ভারতমাতার বীর সন্তানরা এবার সেলুলয়েডের পর্দায় !

দেশাত্মবোধক

ময়টা ১৮৯৭ সালের এপ্রিল মাস। পরাক্রমী ব্রিটিশ শক্তি তখন তৎপর আফগানিস্তানকে তাদের উপনিবেশে পরিণত করতে। এই মর্মে বারংবার আফগানদের উপর হামলা চালাতে থাকে তারা। অন্যদিকে সেই বছরই এপ্রিল মাসে থার্টি সিক্স রেজিমেন্ট নামে ২১ জনের শিখ সেনার একটি দলকে ভারত আফগান সীমান্তের গুলিস্তান দূর্গে পাঠায় ব্রিটিশ সরকার। ব্রিটিশ শাসনাধীন ভারতে সীমান্ত সুরক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল গুলিস্তান দূর্গটি। বারবার হওয়া ব্রিটিশ হামলার বদলা নিতে পাস্তুন ওরাকযাই নামে আফগানি একটি উপজাতি তখন আক্রমন করে বসে এই দূর্গটিতে। ১৮৯৭ এর ১২ সেপ্টেম্বর শুরু হয় ২১ জন শিখ সৈন্য বনাম প্রায় ১০ হাজার আফগান সেনার সেই অসম লড়াই। বর্তমানে পাকিস্তানে অবস্থিত হিন্দুকুশ পর্বত সংলগ্ন সারাগড়হি গ্রামের এই ফোর্টকে কেন্দ্র করে হওয়া এই যুদ্ধ ভারত তথা পৃথিবীর ইতিহাসে ‘ব্যাটল অফ সারাগড়হি’ নামে পরিচিত। ইউনেস্কোর পক্ষ থেকে বিশ্বের ইতিহাসে উল্লেখ্য আটটি যুদ্ধের মধ্যে একটি ধরা হয় এই যুদ্ধটিকে। এই অসম যুদ্ধের পরিনতি হিসেবে বীরের মৃত্যু বরণ করে হাবিলদার ঈশর সিং এর নেতৃত্বাধীন থার্টি শিক্স রেজিমেন্ট। নিহত হয় ১৮০ জন আফগান সৈন্য, আহতের সংখ্যা তারও বেশি। সাময়িক ভাবে ফোর্টটি আফগানরা দখল করতে সক্ষম হলেও দুদিন এর মধ্যে বিশাল সৈন্যবাহিনী নিয়ে স্থানটি পুনরুদ্ধার করে ব্রিটিশ সরকার। যুদ্ধে নিহত শিখ সেনাদের সম্মানিত করা হয় ব্রিটিশ সরকারের সর্বোচ্চ সেনা সম্মান ভিক্টোরিয়া ক্রস এর মাধ্যমে।কেশরী ট্রেলার রিভিউ একনজরে সিনেমাটোগ্রাফি বেশ নজরকারাভারতীয় ইতিহাসের বহুল চর্চিত ব্যাটল অফ সারাগড়হিকে এবার সেলুলয়েড এর পর্দায় তুলে ধরতে চলেছে ধর্ম প্রোডাকশনস। সিনেমার নাম ‘কেশরী’। সিনেমায় ঈশ্বর সিংয়ের ভূমিকায় রয়েছেন অক্ষয় কুমারপরিণীতি চোপড়া ও ‘মেইনে পেয়ার কিয়া’ খ্যাত ভাগ্যশ্রী পটবর্ধনও রয়েছেন এই ছবিতে। রাকিব(২০০৭) এর পর প্রায় একযুগ পরে ‘কেশরী’ এর হাত ধরে বলিউডে কামব্যাক করতে চলেছেন পরিচালক অনুরাগ সিং। ‘জাট অ্যান্ড জুলিয়েট’ ফ্র্যাঞ্চাইজ, পাঞ্জাব ১৯৮৪ এর মত হিট পাঞ্জাবি ছবির পর বলিউডে তার নতুন ইনিংস শুরুর পথে পরিচালক অনুরাগ সিং। ছবিতে মিউজিক দিয়েছে জি মিউজিক স্টুডিও। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে কেশরী’র ট্রেলার। একনজরে সিনেমাটোগ্রাফি বেশ নজরকারা লাগলো। ১৮৯৭ এর সময় ও তার সাথে সীমান্ত এলাকার শুস্ক জীবনধারার ছবি তুলে ধরার বিশেষ চেষ্টা দেখা গেল তিন মিনিটের ট্রেলারে। দেশাত্মবোধক ভাব সমৃদ্ধ কথা ও সুরের মাধ্যমে ছবিটিকে বানিজ্যিক করার চেষ্টা করা হয়েছে। অ্যাকশন এই ছবির অন্যতম মুখ্য চরিত্র। বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়েই বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে অ্যাকশনগুলি ডিজাইনের ক্ষেত্রে। অনুরাগ সিংয়ের পাঞ্জাব ১৯৮৪-এ দেখানো আকশন সিকোয়েন্সে রিয়েলিস্টিক ভাবটি স্পষ্ট ছিল। সেই প্রচেষ্টা এবারেও ভীষণভাবে করেছেন বলেই মনে হল ট্রেলারটি দেখে। এছাড়া সেই সময়ে বন্দুকের পাশাপাশি হ্যান্ড টু হ্যান্ড অ্যাকশন বিশেষ গুরুত্ব পেত। সেদিক মাথায় রেখেই একটি দৃশ্যে তলোয়ারের ব্যবহারও দেখা গেল।দেশাত্মবোধক সিনেমা অ্যাকশনের কথা মাথায় রেখেই দৃশ্যে তলোয়ারের ব্যবহার দেখানো হল।ছবির সংলাপ রচনায় সেক্যুলারিজম গুরুত্ব পেয়েছে। পাশাপাশি শেষ কিছু ছবির মত অক্ষয় কুমারের এই ছবির সংলাপেও দেশভক্তির বিষয়টি নজরে পড়েছে। ছোট্ট একটি প্রেম কাহিনি ও কিছু হিউমার পূর্ণ সংলাপ ছবিটির ‘মাস অ্যাপিল’ বাড়িয়ে তুলেছে। তবে ছবির ভি.এফ.এক্স এর দিকটি একটু হলেও হতাশ করেছে। আসন্ন ২১ মার্চ দোলের দিন মুক্তি পেতে চলেছে কেপ অপ গুড ফিল্মসের সহ প্রযোজনায় নির্মিত ‘কেশরী’। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য এই একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছবি নির্মানের কথা ঘোষণা করেছে ‘সন অফ সর্দার’ ফ্র্যাঞ্চাইজ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here