“বৈজয়ন্তীমালার খাজুরাহসম কটিদেশ স্পর্শ করতে চেয়েছিলাম।” – চিন্ময় রায় !

চিনুর

ন্ডাস্ট্রির চিনু, কারো আবার চিনুদা, উত্তম কুমার যাকে বলতেন রোগা ছেলেটা কিংবা বৈজয়ন্তীমালা যাকে বলেছিলেন সিলি বয়। ডট পেন দেখেছেন? নিজের চেহারাকে ডট পেনের সঙ্গে তুলনা করতেন চিন্ময় রায়। ডট পেনের যেমন সরু শরীর মাথায় একটা মুকুটি ঠিক তেমনি চিনুর ছিল চেহারা। আর এই রোগা চেহারার দৌলতেই পান চলচ্চিত্রে চোর চাকরের রোল। এই রোল দিয়েই সিনেমায় অভিষেক চিনুর। যার আবার খুব টাকার খাই কিন্তু মেয়েদের কোনো কাজ করতে পারবেনা সে শর্ত আরোপ করত। ছিঁচকে চোরও বটে। এমন একটি রোল করেই সবার চোখে পড়ে রোগা ছেলেটা।


এরপর তপন সিনহার ছবি। এবার ভালো রোল বড় রোল। ‘আপনজন’। ছায়া দেবীর কিশোরী বয়সের বরের ভূমিকায় চিনু। আর ছায়া দেবীর কিশোরী বেলার রোলে রোমি কাবেরী ওরফে কাবেরী চক্রবর্তী। এই ছবিতে স্বরুপ দত্ত আর ছেনো শমিত ভঞ্জ বেশী নাম করলেও চিন্ময় সবার চোখে পড়েন। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি চিন্ময় রায়কে। সত্যজিত রায় ডাকলেন ‘চিড়িয়াখানা’ ছবির জন্য। সেখানে উত্তম কুমারের সঙ্গে আলাপ। উত্তম ও করলেন রোগা ছেলেটার অভিনয়ের প্রশংসা। ডাকলেন উত্তমের পরে ছবিতেও। এভাবেই ইন্ড্রাস্টিতে কমেডিয়ান থেকে সিরিয়াস সব রোলেই চিন্ময় রায় বিখ্যাত হয়ে উঠলেন।

“তেরে দিলকি গঙ্গা অওর মেরে দিলকি যমুনাকা, বোল রাধা বোল সঙ্গম হোগা কি নেহি।”

বৈজয়ন্তীমালার লিপে এসব গান তখন সব ছেলে ছোকরার মুখে মুখে। চিন্ময়ের ফ্যান্টাসি তখন বৈজয়ন্তীমালা। ‘আম্রপালি’, ‘গঙ্গা যমুনা’, ‘সঙ্গম’ এসব ছবি গিলছেন চিন্ময়। বিশেষ করে বৈজয়ন্তীমালার নাচের মধ্যে একটা অদ্ভুত উন্মাদনা অনুভব করতেন চিন্ময়। যেমন উন্মাদনা হয় খাজুরাহো অজন্তা ইলোরার নগ্ন নারী শরীরের ভাস্কর্য দেখে। সেই থেকেই চিনুর একটা শখ জন্মেছিল যে বৈজয়ন্তীমালার কোমরটা একটু ছোঁবে। একদিন শেষমেশ এসেই গেল সেই সুযোগ। তপন সিনহার ‘হাটে বাজারে’ ছবি। বোম্বে সুপারস্টার বৈজয়ন্তীমালা কলকাতার ছবিতে। চিনুদাও সিলেক্টেড একই ছবিতে। আকাশের চাঁদ পেল চিনু। বৈজয়ন্তীমালাকে গান শেখাবার দৃশ্য। চিন্ময় বৈজয়ন্তীমালা গান রিহার্স করছেন। গান রেকর্ডিং হল। বৈজয়ন্তীমালার গলাটাও খুব মিষ্টি। ভালো ভাবে গান রের্কডিং হবার পর বৈজয়ন্তী অনেক থ্যাঙ্কস দিলেন চিনুকে। যদি ও ছবিতে গান আরতি মুখার্জ্জী কিছুটা। তখন চিনু তাঁর বাসনার রূপ বৈজয়ন্তীকে বলল তাঁর বাসনার কথা। চিনু বলল “আমার একটা বাসনা ছিল আপনার কোমরে একটু হাত দেব।” বৈজয়ন্তীমালা তো শুনে চমকে গেলেন। তারপর হেসে বলেন “ওহ সিলি বয়! ” চিন্ময় বলল “নাহ ব্যাপারটা অশ্লীল ভাবে নেবেন নাহ। যেমন অজন্তা, ইলোরা,খাজুরাহো তে আমরা অনেক কোমরের খাঁজ ভাজ দেখতে পাই একটা ভাস্কর্য থাকে তেমন আপনিও তো আমার চোখে সেই আম্রপালি। একটা জীবন যৌবন কাঁপানো রূপ যৌবন শরীরি ভাস্কর্য নিয়ে আপনি দাড়িয়ে আছেন সমগ্র ভারতে। “

