এক ভয়ানক নৃশংস ছবি ‘শিল্পান্তর’ !

শিল্পান্তর

দেবশ্রী রায় গ্রামে গ্রামে সার্কাসে খেলা দেখাতো, খুব দরিদ্র জীবন, শুধু ভাত খেতো। অথচ খেলা দেখানোর সময় সে সাপ নয়, জ্যান্ত মুর্গী ছিঁড়ে রাক্ষসের মতো রক্ত খেতো। একের পর এক ভয়ংঙ্কর দৃশ্য এই ছবিতে। অবশ্যই ছবিতে যে চরিত্রটি করেন দেবশ্রী। অমানুষিক দুঃসাহসিক একটি চরিত্র করেন দেবশ্রী সঙ্গে শুভাশীষ মুখোপাধ্যায়ের অনবদ্য অভিনয়। দেবশ্রী তো মূলধারার ছবিতে জাতীয় পুরস্কার পাওয়া আবার বানিজ্যিক ছবির বিগ বিজেট নায়িকা কিন্তু শুভাশীষ সে সময় মশলা ছবিতে কমেডিয়ান ভাঁড়ের রোল করে করে ক্লান্ত শ্রান্ত। অনুপ কুমার কে যেমন তরুন মজুমদার ‘পলাতক’ ছবির নায়ক করে খোলা আকাশ দেন তেমনি বাপ্পাদিত্য বন্দ্যোপাধ্যায় শুভাশীষ মুখোপাধ্যায়কে প্রথম মূলধারার ছবিতে বড় চ্যালেঞ্জিং কাজের সুযোগ দেন। ১৯৯৯ সালে ‘সম্প্রদান’ ছবি দিয়েই বাপ্পাদিত্যর ফিল্মি কেরিয়ারে হাতেখড়ি৷ ইন্দ্রাণী, কুনাল, সব্যসাচী, অনসূয়া, অদিতি অভিনীত। শিল্পান্তর বাপ্পাদিত্য বন্দ্যোপাধ্যায়এরপর শিল্পান্তর ছবির মধ্যে দিয়ে সকলকে চমকে দেন বাপ্পাদিত্য বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর ‘কাঁটাতার’ ও ‘কাল’ ছবিটিও সাড়া ফেলে দর্শক মহলে ৷ কিন্তু অকাল প্রয়াণে স্বর্গীয় হন পরিচালক বাপ্পাদিত্য। শুভাশীষ মুখার্জ্জী বলেন ‘‘বাপ্পাই আমাকে মূল ধারার ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ দিয়েছিল প্রথম। যদিও আমি ওর চেয়ে বয়সে অনেকটাই বড়, তবুও বাপ্পা কখনও আমাকে দাদা বলত না। বলত শুভাশিস, আপনি! পুরুলিয়ার তখন আমরা ‘শিল্পান্তর’ এর শ্যুটিং করছি। একটা চড়ক মেলার দৃশ্যের শ্যুটিং করছিলাম। মানুষের পিঠের চামড়ায় লোহার আংটা গেঁথে তাকে শূন্য ঝুলিয়ে দেওয়ার দৃশ্যটা টেক করতে চেয়েছিল বাপ্পা। এই কষ্টদায়ক ব্যাপারগুলো একেবারেই সহ্য করতে পারি না। বাপ্পা আমার আপত্তি শোনেনি। দৃশ্যটায় অভিনয় করিয়েই ছেড়েছিল। শিল্পান্তর অচেনা দেবশ্রীশীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের কাহিনী অবলম্বনে ‘শিল্পান্তর‘ তৈরী হয়। এক অচেনা দেবশ্রী এক অচেনা শুভাশীষ। এছাড়াও সদ্য প্রয়াত বর্ষীয়ান অভিনেতা বিপ্লবকেতন চক্রবর্তীর অসাধারন চরিত্রয়ান হয় এ ছবিতে। আমরা সবাই যে বিপ্লবকেতন কে চুনী পান্নার চুনী বলে চিনি তিনি ‘শিল্পান্তর’ র মতো ছবি করেছেন যেটা অনেকেই জানেনা।

শিল্পান্তরশিল্পান্তর এক গন্ড গ্রামের পটুয়ার ও সার্কাস খেলোয়ার মহিলার গল্প। পটুয়া শুভাশীষ সুন্দর ছবি মূর্তির চেয়ে অসুন্দর জিনিস বানাতেই বেশী আকৃষ্ট। সে বিয়ে করে সার্কাস পারর্ফমারকে যে জীবন্ত সাপ মুরগী খায়। বিয়ের পর পটুয়া সার্কাস খেলোয়ার বউকে জিজ্ঞেস করে সে কি ভাবে জ্যান্ত সাপ মোরগ খায়। সেই কৌশল শেখাতে বলে। সেই কৌশল বউ শেখালে পটুয়া বউয়ের চেয়েও আরেক ধাপ এগিয়ে নিজের হাতের আঙ্গুলটাই খেয়ে ফেলে। এক ভয়ানক নৃশংস ছবি ‘শিল্পান্তর‘। কোথাও আবার মন ছুঁয়ে যায়। অসাধারন পোশাক মেক আপ সঙ্গে পুরুলিয়ার গ্রামের ধু ধু প্রান্তর। বাপ্পাদিত্য বিপ্লবকেতন আজ দুজনেই প্রয়াত কিন্তু তাঁদের এই সৃষ্টি মনে রাখার মতো। ২০০২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘শিল্পান্তর‘। আসুন দেখে নি ছবির দৃশ্য ও সেইসময় প্রিমিয়ারের বিরল ছবি। প্রিমিয়ারে উপস্থিত বিপ্লবকেতন চক্রবর্তী, বাপ্পাদিত্য বন্দ্যোপাধ্যায় ,শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় ও দেবশ্রী রায়।শিল্পান্তর প্রিমিয়ারের বিরল ছবি