা আবার বাংলাদেশের রান্নায় পাকা শেফ। সঙ্গে জানে লইট্যা মাছের রেসিপি থেকে চাইনিজ। কিন্তু রাজার কলকাতার বাঙালী রান্না একেবারেই অজানা। আর রাজার পাঁচতারা হোটেলে সেটারই ডিম্যান্ড। অন্যদিকে বসুন্ধরার ‘ইয়ং বেঙ্গল’ হোম ডেলিভারি তে কেউ চাইনিজ অর্ডার দিলে সেগুলো বানাতে না পারার জন্য ছেড়ে দিতে হয়। এছাড়াও আছে ‘খিদে বিদেয়’ প্রভৃতি আরো অনেক চাইনিজ হোম ডেলিভারি সার্ভিসের সঙ্গে প্রতিযোগিতা।

এই রাজা-বসুন্ধরা যদি দুজন দুজনের পরিপূরক হয়ে ওঠে তাহলে কেমন হয়?

সেটাই চিত্রনাট্যে বললেন রঞ্জন ঘোষ। রান্না শেখায় দু দেশের দুজন দুজনের স্টুডেন্ট টিচার। দুজনে দুজনের না পারা গুলো পারা দিয়ে ভরিয়ে তোলে। এভাবেই দুজন দুজনের কাছে আসতে থাকে। রাজার ঢাকায় আছে এক প্রেমিকা শাহিদা কিন্তু তার সঙ্গে মন কষাকষি হওয়ায় রাজা বিধস্ত। আহা রে সিনেমা রিভিউ

অন্যদিকে বসুন্ধরা সহজে রাজার কাছে আসতে পারেনা কেন কি কারনে? আছে কি বসুন্ধরার কোনো অতীত?

‘স্তব্ধ যদি ভালোবাসা প্রেমের-কম্পন
ফিরিয়ে দাও কিশোরীকাল প্রথম চুম্বন।
ভালোবাসার আগুন ঝড়ে চাইনি কোনো দাম
অশ্রুবিহীন চক্ষু হল প্রেমের পরিণাম।’

এরমাঝেই রাজার পাঁচতারা হোটেল দেখতে আসে বসুন্ধরা। সেখানেও হটকেক বসুন্ধরার বাঙালী রান্না। আর রাজা বসুন্ধরাকে উপহার দেয় বসুন্ধরার প্রিয় পান্তা খাবার। এভাবেই রাজা বলে ফেলে বসুন্ধরাকে ভালোবাসার কথা।

কিন্তু রাজার এই ভালোবাসা কে কি মেনে নেয় বসুন্ধরা নাকি প্রত্যাখান করে সে?

“এই সময়েই ভিন্ন হলে এমন চৈত্রমাস
ভালোবাসার ফুটছে কলি, ফাল্গুন বাতাস!
এই যে চোখ এই যে প্রেম, এই যে হা-হুতাশ
এই বসন্তে দেবো কাকে প্রেমের আস্বাস ? “

শুধু ওঁদের ভালোবাসাই শেষ কথা নয়। আছে দুই ধর্মের বিশ্বাস, বসুন্ধরা রাজার থেকে বয়সে বড় সমাজ কি চোখে দেখবে এই সম্পর্ক, রাজার বাবা মা কি মেনে নেবে বসুন্ধরা কে, নাকি বসুন্ধরার বাড়ির লোক মেনে নেবে রাজাকে?

ঠিক এই পরিস্থিতিতেই উদয় হন বসুন্ধরার পিতৃদেব পরান বন্দ্যোপাধ্যায় ,আরো কিছু পরিচয় ওনার আছে যদিও। তিনি একজন মুক্তমনা পিতা। যখন তার ছোটো ছেলে বলে “দিদি তো রাজাদার থেকে বয়সে বড়, রাজাদা মুসলমান লোকে কি বলবে?” তখন পরান বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিহাস থেকে ফিল্মি জগতের উদাহরণ টেনে বলেন কেন নার্গিস- সুনীল দত্ত কিংবা আমাদের ঘরের মেয়ে শর্মিলা তোদের শাহরুখ খান করেনি অন্য ধর্মে বিবাহ?” তখন তাঁর ছেলে বলে “ওরা বড়লোক বাবা ওরা সব পারে আমরা পারিনা লোকে কি বলবে?” কিন্তু একজন মুক্তমনা পিতা বলেন “কে বলেছে আমরা মধ্যবিত্তরা পারিনা?লোকে কি বলবে নিয়ে তোরা থাক।” সব প্রেমের ছবিতে বাঁধা হয়ে দাড়ায় পিতামাতারা। এতদিন যা বলিউড হিট ছবি হয়েছে দুই ধর্ম নিয়ে সেখানে পিতারাই ভিলেন। কিন্তু ‘আহা রে’ ছবি এক বিপ্লব যেখানে একজন পিতা তাঁর কন্যার ভবিষ্যত ভেবে ধর্মকে বয়সকে তুচ্ছ করে সমাজের চোখ রাঙানিকে তুচ্ছ করে মানুষকে সম্মান দিচ্ছেন। যিনি বিশ্বাস করেন জ্যোতিষে গন,রাশি ইত্যাদিতে তিনি সেই মুসলিম ছেলেটাকে ভালোবেসে ফেলছেন যে বলে “তাঁর গন জনগন”। মানবতাই আসল ধর্ম ‘আহা রে’ ছবি এই মেসেজটা দেয়। যখন পরান বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন “আমাদের সৃষ্টিকর্তা কিন্তু এক ভগবান”।আহা রে সিনেমা রিভিউ

