যুগে যুগে ব্যোমকেশ !

ব্যোমকেশ আকর্ষণ

ফেলুদা না ব্যোমকেশ? বাঙালির চিরন্তন তর্কে বার বার জয়ী হয় ফেলুদা। কিন্তু ব্যোমকেশ হল সবথেকে স্বতন্ত্র একটা চরিত্র৷ বাঙালি, চোখে মোটা চশমা আর ধুতি নিয়ে নেমে পড়েন রহস্য সমাধান করতে।

সাহিত্যরসিক তো বটেই সিনেমাপ্রেমীদের কাছেও ব্যোমকেশ খুব কাছের এবং প্রিয় চরিত্র। ব্যোমকেশের আকর্ষণ থেকে বেরোতে পারেনি বড় বড় পরিচালকরাও৷ স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে কোনটা সেরা?

১৯৬৭ তে চিড়িয়াখানা সিনেমাকে সত্যজিৎ রায়ের অন্যতম দূর্বল সিনেমা হিসাবে বিবেচনা করা হয়৷ কিন্তু সিনেমার পর্দায় ব্যোমকেশকে তিনিই চিনিয়েছিলেন। প্রকৃত খুনি অনুধাবন করাটা দর্শকের কাছে খুব একটা কঠিন ছিল না কিন্তু উত্তমকুমারের অভিনয় সবার মন জয় করেছিল। এরপর আমরা সোজা চলে যাবো ১৯৯৩ তে। যখন বাসু চ্যাটার্জি টিভির পর্দায় নিয়ে এলেন ‘রাজিত কাপুরব্যোমকেশকে৷ অনেকে ভাবেন এটাই সবথেকে সেরা ব্যোমকেশশরদিন্দু বন্দোপাধ্যায়ের উপর খুব বেশি কাটাছেঁড়া করেননি৷ কিন্তু অভিনয় দিয়ে মন জয় করে নিলেন রাজিত কাপুর

ব্যোমকেশ বক্সী

এরপর কয়েকটা সিনেমা বা টিভিতে ব্যোমকেশ এলেও ঝড়টা শুরু হয় ২০১০ এ। সেই থেকে ব্যোমকেশ ঝড়ে বাঙালি এখন আক্রান্ত। টালিগঞ্জের হিট ফর্মুলা হয়ে গেল শরদিন্দুবাবুর চরিত্রটি। অঞ্জন দত্তআবির চট্যোপাধ্যায়কে ব্যোমকেশ বানালেন৷ হ্যান্ডসাম ব্যোমকেশকে নতুন প্রজন্ম লুফে নিল। সাথে যোগ হল নীল দত্তের দারুন অরিজিনাল স্কোর আর শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় ন্যারেটর হিসাবে। স্বাধীনতার সময়টা হয়ে গেল সত্তর দশকের অশান্ত সময়৷ কাজে লেগে লেগ অঞ্জন বাবুর ব্যোমকেশ। তখন বাঙালি ব্যোমকেশ বলতে আবিরকেই চেনা শুরু করল৷

ইতিমধ্যে কয়েকটা ধাক্কা টালিগঞ্জ আর মুম্বাইতে চলে এসেছে। দিবাকর ব্যানার্জী ব্যোমকেশকে বানালেন নিজের মত করে। শুধু চরিত্রটুকু নিলেন কিন্তু গল্প আলাদা। অনেকটা গাই রিচির হোমসের মত৷ কিন্তু রক্ষনশীল বাঙালি তা মানতে পারেনি৷ কিন্তু দিবাকর ব্যানার্জী যে জবরদস্ত সিনেমা বানালেন সে বিষয়ে সন্দেহ নেই৷

ডিটেকটিভ ব্যোমকেশ বক্সী
ডিটেকটিভ ব্যোমকেশ বক্সী

এরই মাঝে ধৃতিমান চ্যাটার্জী ‘সজারুর কাঁটা’তে বয়স্ক ব্যোমকেশ হলেন৷ ভালো সিনেমা কিন্তু দর্শক খেল না! হ্যান্ডসাম আবিরকে ছেড়ে বুড়ো ব্যোমকেশ কি কেউ খাবে?

হর হর ব্যোমকেশ

এইবার রানা কৌস্তভ প্রোডাকশন হাউস থেকে বার হয়ে ভেঙ্কটেশে ঢুকে পড়ে ব্যোমকেশ৷ আবার সেই আবির। শুধু ডিরেক্টর পালটে গেল৷ অরিন্দম শীল ব্যোমকেশকে করলেন আরো ঝা চকচকে। দুর্দান্ত ক্যামেরা ও সুরে হর হর ব্যোমকেশ দর্শক চেটেপুটে খেলো। যদিও ব্যোমকেশ পর্ব আশানুরুপ হয়নি বলেই মনে হয়৷

ইতিমধ্যে টুক করে সব্যসাচী পুত্র গৌরব ব্যোমকেশ হয়ে মুখ দেখান এবং যথাসাধ্য চেষ্টা করেন৷ অঞ্জনবাবু যীশুকে ব্যোমকেশ করলেন৷ তিনিও চেষ্টা করছিলেন৷ কিন্তু ব্যোমকেশে বাঙালির যখন একঘেয়েমি আসছিল তখনই সায়ন্তন ঘোষাল হইচইতে নিয়ে এলেন ওয়েব সিরিজ ব্যোমকেশ।

আর এবার ব্যোমকেশ হলেন অনির্বাণ ভট্টাচার্য্য । আবিরের মত তিনি অত হ্যান্ডসাম না হলেও ডার্ক হ্যান্ডসাম তো বটেই। এই ব্যোমকেশ এবার অনেকটা সিরিয়াস এবং টানটান । দর্শক প্রথম থেকেই ঢুকে যায় গল্পে এবং কালপ্রিট খুঁজতে থাকে৷ ব্যোমকেশের ক্যারিশ্মা এখানে উহ্য করা হয়েছে। আর সেটাই অনির্বাণকে আকর্ষিত করেছে বেশি৷ জেন এক্স অনির্বাণকে দরাজ সার্টিফিকেট দিতে রাজী। আপনি কাকে দেবেন?

ব্যোমকেশবক্সী অনির্বাণ ভট্টাচার্য

Writen By – শোভন নস্কর