লাল বাহাদুর শাস্ত্রী মৃত্যুর রহস্য নিয়ে আসছে দ্য তাশকিন ফ্লাই !

দ্য টাশকিন ফ্লাইস

ভারতবর্ষ নামক দেশটা যদি নেহেরু-গান্ধির হয়, তবে লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর হবে না কেন? দেশ জুড়ে যখন লোকসভা ভোটের মরসুম তুঙ্গে, তখন বোধহয় এই পুরোনো খোঁচাটা খুব প্রয়োজনিয় ছিল! সিনেমা যদি জণগণকে ইনফ্লুয়েন্স করার অন্যতম মাধ্যম হয়, তবে এই সুযোগটা কোনো মতেই ছাড়তে চাইলেন না পরিচালক বিবেক রঞ্জন অগ্নিহোত্রি। ছবির নাম দ্য টাশকিন ফ্লাইস। জি স্টুডিও এবং বিবেক অগ্নিহোত্রি ক্রিয়েটস প্রডিউসড এই ছবির ট্রেলর রিলিজ করে গেছে! রিলিজ ডেট আসন্ন। আগামি বারোই এপ্রিল দর্শকের সামনে আসতে চলেছে ছবি। ট্রেলর দেখে যেমনটা বোঝা যায়, ছবিটি কোনো এক ডিরেক্টরের একপেশে দেশভক্তি আর থ্রিলারের মিক্সচার আর কী! মিঠুন চক্রবর্তী, নাসিরুদ্দিন শাহ, শ্বেতা বসু প্রসাদ, পল্লবী জোশি, রাজেশ শর্মা, মন্দিরা বেদি, পঙ্কজ ত্রীপাটি, মানে যাকে বলে একঝাঁক তারকার চাঁদের হাট হতে চলেছে এই ছবি! বেশ অনেকদিন পরে মিঠুন চক্রবর্তী বলিউড ছবিতে ফিরছেন, সে বিষয়ে উন্মাদনা ফ্যানদের মধ্যে স্বাভাবিক। মন্দিরা বেদির স্ক্রীন উপস্থিতি ট্রেলরে একটা চমকের মতো… তবে যদি এখন বিচার করতে বসতে হয়, কেমন হলো ছবির ট্রেলর, তবে খুব বেশী মুগ্ধবোধ রাখা যায় না… মিঠুন ফ্যানদের অনেক আশাতে জল পড়ে যেতে পারে, কিন্তু তবে এ কথা বলতে গেলে বেশী ভাবতে হয় না, ট্রেলরে ভীষণ অতি নাটকিয় লেগেছে তাকে! লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর সন্দেহজনক মৃত্যু কী স্বাভাবিক মৃত্যু নাকি কোল্ড ব্লাডেড খুন? এই বিষয় নিয়েই ছবির মূল রহস্য। ট্রেলরে যত টুকু সময় নাসিরুদ্দিন শাহ কে দেখা যায়, তাতে তিনি বরাবরের মতো চমকে দেন… এত সাবলীল ভাবে একটা ডার্ক থ্রিলারের চরিত্রকে এমন করে ফুটিয়ে তুলতে আর কেউ বোধহয় পারতেন না! আর তার পাশেই যখন মিঠুন চক্রবর্তীর বিষয়ে কথা বলতে হয়, তখন তাকে নিতান্ত ফিকে লাগে! লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর মৃত্যু কী ভাবে হলো? কেন রহস্যজনক মৃত্যুর পরেও কোনো এনক্যোয়ারি কমিশন বসানো হয় নি দেশের তরফে? ভারতবর্ষের প্রধানমন্ত্রীকে খুন করার পিছনে ঠিক কী উদ্দেশ্য ছিল? লার বাহাদুর শাস্ত্রী কী নেতাজী সুভাষের বিষয়ে এমন কোনো তথ্য জানতে পেরেছিলেন যে তাকে পৃথিবী থেকেই সরিয়ে দেওয়া হলো? এই সব প্রশ্ন বার বার করেই উঠে এসেছে ছবির ট্রেলরে। তবে ভোট উশকানি ছাড়া এই সময়ে দাঁড়িয়ে এই ছবি কী আদতেই খুব প্রয়োজন ছিল? এই প্রশ্ন বার বার করেই মনের মধ্যে উঠে আসে। ছবির মূল বিষয়বস্তু ট্রেলর দেখলে মোটামুটি জানা যায়, তবে পরিণতিটা আসলেই কী? পরিণতি কী আদতেই আছে? এই সব প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার জন্য ছবিটা দেখে ফেলতে হবে। ছবি রিলিজ না করা পর্যন্ত ছবি বিষয়ে মন্তব্য করা যুক্তিগত নয়, তবে কী হবে তাশকিন ফ্লাই-এর পরিণতি, দর্শকদের কতটা কাছের হবে এই ছবি? প্রশ্ন থেকেই যায়… উত্তর দেবে হল রিলিজ।