ছবির বাকি গল্প দেখতে হলে যেতে হবে। ‘আহা রে’ ছবির প্রথম ভাগ গল্পের বুনন আর দ্বিতীয় ভাগ আরো টানটান গল্প নতুন দিকে মোড় নেয় চমক আছে গল্পে যা ট্রেলার দেখে বোঝা সম্ভব নাহ। আর এখানেই পরিচালক রঞ্জন ঘোষ তাঁর কাহিনী চিত্রনাট্যে বাজিমাৎ করেছেন। খাবার নিয়ে আজকাল টালিগঞ্জ পাড়ায় অনেক ছবি হবার ট্রেন্ড চালু হয়েছে। ‘আহা রে’ কিন্তু সরল সোজা শুধু শেফ রাঁধুনি খাবার রেসিপি প্রদর্শিত করার গল্প নয়। একটা ভালো সম্পর্কের ছবি যা আমরা পেতাম ঋতুপর্ণ ঘোষের থেকে। রঞ্জন তাঁর আগের দুটি ছবি ‘হৃদ মাঝারে’, ‘রঙ বেরঙের কড়ি’ র চেয়েও ‘আহা রে’ তে বেশী পরিনত চিত্রনাট্য লিখেছেন। অনেকের ধারনা থাকে এগুলো বোধহয় আর্ট ফিল্ম। তথাকথিত আর্ট ফিল্ম কিন্তু সেভাবে বানিজ্যিকরন দর্শক বিনোদন ভাবেনা। ‘আহা রে’ কখনই সেরকম ছবি নয়, স্লো ছবি নয়। এই ছবির মধ্যে আছে সরলতা অপাপবিদ্ধতা তেমনি সুন্দর বাঙালী ঘরানার চিত্রনাট্য অসম্ভব স্মার্ট লুক। বাংলাদেশের লোকরা নাটক বলতে যা বোঝেন তা এ ছবি নয়। একটা মেনস্ট্রিম ছবি এটি কিন্তু সুস্থ রুচির খাঁটি বাঙালী ছবি বানিয়েছেন রঞ্জন ঘোষ ও ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তর প্রোডাকশান হাউস ‘ভাবনা আজ ও কাল’। অনেকদিন পর কোনো বাংলা ছবিতে দেখলাম বেতের সবজী ধামা, নুন হলুদ দিয়ে মাখানো মাছ,পিঠে পুলি, বাজার, কফি হাউস থেকে কলকাতার সব পুরনো খাবার দোকান গুলো। সেই সত্তর আশির দশকের বাংলা ছবির মতো। নায়িকা এখানে স্নান করে ভেজা চুলে গামছা বেঁধে ধূপকাঠি খোঁজে, পিতা তাঁর ম্যাজিক বক্স দিয়ে জাদুমন্ত্রে যার কথা ভাবছেন তার পকেটে শেষ অবধি তাস কিংবা ছবি পৌঁছতে পারেন, যে ভাইটা বাজার সেরে দিয়ে তারপর কলেজে পড়তে যায়। একদম নিখাদ বাস্তবধর্মী সুন্দর গল্প।আহা রে সিনেমা রিভিউ

