“কৌশিক মাঝে মাঝে বলে ফেলত, এটা কিন্তু বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে!”- প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি।

Prosenjit Chatterjee Interview by Gulgal

যুগ পাল্টেছে, মানুষ পাল্টেছে, সিনেমা নিয়ে আলোচনার অভিমুখ পাল্টেছে কিন্তু পাল্টে যাওয়া দুনিয়াতে আদি অকৃত্রিম থেকে গেছেন টলিপাড়ার এই প্রাণপুরুষ, যার সিনেমা নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গি আজও মানুষকে হলে টেনে নিয়ে যাচ্ছে অবলীলায়, সিনেমার নাম “দৃষ্টিকোণ”, পরিচালক কৌশিক গাঙ্গুলি। ১৪ বছর পর প্রাক্তনে প্রসেনজিৎ-ঋতুপর্ণা জুটি ফিরে আসার পর আবারও ফিরে আসছেন তাঁরা বাংলার মানুষকে নতুন কিছু দেওয়ার তাগিদে। সেই উত্তেজনাতে নিজের চোখ হারানোর উপক্রম করেছিলেন তিনি কিন্তু কে আটকাবে তাঁকে? অন্তত বালিগঞ্জের “উৎসব”এ নিজের প্রিয় সোফাতে বসে থাকা “প্রত্যয়ী প্রসেনজিৎ”কে দেখে সেরকম মনে হল না…

এই মুহূর্তে সবথেকে বড় খবর পরিচালক গাঙ্গুলির সিনেমা এবং তোমার সিনেমা জাতীয় পুরষ্কার পেল। এবার এই দুইজন মানুষ একই টিমে…দর্শকদের প্রত্যাশাটা কতোটা বাড়িয়ে দিল?

প্রসেনজিৎ- দেখো, কৌশিকের ব্যাপারটা হয়ে গেছে ঐ ক্লাসের ফার্স্ট বয়ের মত, ও অদ্ভুতভাবে ছবিটা বানায়, হ্যাঁ ‘ময়ূরাক্ষী’ খুব ইম্পরট্যান্ট সিনেমা ছিল। এটা শুনে একটা ফিল গুড ফ্যাক্টর তো কাজ করেই! তবে দেখো আমরা কিন্তু দর্শকদের ভাল লাগাটা বেশি গুরুত্ব দিই, এই ‘ময়ূরাক্ষী’ কিন্তু মানুষ ভালোবেসেছেন, টানা ১০০ দিন চলার পর জাতীয় পুরষ্কার পেয়েছে তাই দর্শকদের ভালো লাগাটা খুব ইম্পরট্যান্ট। কৌশিকের সাথে এটা নিয়ে আমার আলোচনাও হচ্ছিল, আমাদের লক্ষ্যই থাকে একটা পরিস্কার, ছিমছাম, সুন্দর ভালো বাংলা সিনেমা বানানোর যেটা এখন দর্শকরা দেখতে চান, “দৃষ্টিকোণ” সেইরকমই একটা সিনেমা…আমরা যদি একসাথে কিছু কাজ করি বাংলার দর্শকদের অবশ্যই কিছু ভালো সিনেমা উপহার দিতে পারব…

বাংলা ‘কমার্শিয়াল’ সিনেমার সংজ্ঞাটা পরিবর্তন হওয়া শুরু হয়ে গেছে?

প্রসেনজিৎ- হ্যাঁ, সেটা তো অনেকদিন আগে থেকেই শুরু হয়ে গেছে। দেখো যে ছবিটা চলছে সেটাই কমার্শিয়াল। এই যে ‘ময়ূরাক্ষী’ চলেছে এটা কে কি বলবে? আর্ট ফিল্ম? বা ‘বিসর্জন’ চলল ওদিকে ‘পোস্ত’, ‘প্রাক্তন’ বা সৃজিতের সিনেমাগুলো লাইন দিয়ে হিট হয়। এদিকে কাকাবাবু, ব্যোমকেশ, ফেলুদাও সুপারহিট। মানুষ না আস্তে আস্তে কমার্শিয়াল বাংলা ছবির মানেটা এইভাবে নিয়ে আসছেন, যেমন “মাছের ঝোল”, এত সুন্দর একটা মিষ্টি ছবি, কমার্শিয়ালি ভালো রেজাল্ট করল। মানুষের কাছে এই ছবিগুলোই কমার্শিয়াল হয়ে যাচ্ছে…

