Home ফিরে দেখা রিক্সাওয়ালা বললেন, “বাবু, আমি জানি আপনি কে? আপনি অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়
সুপ্রিয়া

এই ছবি দেখতে গিয়ে পুরুষরা পড়েছিলেন এক মহা ফ্যাসাদে !

"বিশ্বপিতা তুমি হে প্রভু, আমাদের প্রার্থনা এই শুধু। তোমারি করুণা হতে, বঞ্চিত না হয় কভু। " এই সলিল সঙ্গীত বাঙালীর বড়দিন যীশু পুজোর আইকনিক গান আজও।...
কণিকা

” আমার মৃত্যুর খবর যেন মিডিয়াকে না জানানো হয়।” – কণিকা মজুমদার !

তিনি 'রক্তকরবী' র নন্দিনী। কখনও তিনি মণিমালিকা, কখনও তিনি দময়ন্তী, কখনও তিনি প্রতিমা৷ ‘মণিহারা’, ‘চিড়িয়াখানা’, ‘হার মানা হার’ ছবিতে এরা তাঁরই অভিনীত চরিত্র৷ কণিকা...
অপর্ণা সেন

আশির দশকের এক অন্য গল্প !

আজকের অপর্ণা সেন মানেই 'থার্টিসিক্স চৌরঙ্গী লেন','পরমা','সোনাটা','পারমিতার একদিন'। নায়িকা অপর্ণা কে ভাবলে ফিল্মবোদ্ধারা ভাবেন 'সমাপ্তি','বাক্স বদল','মহাপৃথিবী' নিদেনপক্ষে উত্তম কুমারের সঙ্গে 'জয় জয়ন্তী'। কিন্তু আশির দশকে...

রিক্সাওয়ালা বললেন, “বাবু, আমি জানি আপনি কে? আপনি অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়

পুরস্কার নয়, দর্শকের ভালোবাসা তাঁর আসল পুরস্কার… এই মনোভাবেই বিশ্বাসী ছিলেন অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়।ইন্ডাস্ট্রির ঢুলুদা। শতবর্ষে ঢুলুদা। শততম জন্মদিনে সেঞ্চুরি হাঁকালেন পরিচালক অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়।সেঞ্চুরি শুধু বয়সে নয় তাঁর অগ্নীশ্বর,নিশিপদ্ম,মৌচাক,নতুন জীবন সব ছবি গুলোও সেঞ্চুরি হাঁকানো ব্লক ব্লাস্টার হিট।

দোকানে চাল কিনতে গিয়েছেন ঢুলুদা। দু’হাতে পাঁচ কেজি, পাঁচ কেজি দশ কেজির দুটো থলে। দোকান থেকে রিক্সায় উঠেছেন ঢুলুদা,যথাসময়ে বাড়িও পৌঁছলেন। রিক্সা থেকে নেমে তিনি চালককে টাকা দিতে যাবেন, তখন চালক হঠাৎ বলে উঠলেন, “আমি আজ আপনার থেকে টাকা নিতে পারব না বাবু।” অরবিন্দ বাবু বুঝে উঠতে পারলেন না কারন। বেশ অবাক এই কথায়। তাও একজন রিস্কাওয়ালা বলছেন। জিজ্ঞাসা করলেন, “কেন?” তখন রিক্সাচালক বললেন, “বাবু, আমি জানি আপনি কে? আপনি অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়। আপনার পরিচালিত ‘অগ্নীশ্বর’ কাল আমি দেখেছি। উত্তম কুমারের বিশাল ভক্ত আমি। কিন্তু ওই মানুষটার এমন রূপ আগে কখনও দেখিনি। আপনার জন্যই তা সম্ভব হল। কাল ‘অগ্নীশ্বর’ দেখতে বসে খুব কেঁদেছি। আজ কিছুতেই আপনার থেকে টাকা নিতে পারব না।”একথা শুনে অরবিন্দ মুখোপাধ্যায় ওই ভদ্রলোককে বুকে জড়িয়ে ধরেছিলেন। অরবিন্দ বাবু বুঝেছিলেন তিনি তাঁর আসল পুরস্কার পেয়ে গিয়েছেন। একজন রিস্কাওয়ালার ভালোবাসা কিন্তু সেদিন তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে ফেলে দেননি তিনি, বড় মঞ্চের পুরস্কারের হাতছানিতে। এটাই হলেন অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়। দর্শক কে অনাবিল আনন্দ দিতেই ছবি বানাতেন তিনি। কোনো আঁতলামো নয় কোনো পুরস্কারের জন্যই ছবি বানানো নয়। ঠিক যেমন বলিউডের হৃষিকেশ মুখোপাধ্যায়।

পিতা সত্যচরন মুখোপাধ্যায়ের কনিষ্ঠ পুত্র অরবিন্দ। ছয় ছেলের বড় হলেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক বনফুল বলাই চাঁদ মুখোপাধ্যায়।অরবিন্দবাবুর জন্ম ১৯১৯ সালের ১৮ জুন। বিহারের কাটিহার জেলার মণিহারি গ্রামে। । কাটিহারেই ম্যাট্রিকুলেশন পাস করার পর অরবিন্দবাবু ১৯৩৯ সালে পড়াশোনা করতে আসেন শান্তিনিকেতনে। রবীন্দ্রনাথের স্নেহ ও সাহচর্যও পান তিনি। এরপর তিনি পারিবারিক ঐতিহ্য মেনে চিকিৎসাবিদ্যা পড়তে ভর্তি হন বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজে। তবে ডাক্তারি পড়া অসমাপ্ত রেখে চতুর্থ বর্ষের শেষে তিনি যোগ দেন চলচ্চিত্র জগতে। চলে আসেন কলকাতায়। যোগ দেন সবচেয়ে সুখ্যাত চলচ্চিত্র প্রতিষ্ঠান ‘নিউ থিয়েটার্স স্টুডিও’য়। অগ্রদূতের বিভূতি লাহার সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন ‘পথে হল দেরী’,’ত্রিযামা’ র মতো ছবিতে। খুব কাছ থেকেই জীবনের শুরুতে পান ছবি বিশ্বাস,ছায়া দেবী কি উত্তম সুচিত্রা দের। শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়, পশুপতি চট্টোপাধ্যায়, বিমল রায়দের মতো পরিচালকের সহকারী হিসেবেও কাজ করেছেন।

