Home ফিরে দেখা রিক্সাওয়ালা বললেন, “বাবু, আমি জানি আপনি কে? আপনি অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়
অপরাজিতা

“আমার ছবি, আমি তোকে বাদ দিতেই পারি!” ঋতুপর্ণ বলেছিলেন অপরাজিতাকে !

"- ও তোমার কদর করতে পারবে ?" "- বাবু, কদর তো কত লোক করে বল... ভালোবাসার সাহস কতজনের আছে বল তো ? " এই বিখ্যাত দৃশ্যে...
রোম্যান্টিক

বন্ধুত্বের কিছু সিনেমা, পর্ব ১

রোম্যান্টিক বা থ্রিলার হরর সিনেমা আমরা প্রায় সবাই দেখে থাকি৷ তার মধ্যেও রয়েছে বন্ধুত্বের কিছু সিনেমা। আজ সেই বন্ধুত্ব নিয়েই কিছু ভালো সিনেমার সন্ধান...
হারিয়ে

হারিয়ে যাওয়া মুভি : পর্ব ৩

কম বাজেট, কম প্রচার, বড় স্টার না থাকার জন্য কিংবা যুগের থেকে এগিয়ে থাকার জন্য হারিয়ে যায় কত ভাল ভাল সিনেমা। সেইরকম মানুষের অগোচরে...

রিক্সাওয়ালা বললেন, “বাবু, আমি জানি আপনি কে? আপনি অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়

পুরস্কার নয়, দর্শকের ভালোবাসা তাঁর আসল পুরস্কার… এই মনোভাবেই বিশ্বাসী ছিলেন অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়।ইন্ডাস্ট্রির ঢুলুদা। শতবর্ষে ঢুলুদা। শততম জন্মদিনে সেঞ্চুরি হাঁকালেন পরিচালক অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়।সেঞ্চুরি শুধু বয়সে নয় তাঁর অগ্নীশ্বর,নিশিপদ্ম,মৌচাক,নতুন জীবন সব ছবি গুলোও সেঞ্চুরি হাঁকানো ব্লক ব্লাস্টার হিট।

দোকানে চাল কিনতে গিয়েছেন ঢুলুদা। দু’হাতে পাঁচ কেজি, পাঁচ কেজি দশ কেজির দুটো থলে। দোকান থেকে রিক্সায় উঠেছেন ঢুলুদা,যথাসময়ে বাড়িও পৌঁছলেন। রিক্সা থেকে নেমে তিনি চালককে টাকা দিতে যাবেন, তখন চালক হঠাৎ বলে উঠলেন, “আমি আজ আপনার থেকে টাকা নিতে পারব না বাবু।” অরবিন্দ বাবু বুঝে উঠতে পারলেন না কারন। বেশ অবাক এই কথায়। তাও একজন রিস্কাওয়ালা বলছেন। জিজ্ঞাসা করলেন, “কেন?” তখন রিক্সাচালক বললেন, “বাবু, আমি জানি আপনি কে? আপনি অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়। আপনার পরিচালিত ‘অগ্নীশ্বর’ কাল আমি দেখেছি। উত্তম কুমারের বিশাল ভক্ত আমি। কিন্তু ওই মানুষটার এমন রূপ আগে কখনও দেখিনি। আপনার জন্যই তা সম্ভব হল। কাল ‘অগ্নীশ্বর’ দেখতে বসে খুব কেঁদেছি। আজ কিছুতেই আপনার থেকে টাকা নিতে পারব না।”একথা শুনে অরবিন্দ মুখোপাধ্যায় ওই ভদ্রলোককে বুকে জড়িয়ে ধরেছিলেন। অরবিন্দ বাবু বুঝেছিলেন তিনি তাঁর আসল পুরস্কার পেয়ে গিয়েছেন। একজন রিস্কাওয়ালার ভালোবাসা কিন্তু সেদিন তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে ফেলে দেননি তিনি, বড় মঞ্চের পুরস্কারের হাতছানিতে। এটাই হলেন অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়। দর্শক কে অনাবিল আনন্দ দিতেই ছবি বানাতেন তিনি। কোনো আঁতলামো নয় কোনো পুরস্কারের জন্যই ছবি বানানো নয়। ঠিক যেমন বলিউডের হৃষিকেশ মুখোপাধ্যায়।

