এই ছবি দেখতে গিয়ে পুরুষরা পড়েছিলেন এক মহা ফ্যাসাদে !

সুপ্রিয়া

“বিশ্বপিতা তুমি হে প্রভু,
আমাদের প্রার্থনা এই শুধু।
তোমারি করুণা হতে,
বঞ্চিত না হয় কভু। “

এই সলিল সঙ্গীত বাঙালীর বড়দিন যীশু পুজোর আইকনিক গান আজও। সলিল চৌধুরীর সুরে সবিতা চৌধুরীর চিরবিখ্যাত গান পীযুষ বসু পরিচালিত , ভয়েস এন্ড ভিসান প্রযোজিত , তীর্থ চট্টোপাধ্যায়ের কাহিনী অবলম্বনে , সলিল চৌধুরীর সুরে ,মহানায়ক উত্তম কুমার সুপ্রিয়া দেবী জুটির ৩২ তম রঙ্গিন ছায়াছবি – ” সিস্টার “। রিলিজ করে ১৯শে এপ্রিল ১৯৭৭।সুপ্রিয়া দেবী ছবির নামভূমিকায়। উত্তম কুমার এখানে চরিত্রাভিনেতা। হ্যাঁ উত্তম কুমার থাকা মানে তিনিই নায়ক কিন্তু এখানে সুপ্রিয়া দেবী প্রধান ভূমিকায়। উত্তম সুপ্রিয়ার সে অর্থে নায়ক নায়িকার ছবি নয় এটি। কিন্তু দুজনের বন্ধুত্ব শ্রদ্ধা রয়েছে এ ছবিতে।

যে সুপ্রিয়া দেবী কে বাঙালী কোনদিন দেবীর সম্মান দেয়নি। সেকেন্ড ওম্যান বানিয়ে রেখেছে, দুসরি ওয়রাত বানিয়ে রেখেছে, যাকে সাংবাদিকরা লিখেছে ইন্ডাস্ট্রি বলেছে উত্তম সঙ্গিনী তাকেই কিন্তু সবাই সিস্টার রূপে পুজো করেছে। এটাই এক মাত্র ছবি যেখানে সুপ্রিয়া দেবী দেবীর সম্মান পেয়েছেন যা বাস্তবে পাননি। সুপ্রিয়া তাঁর অভিনয়ের দক্ষতা ক্যারিয়ারের শুরুতেই দেখিয়েছিলেন নীতা হয়ে ‘মেঘে ঢাকা তারা‘ য়। ‘লাল পাথর‘ এও। সিস্টার পপুলার ছবি। সুপ্রিয়া দেবী এত দুর্দান্ত অভিনয় করেন যা প্রতিটি নারীর আদর্শ হয়ে ওঠে সেসময়।সংসারে অনেক অবিবাহিতা অসীম মাতৃত্ববোধসম্পন্না মহিলা পিসি মাসি থাকেন তাঁরাও নিজেদের মা হিসেবে রিলেট করতে পারেন এ ছবি দেখে। ছবি এত পপুলার হয় যে বিবাহিতাএয়োস্ত্রীরাও সিস্টার হয়ে সন্ন্যাসিনী হয়ে যেতে চাইতেন তখন সংসার ছেড়ে। পুরুষরা পড়লেন মহা ফ্যাঁসাদে এ ছবি দেখতে নিয়ে গিয়ে।

উত্তরা পূরবী উজ্জ্বলা প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় সিস্টার ছবি। যার একটি হলও আজ আর নেই। সব ইতিহাস শেষ। ছবিটি চলেছিল বারো সপ্তাহ। ছবি হিট তকমা পায়। উত্তম সুপ্রিয়া জুটির প্রথম রঙিন ছবি ‘সিস্টার’। ছবিতে উৎপল দত্ত ভিলেনের ভূমিকায়। মহানায়ক কর্নেল অফিসারের ভূমিকায়। রোম্যান্টিক উত্তম যে পূর্ণতা পাচ্ছিলনা অভিনয়ের এসব রোল গুলো এক অন্য উত্তমকুমারকে চেনে দর্শক। এত অসাধারন অভিনয় কর্নেলের ভূমিকায়। কিশোর কিশোরী দের অভিনয় অনবদ্য এ ছবিতে। আর সুপ্রিয়া র লিপে এ গান অমর অবিনশ্বর চির নতুন প্রতি যীশু দিবসে,

এ আকাশ বাতাস এ নদ-নদী
এ সাগর পাহাড় এ বনানী
ফুলে ফলে রঙে রসে
ভরে ভরে দিয়েছ যে দানে।

কুহু কুহু কোকিলার কূজনে
গুনগুন ভ্রমরার গুঞ্জনে
প্রভাতে নিশিথে সূর্যের
চাঁদের খেলা এই গগনে।