একটা অভিযোগ আছে তোমাকে নিয়ে, নিজের শরীরকে এত কষ্ট দিচ্ছ কেন? কাকাবাবুতে ক্র্যাচ হাতে হাঁটা, এখানে চোখের মত সেন্সেটিভ জায়গা নিয়ে খেলা করা…

প্রসেনজিৎ- (জোরে হেসে) এটা সত্যি কষ্টের ছিল, কাকাবাবুটাও কষ্টের ছিল কিন্তু এটা যেহেতু চোখ, এত সেন্সেটিভ জায়গা। ডাক্তারবাবু আমাকে আর কৌশিককে বলে দিয়েছিলেন দুটো চোখের পাওয়ার ডিসব্যালান্স হলে যেকোন সময় পাওয়ার শুট করতে পারে আর করলে অন্ধ হয়ে যাবেন, সরাসরি বলেছিল এটা! তাই আমাকে দু’তিন ঘণ্টা অন্তর অন্তর গ্যাপ নিতে হত না হলে মাথা ঘুরত, একটা সময় ব্ল্যাঙ্ক লাগত এবার সবশেষে যখন পোস্টারটা বেরোয় এবং সারা শহর জুড়ে যে উন্মাদনাটা তৈরি হয় সেটা সব কষ্টকে ভুলিয়ে দেয়…

এটাই প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জির তাগিদ…

প্রসেনজিৎ- হ্যাঁ এদকম! এটাই তাগিদ। আর ঐ আরেকটা ব্যাপার বাংলা সিনেমার কোন নায়ক এইভাবে সিনেমা করছে, দেখো তোমরা অনেক ইয়ং তোমরা ভালো বুঝবে, সিনেমার ভাষাটা তো পাল্টে যাচ্ছে, শুধু থিয়েটার আর সিনেমাহলে দর্শকরা আটকে নেই! অনেক বছর আমি কাজ করেছি এটা সত্যি কিন্তু এইসময় আমি যদি দর্শকদের আলাদা কিছু দিতে না পারি তাহলে আমার দরকারটা কি? রিস্ক তো থাকবেই। শুধু ‘দৃষ্টিকোণ’ কেন? আমার আর কৌশিকের পরের ছবি কিশোর কুমার জুনিয়ারেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা বালির উপর গরমে শুট করে গেছি, ইউনিট এসে বলত এবার থামো তুমি! আমি যদি হিন্দি সিনেমাতে কাজ করি সেখানে দুঘণ্টার বেশি কাজ করতে হবে না কিন্তু বাংলা সিনেমাতে একটা জয়সলমিরের মত আউটডোরে গিয়ে খেটে কাজটা করে না আনতে পারি তবে সেটা ইকোনমিক্যালি সাপোর্ট করবে না। বাংলা সিনেমাতে বা যেকোন রিজিওনাল সিনেমাতে অভিনেতাদের বেশি পরিশ্রম করতে হয়! এই ক্রেডিট সবার শুধু আমার নয়…

অভিনয়ের ক্ষেত্রে চোখ ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ অংশ এক্সপ্রেশন দেওয়া হোক বা বিপরীতে থাকা অভিনেতাকে কিউ দেওয়া, সেখানে চোখ তোমার অকেজো, চ্যালেঞ্জটা পেরলে কিভাবে?