এবার আসি অভিনয় প্রসঙ্গে,

ছবি প্রচার থেকেই অনেকের মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল বয়সে বড় নায়িকা ছোটো নায়ক। কিন্তু এই পুরুষতান্ত্রিকতা ভাঙার সময় এসছে। ছবিতে কোথাও ঋতুপর্ণা তাঁর বয়স লুক গোপন করেননি। ছবির চিত্রনাট্যতে এটাই ডিম্যান্ডিং। ঋতু বরং বেশী লুকেই ছবিতে মেকআপহীন। ঠিক যেমন চেয়েছিলেন পরিচালক। ঋতুপর্ণার একটি সেরা অভিনয় এ ছবি। একটা ছবিকে কোনো তথাকথিত গ্ল্যামার অবলম্বন না করে অভিনয় দিয়ে তাঁর সাম্রাজ্য এগিয়ে নিয়ে চলেছেন ঋতুপর্না। ছবির শেষ দিকে পরান বন্দ্যোপাধ্যায় ও ঋতুপর্ণার ক্লাইম্যাক্স দৃশ্যে অভিনয় অনেকদিন মনে থাকবে আর এই দৃশ্যে রঞ্জনের চিত্রনাট্যে ডায়লগ অনন্য মাত্রা পেয়েছে।আহা রে সিনেমা রিভিউ

এই ছবির হিরো বাংলাদেশের হার্টথ্রব আরিফিন শুভ। যে কিনা মডেলিং থেকে কর্মাশিয়াল অভিনয় ঘরানাতে অভ্যস্ত, সিক্স প্যাক, হার্ডকোর মেনস্ট্রিম ছবির হিরো সে কতটা এরকম বাংলা ছবিতে সাফল্য পাবে ধোঁয়াশা ছিল। কিন্তু সব কুয়াশা কাটিয়ে সূর্যের আলোতে উদ্ভাসিত শুভর অভিনয় ও লুক এই ছবিতে। কলকাতার দর্শক শুভকে ‘আহা রে’ ছবি দিয়েই চিনল। ছবির শুরু থেকে শেষ শুভ যেভাবে অভিনয় করেছেন নিঃসন্দেহে বলা যায় কলকাতার টালিগঞ্জ পাড়া এক নতুন নায়ক পেল। শুভর বিপরীতে এখানে ঋতুপর্ণার মতো ম্যাচিউর নায়িকা সেখানে শুভর অভিনয়ে কোনো জড়তা নেই। বেশ চুপচাপ অথচ হাল না ছাড়া সাহস করে এগিয়ে সাফল্য পাওয়া একটা চরিত্র রাজা চৌধুরী ওরফে শুভ। যে চুপচাপ থেকে বসুন্ধরা শত বাঁধা দেওয়া সত্ত্বেও জোম্যাটো তে ‘ ‘ইয়ং বেঙ্গল’ হোম ডেলিভারির বিজ্ঞাপন দিয়ে দেয়। একদম নতুন লুক দিয়েছে শুভকে রঞ্জন। একজন ভালো অভিনেতা আবার নায়ক হবার সব গুন যার আছে এবং শুভর কন্ঠ বাচনভঙ্গী খুব সুন্দর। শুভকে মনে হয়নি এটাই ওর প্রথম কলকাতার ছবি। আহা রে সিনেমা রিভিউপরান বন্দ্যোপাধ্যায় এ ছবির আরেক ম্যাজিক ম্যান। যিনি স্ক্রীনে এলেই দর্শক না হেসে পারেনি। একজন ঘাত প্রতিঘাতে ক্ষত বিক্ষত পিতা কিন্তু তিনি দমে যাননি সিনিয়র সিটিজন হয়েও নতুন করে ম্যাজিকের প্রাইভেট টিউশান নেন।মানে উনি ছাত্র,ম্যাজিক শেখেন। এই যে একটা পজিটিভ প্রাণশক্তি। পরান বন্দ্যোপাধ্যায় কমেডি সিরিয়াস দুই অভিনয়ে এই ছবিকে অনেকটা এগিয়ে দিয়েছেন।যিনি সেতুবন্ধন করেছেন বসুন্ধরা-রাজার ভালোবাসার হেঁশেলে। সারা শরীর দিয়ে জাত অভিনেতারা অভিনয় করেন ওনাকে দেখলে মালুম হয়। স্লো ছবি এটি নয় তার বড় কারন কমেডি আছে ছবিতে প্রচুর। যা দর্শকদের চোখ ফেরাতে দেয়নি আর যদি থাকে পরান বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো অভিনেতা। আহা রে সিনেমা রিভিউআরেকজন মুম্বাইয়ের অভিনেতা অনুভব পালকে আমরা এ ছবিতে কমেডিয়ান চরিত্রে পেলাম। হিন্দি বাংলা মিশিয়ে দারুন মজার অভিনয় করেছেন। এই অনুভবকে ব্যবহার করাও রঞ্জনের একটি পারদর্শিতা যা খরাজ কাঞ্চন দের ব্যবহার করলে এক্সপেক্টেড ক্লিশে লাগত। অনুভব পাল এখানে নতুনত্ব শুভর বন্ধু রূপে। আরেকটি ছেলের কথা না বললেই নয় , নবাগত শুভ্রশঙ্খ দাস। যাকে ছবিতে ব্যবহার করে ঝিনুক খুঁজে মুক্ত আনলেন রঞ্জন ঘোষ। শুভ্র থিয়েটারের ছেলে। তমাল রায়চৌধুরীর গ্রুপে নাটক করে তারপর মুম্বাই নাটকে যোগ দেয় সেখান থেকে আবার এই বাংলা ছবিতে নবাগত রূপে অভিষেক। ঋতুপর্ণার ভাইয়ের চরিত্রে শুভ্র পারফেক্ট। ঋতু ও পরান বাবু দুজন দাপুটে শিল্পীর সঙ্গে অভিনয়ে সমান তালে তাল দিয়ে গেছে শুভ্র মনে হয়নি সিনেমায় নবাগত। দীপঙ্কর দে ও শকুন্তলা বড়ুয়া বেশ সুন্দর। রাজার বাবা মা। ছবির শেষে পিতাপুত্রর অভিমান ভাঙছে। অমৃতা চট্টোপাধ্যায় ছোটো পরিসরে করলেও খুব স্মার্ট সপ্রতিভ অভিনয় করেছেন।দেখতেও সুন্দর লেগেছে।শাহিদা অমৃতা- রাজা শুভ কেমিস্ট্রি বেশ। রয়েছে আরো চমক।