প্রথম ছবি ‘কিছুক্ষণ’ করে চমকে দিয়েছিলেন অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়।তাঁর প্রথম ছবিই নির্বাচিত হয় রাষ্ট্রপতি পুরস্কারের জন্য। দ্বিতীয় ছবি ‘আহ্বান’-এ তিনি তাঁর জাত চিনিয়ে দিয়েছিলেন। বাংলা চলচ্চিত্র জগৎ বুঝে গিয়েছিল এক অনন্য প্রতিভাবান পরিচালকের আগমন ঘটল। শুধু সফল পরিচালকই নন, অরবিন্দবাবু ছিলেন দক্ষ চিত্রনাট্যকার। একস্ট্রাদের জীবন নিয়ে অন্য ধারার ছবি ‘নকল সোনা’। তৈরি করেছেন কমেডি ছবি ‘মৌচাক’,’ধন্যি মেয়ে’। নতুন মুখ মিঠুন চক্রবর্তীকে নায়ক করে তৈরি করেছেন ‘নদী থেকে সাগর’। ‘মন্ত্রমুগ্ধ’,’পাকা দেখা’,’প্রায়শ্চিত্ত’,অর্পিতা’। শক্তি সামন্তের অনুরোধে হিন্দি ছবি ‘অমরপ্রেম’–এর চিত্রনাট্য লিখেছিলেন তিনি, রাজেশ খান্না শর্মিলা ঠাকুর অভিনীত যে ছবি ছিল আসলে অরবিন্দর উত্তম সাবিত্রী অভিনীত ‘নিশিপদ্ম’র রিমেক। এই ছবির চিত্রনাট্যের জন্য ‘ফিল্মফেয়ার’ পুরস্কার পান তিনি যার ফলে একের পর এক আসতে থাকে বলিউড থেকে ছবি করার অফার। কিন্তু বাংলা ছবিকে ভালোবেসে,বাংলার জল বাংলার বায়ু বাংলার দর্শককে ভালোবেসে সেসব অফার ফিরিয়ে দেন। ছোটো দুঃখ সুখ নিয়ে যেমন ছবি বানাতেন ছোটো ছোটো সুখ নিয়েই অল্পতে খুশী থাকার মন্ত্রটি তিনি জানতেন।

৯৬ বছর বয়সে ২০১৬ র ১১ ফেব্রুয়ারি প্রয়াত হন কিংবদন্তি পরিচালক।

এমন পরিচালক হাতে গোনা যার ছবির ভক্ত ঐ রিস্কাওয়ালা থেকে বিদেশের কর্পোরেট অফিসার। শতবর্ষ পেরিয়ে ঢুলুদা আজও দর্শকের শ্রদ্ধার ভালোবাসার আপনজন।

লেখক শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়

বাংলা সিনেমা ও আরো বিনোদনের খবর দেখতে শুধু প্রয়োজন একটা ক্লিক ClickHere

 

MUST READ

বাংলার বাইরে মুক্তি পেল ‘গোত্র’

উইনডোজ নিবেদিত 'গোত্র' রিলিজ করেছে জন্মাষ্টমীতে। ইতিমধ্যে বক্সঅফিস কালেকশানে সর্বোচ্চ হয়েছে ছবিটি। কলকাতা সহ শহরতলীর প্রতিটি হলের প্রতিটি শো হাউসফুল। শিবপ্রসাদ-নন্দিতা জুটির প্রতিটি ছবিতেই...

কোয়েল নিবেদিত ছবিতে ভূতপরী জয়া !

পরী পিসি থেকে ভূত পরী। হ্যাঁ সৌকর্য ঘোষালের 'রেনবো জেলি' শিশুমহল থেকে বড়দের সবার খুব কাছের ছবি। যেখানে শ্রীলেখা মিত্র পান একটি সেরা চরিত্র...

” নকল কন্ঠীর স্থায়িত্ব বেশীদিন না ” রাণু মন্ডলকে নিয়ে বললেন লতাজী

রানাঘাটের রাণু মন্ডল। হতদরিদ্র ভিখারিনী। অনাথা আত্মীয় পরিজনহীনা রাণু আজ প্রচারের শীর্ষে। লতাকন্ঠী রাণু মন্ডল রানাঘাটের স্টেশনে গান গেয়ে বেড়াত। ফেসবুকে ভাইরাল হয় তাঁর...

এবার গোলমাল বাঁধলো ওই ব্যাটারিতেই ! Manali Dey with Pyank Deben Na Please

বৌ কথা কও থেকে জনপ্রিয়তা পাওয়া মৌরি কিন্তু এখন অনেক পরিণত , সদ্য মুক্তি পাওয়া সিনেমা গোত্র কিন্তু সেই কথাই বলছে। মানালি দে ঝুমা...