‘‘পাঁচশো টাকায় রেকর্ডিং !’’ সেদিন চমকে উঠেছিলেন রফি !

মহ রফি

বাংলা ছবির গানে মহ রফি যা গেয়েছিলেন বিনা পারিশ্রমিকে। মহম্মদ রফি মানেই মধু ঢালা বহুমুখী কন্ঠ। কেন বলছি রফি একদম পেপি আইটেম নাচের গান থেকে দেশাত্মবোধক গান, বিরহ থেকে চুড়ান্ত রোম্যান্টিক গান, সুফি কাওয়ালি থেকে ভজন সব ক্ষেত্রে অবাধ বিচরন যার গলা। কিছু বাংলা ভাষায় আধুনিক গানও গেয়েছেন।

‘তোমার নীল দোপাটি চোখ,
শ্বেত দোপাটি হাসি,

আর খোঁপাটিতে লাল দোপাটি দেখতে ভালোবাসি।’আবার যেমন ‘পাখিটার বুকে যেন তীর মেরোনা, ওকে গাইতে দাও’।Md. Rafi And Kishor Kumarভাঙা বাংলা উচ্চারন কিন্তু ঐ মিষ্টি কন্ঠজাদুতে হিট। এই রফি – দিলীপ কুমার, দেব আনন্দ, শাম্মি কাপুর, রাজেশ খান্না দের ছবিতে কন্ঠতে বিখ্যাত সুপারহিট লেজেন্ড হবার সঙ্গে বাংলা ছবিতেও গেয়েছেন। উত্তম – সুচিত্রার ছবিতে। আজ বলব সে গল্প,MD. Rafiবোম্বেতে রেকর্ডিং হচ্ছে বাংলা ছবির গান। কারন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, গীতা দত্তকে সঙ্গে নিয়ে ডুয়েট গাইবেন ‘সূর্য ডোবার পালা’, ‘নীড় ছোট ক্ষতি নেই’। দুটো উত্তম – সুচিত্রার লিপে সেই চির রোম্যান্টিক গান। বাংলা গানের অ্যারেঞ্জার ছিলেন লক্ষ্মীকান্ত-প্যারেলাল। গানটা এত হিট এত ভালো রেকর্ডিং ও কারন। এমন সুন্দর ভাবে হেমন্ত-গীতার গলা আগে বাজেনি রেকর্ডিং এ। সেদিন উপস্থিত ছিলেন রাজ কাপূরও রেকর্ডিং স্টুডিওতে। ইন্দ্রাণী ছবির পরিচালক ছিলেন নীরেন লাহিড়ী। সুরকার নচিকেতা ঘোষ। নচিকেতা ঘোষ বলে বসলেন ‘‘এই ছবিতে আমি একটা হিন্দি গান রাখব। আর সেটা গাওয়াব মহম্মদ রফিকে দিয়ে।’’ কিন্তু একি যে সে আবদার! বাংলা ছবিতে মহম্মদ রফি গাইবেন? রাজী হবেন আদৌ? কে রাজী করাবে? কত টাকা চাইবেন? অকল্পনীয় ভাবনা। পরিচালক প্রযোজকদের মাথায় হাত। এ কি আদৌ সম্ভব!হাল ধরলেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়।শেষ অবধি হাল ধরলেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। যিনি টালিগঞ্জ তথা বলি পাড়াতেও বড় বাঙালী নাম তখন। হেমন্ত বাবু নচিকেতা ঘোষকে নিয়ে গেলেন মহম্মদ রফির বাড়ি। সাদর আমন্ত্রণ জানালেন রফি। ‘সবি কুছ লুটাকার হুয়ে হাম তুমহারে’— গান শুনে মহম্মদ রফি তো প্রায় পাগল হয়ে গেলেন, ‘‘ক্যয়া ধুন বানায়া আপনে! ইতনা মিঠা…!’’ আসল কথা পাড়লেন এবার নচিকেতা ঘোষ। এটা বাংলা ছবি। প্রযোজক আপনাকে পাঁচশো টাকা অবধি দিতে পারবে গান গাইবার জন্য। ‘‘পাঁচশো টাকায় রেকর্ডিং!’’ চমকে উঠলেন রফি। রফির আঁতকে ওঠা দেখে নচিকেতা ঘোষ হেমন্ত মুখোপাধ্যায় উঠে পড়লেন। এর পর কী যে মনে হয়েছিল রফি সাবের! দরজার দিকে চলে যাচ্ছেন ওঁরা, অমন সময় পিছু ডাকলেন রফি সাব। বললেন, ‘‘ছাড়ুন, ছাড়ুন। ও সব কথা ছাড়ুন। আপনার জন্য এ গানটা আমি বিনা পয়সায় গেয়ে দেব।’’ এই হলেন রফি সাব। ভালো সুরের গানের জন্য গানটাই আসল। পরে পারিশ্রমিক। রচিত হল সেই লাভ সঙ ‘সবি কুছ লুটাকার হুয়ে হাম তুমহারে’। সুচিত্রা উত্তমের ফুলসজ্জায় এই গান ব্যবহার হল ‘ইন্দ্রাণী’ ছবিতে। যেমনি নায়ক নায়িকার অভিনয় তেমনি রফি সাবের কন্ঠ সেরকম সুর কথা।সুচিত্রা উত্তমের ফুলসজ্জায় গানবাংলা ছবিতে মহম্মদ রফির অমর অশেষ গান। বাঙালীদের মধ্যে ‘ইন্দ্রাণী’ এই গানটার দারুন ক্রেজ তখন কারন রফি বাংলা ছবিতে গান গেয়েছেন। ‘ইন্দ্রাণী’ র সব গান হিট কিন্তু এ গানটা আলাদা বিশেষত্ব রাখে। আরো একটা ব্যাপার বাঙালী হয়েও গীতিকার গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার এমন দুরন্ত হিন্দি গানের কথা লেখেন যা এক মায়াবী পরিবেশ তৈরী করে ছবিতে। এক পথ চলতি আগুন্তুকের লিপে এ গান যা সুচিত্রা উত্তমের প্রেমদৃশ্য আরো কালজয়ী করে তোলে। মহম্মদ রফি

আসুন দেখি সে গান ,