‘আহা রে’ সম্পাদনা করেছেন রবিরঞ্জন মৈত্র। ক্যামিও রোলে অভিনয়ও করেছেন। সঙ্গীত স্যাভি। গীতিকার আস্কর আলি পন্ডিত এবং শুভদীপ কান্টাল। ছবিতে স্থান পেয়েছে রবি ঠাকুর থেকে কাজী নজরুল এর সৃষ্টি। দারুন আবৃত্তিতে মাত করেছেন ঋতু, পরান, শুভ্র যেটা আবৃত্তি মনে হয়নি ওদের লড়াই থেকে আলোর সন্ধানের বার্তা যেন।অভিনয় প্রস্তুতি সোহাগ সেন। ঋতুপর্ণ ঘোষের ‘দহন’ র পর দ্বিতীয় এই বাংলা ছবি ‘আহা রে’ তে চিত্রগ্রহন করেছেন হরি নায়ার। ঈষান মিত্র, অর্ক মুখার্জ্জী,সোমলতার গান গুলো বেশ। অভিনেত্রী অলকনন্দা রায়ের মায়াভরা কন্ঠ ছবিতে দারুন ভাবে ব্যবহার করেছেন রঞ্জন।

তবে ছবিটা আরেকটু ছোটো করা যেত। আরেকটু কমপ্যাক্ট হত। কিন্তু কোনো দর্শক বোর হবেন না ভালো অভিনয়, চিত্রনাট্য, মুক্তমনা গল্প আর যে কোনো অন্যমনা দর্শকেও চাঙ্গা করে দিতে পারে পরান বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিনয় টাইমিং,সেন্স অফ হিউমার। ছবিটা দেখলে ঠকবেন নাহ এটুকু বলতে পারি। একটা ফিল গুড এফেক্ট পাবেন হল থেকে বেরনোর সময়। বাঙালী ঘরানার ছবি কটা হয়? এ ছবিতে অহেতুক মদ্যপানের বাড়াবাড়ি,স্মোকিং,খিস্তি,বেড সিন,চুম্বন দৃশ্য যেগুলো এখনকার বাংলা ছবির চাহিদা ভাবে লোকে সেসবের থেকে হাজার গুন সরে এসে একটা ছবি বানানোর পথে হেঁটেছেন পরিচালক রঞ্জন ঘোষ ও ঋতুপর্ণা। ছবির যা রিভিউ দিলাম এটুকু পড়লেই কিন্তু হবেনা ছবিতে আছে হরেক চমক যার জন্য প্রেক্ষাগৃহে যেতে হবে। ছবিতে একটা টুইস্ট আছে যা বলব না যেটার জন্য ছবিটা মুক্তমনা বার্তা দিতে পেরেছে।

যত্ন করে বানানো বাঙালীয়ানা ভরপুর ছবি দেখে বলতেই হয় ‘আহা রে’।

লেখক শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়।