‘উনিশে এপ্রিল’ বাংলা ছবির বাঁক বদলের দিন !

তুপর্ণ যুগ শুরু হল। জাতীয় পুরস্কার মঞ্চে বাংলা ছবির ও নায়িকার জয়জয়কার। জাতীয় পুরস্কার নিয়ে চর্চা শুরু হল বাঙালীর। অন্দরমহল থেকে গোল টেবিল বৈঠক। কমার্শিয়াল ছবিতে নাচ গান করা একজন নায়িকা কি করে সেরা অভিনেত্রীর জাতীয় পুরস্কার পেতে পারে সেটাই অনেক দর্শক বিশ্বাস করতে পারেনি তখন সেটা দেখতেই ছুটেছিল প্রেক্ষাগৃহে। কিন্তু আমার তখন মনে হয়েছে দেবশ্রী রায় জাতীয় পুরস্কার কেন পেতে পারেননা! কারন দেবশ্রী রায় একজন পরিপূর্ন নায়িকা অভিনেত্রী। বলা যায় টলিউডের শেষ কিংবদন্তি নিঁখুত পরিপূর্ন অভিনেত্রী দেবশ্রী রায়। বানিজ্যিক ছবি যার ‘কলকাতার রসগোল্লা’, ‘আর কত রাত একা থাকব’, ‘বাজল রে ঘুঙরু’, ‘উঠতি বয়েস মেয়ে আমি যৌবনে তে সবে পড়েছি’, ‘বাজে ঢোল তাক ধিনা ধিন’ নাচে সুপারহিট হয় সেই দেবশ্রী মিঠু হয়ে জাতীয় পুরস্কারে সেরা অভিনেত্রীও হতে পারেন। যার বানিজ্যিক ছবি গুলো মোটা দাগের ছবি নয় বিশাল সুপারহিট। আবার ‘উনিশে এপ্রিল’, ‘দেখা’ র মতো মননশীল ছবি মাসের পর মাস হলে চলেছে। এতটাই ভার্সেটাইল নায়িকা দেবশ্রী।

দেবশ্রী অপর্ণা জুটি দুই নারীর জুটি ঋতুপর্ণ ঘোষের চিত্রনাট্য বাংলা ছবির বক্স অফিস বদলে দিল। ছবিটা স্বর্ণ কমল পুরস্কার পায়। অপর্ণা সেন সরোজিনী করে জাতীয় পুরস্কার না পেলেও চুমকী দেবশ্রীর পুরস্কার ও রজত কমল পুরস্কারে খুশী হন। মিঠু মেয়েই তো পেয়েছে। নব্বই দশকে নিম্নমানের বাংলা ছবির জগতে রুচিশীল বাঙালী গল্প বলল ঋতুপর্ণ। যে শিক্ষিত লোকরা বাংলা ছবি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল তাঁরা আবার টিকিট কেটে সিনেমাহলমুখী হল। ঋতুপর্ণ র প্রথম সুপারহিট ছবি ‘উনিশে এপ্রিল’। কিন্তু প্রথম ছবি ‘হীরের আংটি’। যা হল রিলিজ করেনি। তাই ঋতুর প্রথম সাফল্য ছিল ‘উনিশে এপ্রিল’। অপর্ণা সেনের অবদানও কম নয় একটা নতুন পরিচালক কে সাহস যোগাতে। ভবানীপুরের বিজলী সিনেমা হলে ‘উনিশে এপ্রিল’ দেখতে দর্শকের স্ত্রোত বয়ে গেছিল। একবার ঋতুপর্ণ অপর্ণা সেনকে বলেছিলেন “চল রিনাদি আমাদের ছবি আদৌ লোকে দেখছে কিনা দেখে আসি। “সেসময় এত আজকালকার মতো কাস্ট & ক্রু দের ছবি তুলে প্রচার করে হল ভিজিট প্রথা ছিলনা। ছবি টবির ওত প্রচার হতনা। তা আবার বাংলা ছবি। ক্যালিবার থাকলে ছবি নিজের জোরে চলত। আর ঐ মন্দার বাজারে। আরেকটা কথা বলার তখন বাঙালী হল বলতে মিনার, বিজলী, ছবিঘর, প্রাচী, দর্পণা, ভারতী, ইন্দিরা কেই জানত।

বিজলীর সামনে দাঁড়িয়ে ঋতুপর্ণ ‘উনিশে এপ্রিল’ র দর্শকের লাইন দেখে হতভম্ব হয়ে যান। তাঁর ছবি এত লোক দেখছে। ‘উনিশে এপ্রিল’ -এর লাইন দেখে, ঋতুপর্ণ ঘোষ অপর্ণা সেনকে বলেছিলেন “রিনাদি এই দর্শকদের ঋণ আমি কি ভাবে শোধ করব বল তো? আমি এই প্রতি দর্শকের বাড়ি গিয়ে তাঁদের বাসন মেজে দিয়ে আসব।”

এরকম কথা যেন ঋতুই বলতে পারতেন।