ঋতুপর্ণকে ফিরিয়ে দিক জেষ্ঠপুত্র !

ঋতুপর্ণ

ঋতুপর্ণ ঘোষ আর কৌশিক গাঙ্গুলীর অদ্ভুত সখ্যতা ভুলে যাওয়ার নয়। বয়েসের খুব বেশী ফের না থাকলেও ইন্ডাস্ট্রীতে কিছুদিন পরে হাত মকস করার জন্যই বোধহয় শেষ দিন পর্যন্ত অনুজ গুণীর স্নেহ ঋতু দার থেকে চীরকাল পেয়ে এসেছেন কৌশিক। এ যেন ঠিক অপর্ণা সেন-ঋতুপর্ণ ঘোষের নিজস্ব সম্পর্কের এক অদ্ভুত পুনরাবৃত্তি! ঋতুপর্ণর জীবনে কৌশিক গাঙ্গুলীর আর একটা ভূমিকা ঋতুকে বাঙালীর মনে চীরদিনের মতো সোনালী ফ্রেমে ধরে দিয়েছে! ঋতুপর্ণ যে অভিনেতা, এবং যেমন তেমন নয় বেশ বিশ্বমানের জাত অভিনেতা, কৌশিকের আগে সে কথা কেউ তেমন ভাবে তলিয়ে দেখেনি। কৌশিক গাঙ্গুলীর আর একটি প্রেমের গল্প ছবি দিয়েই দর্শকের কাছে অভিনেতা ঋতুর প্রথম আত্মপ্রকাশ। আর বাকিটা ইতিহাস….আর একটি প্রেমের গল্প যে বাঙলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রীর অন্যতম গথ ভাঙা ছবি, সে কথা একবাক্যে স্বীকার করে নেওয়া যায়। ঋতুপর্ণ-কৌশিকের অদ্ভুত বোঝাপড়া ছাড়া সেটা বোধহয় খুব একটা সম্ভব ছিল না। কিন্তু সময় এই কেমিস্ট্রির আরো ফসল দর্শকের কাছে পৌছে দেওয়ার খুব বেশী সুযোগ ঋতুপর্ণকে দিল না। বেশ কয়েকটা বছর হয়ে গেল, ঋতুপর্ণ ঘোষ নামটা শুধু মানুষের মনে একটা ভালো লাগার জায়গা আর ‘কাহিনী, চিত্রনাট্য, পরিচালনা’-স্লাইডে সোনার অক্ষরে লেখা নাম হয়ে রয়ে গেছে।

ঋতুপর্ণ আর আমাদের মধ্যে নেই। তবু তার কাজ রয়ে গেছে। রয়ে গেছে সেইসব মানুষ যারা পেয়েছেন তার সখ্যতা! কৌশিক তাদের মধ্যে অন্যতম। ধরা যাক না কেন, হয়তো আর একটি প্রেমের গল্পের সেট, শুটিং-এর ফাঁকে ঋতু আর কৌশিক কথা বলে চলেছেন নানা রকম, তারই মধ্যে কথায় কথায় একটা কাহিনীর ইন্দ্রজাল অনুজকে ভালোবেসে উপহার দিলেন অগ্রজ ঋতু, আর তারপর নানান কাজের ফাঁকে সকলেই বেশ ভুলে গেলেন সেই কাহিনী…. অগ্রজ যখন পৃথিবীতে অতীত তখন হঠাৎই আবার কোনো এক বিকেলে অনুজ কৌশিকের যদি সেই গল্পের ইন্দ্রজাল মনে পড়ে যায়? যদি বা স্ক্রিপ্টের দিস্তাখাতা খুলে বসে পড়েন, তবে কী হয়? না! বেশী ভাবতে হবে না, তবে জেষ্ঠপুত্রের মতো একটা ছবি তৈরী হয়! যার তৈরীর পিছনে অনেকটা কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি থাকে, লড়াই থাকে, আর সদ্য রিলিজ করা পোস্টারে থেকে যায় নক্ষত্রের মতো উজ্জ্বল এক নাম, ঋতুপর্ণ ঘোষ! হ্যাঁ ঠিক ধরেছেন, নগরকির্তনের মতো একটা মাস্টারপিসের পরে আবারো দর্শকের কাছে হয়তোবা অবাক করা এক বিস্ময় নিয়ে আসছেন ডিরেক্টর কৌশিক গাঙ্গুলী! ঋতুপর্ণ ঘোষের ভাবনার যারা পাগল ভক্ত, তাদের কাছে জেষ্ঠপুত্র হয়তো শুধু ছবি নয়, হারিয়ে পাওয়া আলোর মতো দামি কিছু… ছবির গল্প বিষয়ে ঋতুপর্ণের নাম ছাড়া আর সব কিছুই অজানা, তবে পোস্টার দেখে বোঝা যাচ্ছে, সম্পর্কের গল্প। এই একটা ক্ষেত্রে ঋতুপর্ণ যাদুকর ছিলেন! সেই যাদুর অপেক্ষা করবে দর্শক আবারো, তা নিয়ে বিশেষ বলার নেই। সুরিন্দর ফিল্মস ও এনআইডিয়াজ ক্রিয়েসান প্রযোজিত এই ছবিতে মূল ভূমিকাতে রয়েছেন ঋতুপর্ণের আর এক খুব কাছের মানুষ, প্রসেনজিত চ্যাটার্জি! সঙ্গতে কৌশিকের প্রিয় ঋত্বিক চক্রবর্তী… সব মিলিয়ে এত গুলো আলোময় নাম একসঙ্গে এসে, প্রত্যাশাটা অনেকটা বাড়িয়ে দেয় তাই না? সিনেমা হলে গিয়ে ঋতুপর্ণ ঘোষের ছবি দেখার সেই বিষ্ময়, আমেজ ফিরে পেতে মন চায়? তবে বেশী অপেক্ষা করতে হবে না, ছবি মুক্তি পাচ্ছে আগামী ষোলই এপ্রিল! ছবির সঙ্গে মুখোমুখি ধাক্কা অ্যাভেঞ্জারস: এন্ড গেম-এর! তবে তাতে কী খুব বেশী প্রভাব পড়বে? আসলে ভরসা একটা জায়গাতেই, ঋতুপর্ণ ঘোষকে যারা ভালোবাসেন তারা বোধহয় কোনো বাধাকেই বাধা বলে মানবেন না! সিনেমা হলে গিয়ে ঋতুকে ফিরে পাওয়ার এমন আশায় ভরা একটা সম্ভাবনা, তাও কী ছাড়া যায়!