খুললো নতুন এসভিএফ সিনেমা একদম আপনার কাছে, কোথায় দেখে নিন!

মাল্টিপ্লেক্সের দৌরাত্ম্যে বিগত কয়েক বছরে কলকাতার বুক থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে একের পর এক সিনেমা হল। শুধু কলকাতাই নয়, মফস্বল অঞ্চলের ছবিটাও বেশ কিছুটা এক। সিনেমা হল বন্ধ হওয়ার খবর নতুন ঘটনা নয় কলকাতায়। গ্লোব, মেট্রো, এলিট সহ ধর্মতলা চত্বরে সম্প্রতি বন্ধ হয়ে গেছে পাঁচটি প্রেক্ষাগৃহ। দমদম চত্বরেও হল বন্ধের তালিকাটা বেশ লম্বা। লীলা, নেত্র, নরেন্দ্র, মৃণালিনী, চেতনা, শেলী হার মেনেছে আধুনিকতার কাছে। ঝাঁ চক চকে গদি ওয়ালা আসন, চোখ ধাঁধানো আধুনিকতার সঙ্গে পাল্লা দিতে না পেরে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে সিঙ্গেল স্ক্রিন সিনেমা হলগুলি। এর ফলে বেশ অনেকটাই আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে বাংলা সিনেমাকে।

বাংলা সিনেমার ক্যালেন্ডারে বিগত বছরগুলিতে চোখ রাখলে দেখা যাবে পুজোয় ছবি রিলিজের তালিকাটা ক্রমশই ঊর্ধ্বমুখী। কিন্তু সেই তুলনায় একের পর এক হলের ঝাঁপ বন্ধে প্রবল ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে নির্মাতাদের। কোনও সিনেমা পর্যাপ্ত হলই পাচ্ছেনা মুক্তিতে অথবা কোনও সিনেমা রিলিজের এক সপ্তাহের মধ্যেই নামিয়ে দিতে হচ্ছে নতুনকে জায়গা দিতে। ঠিক এমনই পরিস্থিতিতে বাংলা সিনেমাকে উদ্ধারে আবারও ময়দানে নেমে পড়ল এসভিএফ।

দক্ষিণ কলকাতার সংলগ্ন নরেন্দ্রপুরে প্রথম মুক্তি পেয়েছিল এসভিএফ সিনেমাস। নরেন্দ্রপুরের পর এবার বারুইপুরে যাত্রা শুরু হল এসভিএফ সিনেমাসের। সম্পূর্ণ শীততাপ নিয়ন্ত্রিত প্রেক্ষাগৃহে ডলবি ডিজিটাল সাউন্ড, থ্রিডি প্রজেকশন, ফুল এইচডি ছবি ছাড়াও প্রেক্ষাগৃহের সংলগ্নে রয়েছে আধুনিক রেস্তোরাঁ, সুপ্রশস্ত লবি, কফি শপের ব্যাবস্থাও। সম্প্রতি কলকাতা ছেড়ে বোলপুর, পুরুলিয়া, কৃষ্ণনগর, মগরা, শেওড়াফুলি, মেমারিতেও যাত্রা শুরু হয়েছে এসভিএফ সিনেমাসের, যার নবতম সংযোজন হতে চলেছে নোয়াপাড়া।

এসভিএফের অন্যতম কর্নাধার মহেন্দ্র সোনি জানিয়েছে পুজোর মরশুমের আগে আগামী দু-তিন মাসে জলপাইগুড়ি, কালনাতেও তাদের দুটি হল উদ্বোধনের পরিকল্পনা চলছে। আগামী ১০ই আগস্ট মুক্তি পেতে চলেছে বিরসা দাশগুপ্ত পরিচালিত ‘ক্রিসক্রস’, আর সেই উপলক্ষেই বারুইপুর শো হাউসে আয়োজন করা হয়েছে স্পেশাল স্ক্রিনিং-এর। এসভিএফ-এর হাত ধরে বাংলা সিনেমা আর্থিক দিক থেকে কতটা স্বাবলম্বী হয় সেটাই এখন দেখার বিষয়।