কার্যত বন্ধের মুখে বাংলার প্রচলিত ধারাবাহিকগুলো!

পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়ার অসামঞ্জস্যতায় মানুষের হালনাজেহাল হলেও বাঙালী দর্শকের ড্রয়িংরুমে একেবারেই হাল বেহাল হয়নি বাংলা ধারাবাহিকের। ঘরের বাইরে রোদ-বৃষ্টির লুকোচুরি যাই থাকুক না কেন, দর্শকদের মনোরঞ্জনের জন্য সবসময়ই তৎপর নানান স্বাদের বাংলা ধারাবাহিক। এপাড় বাংলা তো বটেই ওপাড় বাংলাতেও বেশ জনপ্রিয় স্টার জলসা, জি-বাংলার ধারাবাহিকগুলি। সন্ধ্যে হলেই বকুল, মহুল, অভয়ারা নির্দিষ্ট সময়ে হাজির হয়ে যায় টেলিভিশনের পর্দায়। তবে আগামীকাল থেকে আপনি টিভি খুললে নাও পেতে পারেন আপনার প্রিয় ধারাবাহিকটি। কারণ প্রযোজক-আর্টিস্ট ফোরামের দ্বন্ধে বন্ধ রয়েছে টলিপাড়ার শুট্যিং।অভিযোগ উঠেছে, ইদানিং সময়মতো টাকা পাচ্ছেন না অভিনেতা অভিনেত্রীরা। তার উপর ওভারটাইম করেও টাকা পাননি। আর সেই কারণেই ধর্মঘট করতে বাধ্য হয়েছেন আর্টিস্ট ফোরামের একাংশ। চ্যানেল কর্তৃপক্ষগুলি জানিয়েছে, ধারাবাহিকের অসম্প্রচারিত পর্ব প্রায় নেই, সবই সম্প্রচারিত হয়ে গেছে। ফলে খুব শীঘ্রই শুট্যিং চালু না হলে সোমবার থেকে বন্ধ হয়ে যেতে পারে বহু ধারাবাহিকের সম্প্রচার।

শনিবার সকালে বকেয়া মেটানোর দাবিতে বিভিন্ন স্টুডিওয় অভিনেতারা হাজির হলেও কাজে যোগ দেননি। এর জেরে সকাল থেকেই ভারতলক্ষ্মী স্টুডিও সহ অন্য স্টুডিওয় মেগা সিরিয়ালের কাজ বন্ধ রয়েছে। মাসখানেক আগে টালিগঞ্জের প্রযোজক ও অভিনেতা-কলাকুশলীদের মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছিল। চুক্তি অনুযায়ী কলাকুশলীদের বেতন বাড়ে ৪০ শতাংশ। তাঁদের কাজের সময় বেঁধে দেওয়া হয় ১২ ঘন্টা। অভিনেতাদের কাজের সময় ১০ ঘন্টা নির্ধারিত হয়। চুক্তিতে অভিনেতাদের বকেয়া টাকা মেটানোরও আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু এই চুক্তি সঠিকভাবে মানা হচ্ছে না এবং তাঁদেরকে চুক্তির কোনও লিখিত দস্তাবেজ দেওয়া হয়নি বলে দাবি অভিনেতা সংগঠনের। চুক্তি অনুযায়ী জনপ্রিয় কিছু অভিনেতাদের বকেয়া টাকা মেটানো হলেওঅন্যান্য অভিনেতাদের এখনওবকেয়া মেটাননি প্রযোজকরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ময়দানে নেমেছেন অভিনেতা প্রসেনজিত চট্টোপাধ্যায়। বুম্বাদার আগমনে টলিপাড়ার পরিস্থিতি কতটা সচল হয় সেটাই এখন দেখার বিষয়।