চিন্ময় রায়

বৈজয়ন্তী বলবেন কি স্তম্ভিত এমন আবদার জীবনে পাননি তাও কোনো সহঅভিনেতার থেকে। চিনু বলল, “পাথরের ভাস্কর্যে যেমন আমরা হাত দি সৌন্দর্য্যর জন্য তেমনি আপনার কোমরেও আমি সেই শ্রদ্ধা দিয়েই হাত দেব। এটা কোন যৌনস্পর্শ ব্যাড টাচ ভাবেন না। দেবী ভেবেই আপনার কোমরে একবার হাত দিতে চাই। ” বৈজয়ন্তীমালা বললেন” ওকে হো জায়েগা।” চিনুর সে আশা পূরণ হয়েছিল। সে সময় তাঁরা একটি গানের রিহার্সাল করছিলেন, “আগে আগে নন্দ চলে”। গানে একটি শব্দ ছিল “সইয়াঁ”। এই শব্দটি বলার সঙ্গে সঙ্গে বৈজয়ন্তীমালা নিজের কোমর দিয়ে চিন্ময়ের কোমরে আলতো করে একটা ধাক্কা দিয়েছিলেন। দেবার পর বললেন চিনুকে “ঠিক হ্যায়?”। চিন্ময় মন্ত্রমুগ্ধ সেই স্পর্শে। নায়িকা হাত দিতে দেননি তাঁর কটিদেশে কিন্তু শটের মাঝেই বৈজয়ন্তীর কটিদেশের স্পর্শ পান চিন্ময়। এমন এক যৌবন উদ্ভাসিত অনুভূতি কী সহজে মুছে ফেলা যায়? শট হয়ে যাওয়ার পর চিন্ময় সেই যে নিজের কোমরে হাত দিয়েছিলেন, তা আর সরালেন না।

তপন সিনহা খেয়াল করেছিলেন। বললেন “একি চিনু কোমরে হাত কেন?” চিনু বলল “সেই যে বলেছিলাম বোম্বে ডিভা বৈজয়ন্তীমালার কোমরে হাত দেব। উনি কোমরে হাত দিতে দেননি শটের মাঝে কিন্তু কোমর দিয়ে আমার কোমরে ধাক্কা দিয়ে স্পর্শ করেছেন।” সাতদিন স্নান করেননি চিন্ময়। এমন অমূল্য স্পর্শ তাহলে মুছে যাবে যে! কাউকে হাত দিতেও দেননি কোমরে বলেছেন মিসেস সেনের স্টাইলে ” কেউ টাচ্ করবেনা ।”

এটা স্মৃতি টুকু থাক।

লেখক : শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়