প্রসেনজিৎ- প্রথমেই যখন স্ক্রিপ্টটা শুনি তখনই আমার একটা ব্যাপার চ্যালেঞ্জ মনে হয়েছিল, পরিচালক একটা ভালোবাসার ছবিতে কাজ করতে দিয়েছেন কিন্তু একটা চোখটা কেড়ে নিয়েছেন (হাসি), অভিনেতা হিসেবে এটা বড় চ্যালেঞ্জ, শুধু আমি নয় আমার সাথে যারা অভিনয় করেছেন তাঁদের কাছেও বড় চ্যালেঞ্জ অবশ্যই। সেটে যখন চোখটা নিয়ে আসতাম কেউ দেখে চট করে কথা বলতে পারত না, তাকাতে পারত না। আমার মনে আছে, ঋতু প্রথমদিন শটে এসে আমার চোখের দিকে তাকিয়ে কৌশিককে বলেছিল, আমাকে আধঘণ্টা সময় দাও অভস্ত্য হতে হবে! এমনকি এডিটর এডিট করতে পারে নি একটা সময়ের পর বলছে, আমার চোখে কষ্ট হচ্ছে! আর ক্রেডিটটা শুধু আমার নয়, পুরো টিমের! এই খুঁতটা নিজে হাতে তৈরি হলেও চরিত্রের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে আসাই প্রধান লক্ষ্য তার জন্য আমাকে কেমন দেখতে লাগবে সেটা ভাবি নি! ভালবাসলে নষ্ট জায়গার দিকে চোখই যাবে না বরং যেটা আছে সেটাকেই ভালোবাসবে…

“দোসর”এ চোখ সক্রিয় ছিল, শরীর নিষ্ক্রিয়! এখানে শরীর সক্রিয় কিন্তু চোখ নিষ্ক্রিয়! কোনটা বেশি কঠিন ছিল?

প্রসেনজিৎ- (হাসি) দুটোই দুটো রকম ভাবে চ্যালেঞ্জিং। আমার মনে আছে একটা জায়গায় আস্তে আস্তে আমার দুটো চোখ নষ্ট হয়ে যায় সেখানে আমি বলেই দিতাম ওদের যে শুধু বলে দাও কোনদিকে যেতে হবে মানে ডানদিক, বামদিকগুলো কিন্তু কোথায় কি আছে বলবে না…

পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে তো…

প্রসেনজিৎ- পড়ে গেছিও সিঁড়িতে! এতে কি হয় কোনভাবে যেন বোঝা না যায় যে আমি জানি কোথায় কি আছে সেই মত অভিনয় করছি তাতে তাৎক্ষণিক ব্যাপারটা হত না! কৌশিক মাঝে মাঝে বলে ফেলত, এটা কিন্তু বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে! (হাসি) আমি বলতাম দেখ তুই ভালো এফেক্ট পাবি…

তাহলে প্রসেনজিৎ-ঋতুপর্ণা জুটি বাদ দিলে এক্স-ফ্যাক্টর কি এই সিনেমার?

প্রসেনজিৎ- এটা কৌশিক গাঙ্গুলির সিনেমা, আরেকটা ফ্যাক্টর হল এই ভালোবাসাটা বাংলা সিনেমার দর্শকরা আগে কোনদিন দেখেন নি! এই ভালোবাসাটাকে মানুষ প্রেম করবে, শ্রদ্ধা করবে এবং অবশ্যই গান, খুবই সুন্দর হয়েছে গানগুলো।

একটা ব্যাপার নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছ, ১৬-১৭ বছর আগে মানুষ চাইত তোমাদের অনস্ক্রিন প্রেম দেখতে অথচ এখন তোমাদের বিচ্ছেদের দৃশ্যে হাততালি পড়ছে! দর্শকমহলের এই পরিবর্তনটা কিভাবে দেখছ?

প্রসেনজিৎ- এটাই তো বলছি, সিনেমা পাল্টে গেছে, দর্শক পালটাচ্ছেন, আর এই দর্শক পাল্টেছে বলেই আমরা কিন্তু “দৃষ্টিকোণ”র মত সিনেমা করতে পারছি যেখানে ভালোবাসার অন্যদিকগুলো আছে। দর্শকদের সিনেমাতে ‘ভালোবাসা’ দেখার দৃষ্টিকোণ, ভাবনাগুলো পাল্টেছে, শেষে নায়ক-নায়িকার মিলন হতে হবে সেই ধারণা পাল্টেছে।

গান, ট্রেলারে একটা পরকীয়ার গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে! এটা কি ঠিক?

