কন্ঠ ভরে বাজতে থাকুক আলোতে আলোতে ঢাকা !

আলোতে

ভালো গানের সত্যিই কোনো নির্দিষ্ট সময় হয় না। বাঙলা গানের চাঁদ ফুল তারা মার্কা গঠন ভেঙে জীবনের কোন ছাকাছি, রোজকার বেঁচে থাকার কাছাকাছি নিয়ে আসার যে লড়াইটা শুরু হয়েছিল মোহিনের ঘোড়াগুলির সঙ্গে, আজ মৌসুমী ভৌমিক, কবির সুমন, অঞ্জন দত্ত, নচিকেতা চক্রবর্তী পেরিয়ে সেই লড়াই-এর সবচেয়ে খাঁটি প্দকাশ হয়ে দাঁড়িয়েছে বোধহয় অনুপম রায়ের গান। শিবপ্রসাদ-নন্দিতা জুটির নতুন ছবি কন্ঠর গান আলোতে আলোতে ঢাকা শুনতে শুনতে বারবার এই কথাটাই মনে হচ্ছিল। এই নিয়ে কন্ঠ ছবির দ্বিতীয় গন মানুষের কাছে পৌছে দিলেন নির্মাতা রা। সাহানা বাজপেই-এই কন্ঠে সবাই চুপ গানের যাদুতে যখন সবাই বুঁদ প্রায়, তখন অনুপমের গান আলোতে আলোতে ঢাকা যেন সেই উৎসাহে নতুন প্রাণ সঞ্চার করে। কন্ঠ ছবির মূল গল্পে রয়েছে একজন ক্যানসার আক্রান্ত, বাকশক্তি হারানো কণ্ঠশিল্পীর দৈনন্দিন লড়াই, অনুপমের কথায় সুরে এই গনটি যেন সেই যন্ত্রণার পূর্ণ প্রকাশ বের করে আনে। আসলেই যে কোনো শিল্প আমাদের কাছে তখনই প্রিয় হয়, যখন আমরা তার সঙ্গে নিজেদের সম্পুর্ণ সংযোগ ঘটাতে সক্ষম হতে পারি। কন্ঠ ছবির এই গান কেবল ছবির চরিত্রের কথাই বলে না, বারে বারে যেন আমাদের প্রত্যেকের বেঁচে থাকার লড়াইটা, আমাদের মানসিক যন্ত্রণাগুলোকে নগ্ন করে প্রকাশ করে ফেলে। এইখানেই বুধ হয় আলোতে আলোতে ঢাকা অনেক ভালো গানের থেকে একটু আলদা হয়ে, কাছের গান হয়ে যায়। সুরের অনুরণন সেই আপনভাবটা আর একটু কাছ থেকে মানুষকে আগলে ধরে কেবল। কন্ঠ ছবির বোধ, গুণাগুণ সম্পর্কে দর্শকের একটা অগ্রিম বোধ তৈরী করতে আলোতে আলোতে ঢাকা, গানটার একটা বিশাল ভূমিকা যে আছেই, তা অস্বীকার করা যায় না। আর তারজন্য অনুপম রায় অবশ্যই বাড়তি প্রশংসার দাবি রাখেন।