বাংলা ছবির কাজললতা !

কাজল

শরতের শিউলি হয়ে আজকের দিনেই 22 শে অক্টোবর ঝরে গেছিলেন মাত্র ষাটেই খ্যাতনামা অভিনেত্রী কাজল গুপ্ত।তখন 1996 সাল ঋত্বিক ঘটকের ‘অযান্ত্রিক’ দিয়ে যিনি দর্শকের চোখে পড়েন ছবিতে প্রথম আসেন। এরপর আরও দুরন্ত ছবি ‘কাঁচের স্বর্গ’। জতুগৃহ তে এক সাধারন বউ, এক সহজ কেরানি অনিল চ্যাটার্জ্জীর। ছোটো সংসার অর্থ কম থাকলেও পরম শান্তির ঠিকানা গড়ে তুলেছিল যে লক্ষী। বসন্ত বিলাপের ভূগোল দিদিমনি থেকে মর্জিনা আবদাল্লা র চতুর চাচি। অজস্র ধন্যবাদ ছবিতে সন্তানের চেয়েও সঙ্গীত সাধনায় মত্ত মা।আবার অমর কন্টক র মমতাময়ী মা।যাকে ভেবেই কিশোর কুমারের সুপারহিট মাদারস্ গান ” তুমি মা আমাকে পৃথিবীর এই আলো দেখিয়েছিলে”প্রফুল্ল সুচিত্রা সেনকে দেবী চৌধুরাণী করে তোলার পেছনে একজন মূল কারিগর যে নিশি ওরফে কাজল গুপ্ত।’অগ্নিশ্বর’ ছবিতে সেই অসুস্থ মা যে নিজে হসপিটালের সব খাবার অভাবী ছেলেমেয়েকে না খাইয়ে নিজের মুখে তুলতে পারতেন না।অগ্নিশ্বর উত্তম কুমার যার জন্য তাকে বেশী খাবার দেবার ব্যবস্থা করে দেন।পরিচালক দীনেন গুপ্ত জায়া নায়িকা সোনালী গুপ্ত বসু জননী কাজল গুপ্ত। দীনেন গুপ্ত র ছবি গুলো আরো দর্শনাকুল্য পেত কাজল গুপ্তর স্মার্ট অভিনয়ে।কাজল গুপ্তর শেষ ছবি দেবশ্রী রায় নামভূমিকায় ‘নটী বিনোদিনী’ তে।সোনালী গুপ্ত কে ‘প্রথম প্রতিশ্রুতি’ তে শিখিয়ে পড়িয়ে চমৎকার অভিনয় করান নবাগতা নায়িকার চরিত্রে। সানাই,প্রিয়তমা আরো কত।কলকাতা দূরদর্শনে কাজল গুপ্ত অভিনীত ধারাবাহিক ‘বকুল বাসর’ চিরদিন স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

প্রথম ছবি তপন উত্তম জুটির ‘জতুগৃহ’ সিনেমা রিলিজের আগে প্রিভিউ ফটো। দ্বিতীয় ছবি কাজল দীনেন গুপ্ত র বিয়েতে হাজির সতীর্থ সত্যজিৎ রায়। এখানে দেখার জিনিস সত্যজিৎ রায় কিন্তু মূলধারার চিত্রপরিচালকদের কাজকে অসম্মান করতেন না। যা সত্যজিৎ ভক্তদের করা স্বভাব। তৃতীয় ছবি কাজল গুপ্ত ভাইঝি মন্দিরা মৈত্র র বিবাহে কনে ভাইঝিকে পাশে নিয়ে মেজপিসি কাজল গুপ্ত খাচ্ছেন। ছবিটি আমাদের দেখিয়েছিলেন মন্দিরা মৈত্র ওনার বিয়ের এলবাম থেকে।

প্রণাম এই লেজেন্ডারি অভিনেত্রীকে। বকুল বাসরে ভালো থাকুন কাজল।

Written By – শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়

ছবি সৌজন্যে – মন্দিরা মৈত্র