প্রসেনজিৎ- নাহ! পরকীয়া তো নয়ই (হাসি)

অনুপম রায়ের সাথে প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জির নাকি কোন গোপন চুক্তি আছে? একসাথে কাজ করেলই ওয়ান-লাইনারগুলো হিট, “আমাকে আমার মত থাকতে দাও”, “তুমি অন্য কারোর সঙ্গে বেঁধো ঘর” বা “আমি কি তোমায় খুব বিরক্ত করছি”…

প্রসেনজিৎ- (হেসে মাথা নেড়ে) হ্যাঁ এই জুটিটা কিন্তু ভালো ওয়ার্ক করছে। আমি বলব এটা অনুপমেরই ম্যাজিক আমরা সাধারণভাবে যে কথাগুলো বলে থাকি সেগুলো গানে নিয়ে আসে আর এখন গানগুলো সিনেমাতে চিত্রনাট্যে সাপোর্ট করে সেখানে অনুপমের গান দারুণ কাজ করে। এই সিনেমাতেও যেখানে “আমি কি তোমায় খুব বিরক্ত করছি” গানটা আসে মানুষ চমকে যাবে যেন চিত্রনাট্যই চলছে… টাচউড আমার আর অনুপমের জুটিটা সত্যিই খুব ভালো কাজ করে এটা আমরা আলোচনাও করি (হাসি)…

তোমার পরবর্তী প্রজন্মের কোন জুটিকে দেখে মনে হয়েছে ১৪ বছর পর ফিরে এইরকম ক্রেজ তৈরি করতে পারে?

প্রসেনজিৎ- এটা আমি কি করে বলব? অনেকেই কাজ করেছেন ঠিকই কিন্তু আরেকটা প্রসেনজিৎ-ঋতুপর্ণা তৈরি হয় নি! আগে তো তৈরি হোক, তারপর ভাঙবে তারপর তো ফিরে আসবে..জুটি না জোর করে তৈরি হয় না, আর এর পেছনে আমাদের কোন কৃতিত্ব নেই! দর্শকরা আমাদের যে ভালোবাসেন তার প্রমাণ দিয়েছেন “প্রাক্তন”এ। আমরা কাজটা করে গেছি , ঋতু যাই করুক না কেন ভীষণ সচেতন নিজের কাজ নিয়ে তাই কোথাও গিয়ে দর্শকদের মধ্যে আমাদেরকে নিয়ে একটা সিনশিয়ার রেসপেক্ট আছে এবং ভালোবাসাও, জুটিটা ওঁরাই তৈরি করেছেন…

অনেক পরিচালক বলে থাকেন নিজের সিনেমা নিয়ে যে এটা গ্রামের সিনেমা এটা শহরের সিনেমা! দর্শকদের মধ্যে এই লাইন টেনে দেওয়াটা কতোটা যুক্তিযুক্ত তোমার কাছে?

প্রসেনজিৎ-  দেখো আমি গ্রাম-শহর এটা বিশ্বাস করি না কারণ ঐ মানুষগুলো কিন্তু নন্দনে এসে সিনেমা দেখছেন, মাল্টিপ্লেক্সে সিনেমা দেখছেন! সমস্যাটা হল তাঁদের কোনজায়গায় গিয়ে সিনেমাটা দেখতে হয়, শহরতলি বা গ্রামে সিনেমা হলগুলোর আপগ্রেডেশন যেদিন হয়ে যাবে সেইদিন ওঁরা ওখানেই যাবেন সিনেমা দেখতে, ইতিমধ্যেই কিছু হয়েছে কিন্তু এটা পুরোপুরি হওয়া দরকার। এই ইনফ্রাস্ট্রাকচারটা তৈরি হওয়া খুব প্রয়োজন।

র‍্যাপিড ফায়ার

স্টারডমের একটা ভালো দিক, একটা খারাপ দিক..

প্রসেনজিৎ- আমার কাছে ভালো দিক হল যে লক্ষ লক্ষ মানুষকে আমি চিনি না তাঁরা আমাকে ভালোবাসেন,বছরের পর বছর আমাকে ভালোবাসেন, এর থেকে বড় পাওয়া আর কিছু নেই… খারাপ দিক হল আমি রাস্তায় দাঁড়িয়ে ফুচকা খেতে পারি না (হাসি)

প্রসেনজিৎ-ঋতুপর্ণা না ঋতুপর্ণা-প্রসেনজিৎ?

প্রসেনজিৎ- (একটু ভেবে) এখনো অবধি যা সিনেমা হয়েছে তাতে প্রসেনজিৎ-ঋতুপর্ণা।

একজন স্টারের জীবন রঙিন হওয়া উচিৎ!

প্রসেনজিৎ- একদম হওয়া উচিৎ!

বাংলার কোন তরুণ পরিচালক যাদের সাথে কাজ করতে চাও…

প্রসেনজিৎ- প্রদীপ্ত আর মানস মুকুল…জানি না আমাকে নিয়ে কাজ করবে কিনা!

হিন্দি সিনেমা পরিচালনা করার প্ল্যান করেছিলে, সেটা নিয়ে কোন সুখবর…

প্রসেনজিৎ- হ্যাঁ, বাংলার ব্যাকগ্রাউন্ডে একটা হিন্দি সিনেমা করার প্ল্যান করছি…

বাংলার একজন তরুণ পরিচালক এই জুটির কাছে একটি স্ক্রিপ্ট নিয়ে এল, যেটা পড়ে তোমরা রাজি হলে সিনেমাটা করার জন্য কিন্তু একটাই শর্ত রাখা হল যে সিনেমা নিয়ে কোনরকম প্রোমোশন করা যাবে না মানুষ শুধুমাত্র রিলিজ ডেটটুকুই জানবে! রাজি হবে করতে?

প্রসেনজিৎ- (ঘাড় নেড়ে) সেটা তো একটা বড় চ্যালেঞ্জ! পরিচালক এবং সাবজেক্টের মধ্যে সেই গভীরতা থাকে দেন হোয়াই নট? আমি তো এই চ্যালেঞ্জ নেবই…

রুদ্রনীল ঘোষ আমাদের সাথে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন তোমাকে নিয়ে যে, “একজন মানুষ এত হাম্বল হয় কি করে?” আমাদেরও একই প্রশ্ন…

প্রসেনজিৎ- (স্মিত হেসে) দেখো এটা তো আমার চরিত্র এবার নানা মানুষ সেটাকে নানারকমভাবে বলেছেন। এবার কি হয় দেখো একটা জায়গায় অনেকদিন দাঁড়িয়ে থাকলে, কষ্ট পেলেও মানুষ বলে এটা নাটক, আনন্দ পেলেও মানুষ বলে এটা নাটক! আমি অভস্ত্য হয়ে গেছি এগুলো নিয়ে। এটাই আমার চরিত্র…আমার উন্নতি হলে আমার চরিত্র কেন চেঞ্জ হবে? খুব সিম্পল…

কখনো মনে হয়েছে নবীন প্রজন্মের অভিনেতাদের মধ্যে সৌজন্যতা, শ্রদ্ধার অভাব রয়েছে?

প্রসেনজিৎ- দেখো আমরা তো বড়দের দেখে শিখি, উত্তম জেঠু বা অমিতাভ বচ্চন’কে আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি, এঁদের থেকে তো বড় স্টার হয় না, তাঁরা যে লেভেলের হাম্বল তুমি ধারণাও করতে পারবে না!…এঁদের কাছে আমরা তো কিছুই নই! রেস্টুরেন্টের কোন দারোয়ান যদি গুড মর্নিং বলে এবং সেটা উনি যদি মিস করে যান চার পা পিছিয়ে এসে গুড মর্নিংটা বলে যান! এটা কে কি বলবে? লোকে বলে এটা স্টাইল! কিন্তু সবটা স্টাইল নয়। তুমি আমার কাছে এসেছ, আমি জিজ্ঞেস করবই চা বা জল কিছু খাবে কিনা? এটা হাম্বল নয় এটা রুচির পরিচয়, আমাদের সংস্কৃতি…

প্রশ্নের ওপারে- শুভদীপ কাজলী (এডিটর)।