পিতা সত্যচরন মুখোপাধ্যায়ের কনিষ্ঠ পুত্র অরবিন্দ। ছয় ছেলের বড় হলেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক বনফুল বলাই চাঁদ মুখোপাধ্যায়।অরবিন্দবাবুর জন্ম ১৯১৯ সালের ১৮ জুন। বিহারের কাটিহার জেলার মণিহারি গ্রামে। । কাটিহারেই ম্যাট্রিকুলেশন পাস করার পর অরবিন্দবাবু ১৯৩৯ সালে পড়াশোনা করতে আসেন শান্তিনিকেতনে। রবীন্দ্রনাথের স্নেহ ও সাহচর্যও পান তিনি। এরপর তিনি পারিবারিক ঐতিহ্য মেনে চিকিৎসাবিদ্যা পড়তে ভর্তি হন বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজে। তবে ডাক্তারি পড়া অসমাপ্ত রেখে চতুর্থ বর্ষের শেষে তিনি যোগ দেন চলচ্চিত্র জগতে। চলে আসেন কলকাতায়। যোগ দেন সবচেয়ে সুখ্যাত চলচ্চিত্র প্রতিষ্ঠান ‘নিউ থিয়েটার্স স্টুডিও’য়। অগ্রদূতের বিভূতি লাহার সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন ‘পথে হল দেরী’,’ত্রিযামা’ র মতো ছবিতে। খুব কাছ থেকেই জীবনের শুরুতে পান ছবি বিশ্বাস,ছায়া দেবী কি উত্তম সুচিত্রা দের। শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়, পশুপতি চট্টোপাধ্যায়, বিমল রায়দের মতো পরিচালকের সহকারী হিসেবেও কাজ করেছেন।

প্রথম ছবি ‘কিছুক্ষণ’ করে চমকে দিয়েছিলেন অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়।তাঁর প্রথম ছবিই নির্বাচিত হয় রাষ্ট্রপতি পুরস্কারের জন্য। দ্বিতীয় ছবি ‘আহ্বান’-এ তিনি তাঁর জাত চিনিয়ে দিয়েছিলেন। বাংলা চলচ্চিত্র জগৎ বুঝে গিয়েছিল এক অনন্য প্রতিভাবান পরিচালকের আগমন ঘটল। শুধু সফল পরিচালকই নন, অরবিন্দবাবু ছিলেন দক্ষ চিত্রনাট্যকার। একস্ট্রাদের জীবন নিয়ে অন্য ধারার ছবি ‘নকল সোনা’। তৈরি করেছেন কমেডি ছবি ‘মৌচাক’,’ধন্যি মেয়ে’। নতুন মুখ মিঠুন চক্রবর্তীকে নায়ক করে তৈরি করেছেন ‘নদী থেকে সাগর’। ‘মন্ত্রমুগ্ধ’,’পাকা দেখা’,’প্রায়শ্চিত্ত’,অর্পিতা’। শক্তি সামন্তের অনুরোধে হিন্দি ছবি ‘অমরপ্রেম’–এর চিত্রনাট্য লিখেছিলেন তিনি, রাজেশ খান্না শর্মিলা ঠাকুর অভিনীত যে ছবি ছিল আসলে অরবিন্দর উত্তম সাবিত্রী অভিনীত ‘নিশিপদ্ম’র রিমেক। এই ছবির চিত্রনাট্যের জন্য ‘ফিল্মফেয়ার’ পুরস্কার পান তিনি যার ফলে একের পর এক আসতে থাকে বলিউড থেকে ছবি করার অফার। কিন্তু বাংলা ছবিকে ভালোবেসে,বাংলার জল বাংলার বায়ু বাংলার দর্শককে ভালোবেসে সেসব অফার ফিরিয়ে দেন। ছোটো দুঃখ সুখ নিয়ে যেমন ছবি বানাতেন ছোটো ছোটো সুখ নিয়েই অল্পতে খুশী থাকার মন্ত্রটি তিনি জানতেন।

৯৬ বছর বয়সে ২০১৬ র ১১ ফেব্রুয়ারি প্রয়াত হন কিংবদন্তি পরিচালক।

এমন পরিচালক হাতে গোনা যার ছবির ভক্ত ঐ রিস্কাওয়ালা থেকে বিদেশের কর্পোরেট অফিসার। শতবর্ষ পেরিয়ে ঢুলুদা আজও দর্শকের শ্রদ্ধার ভালোবাসার আপনজন।

লেখক শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়

বাংলা সিনেমা ও আরো বিনোদনের খবর দেখতে শুধু প্রয়োজন একটা ক্লিক ClickHere

 

MUST READ

মহালয়ার সেরা পাঁচ ‘ মহিষাসুরমর্দিনী ‘

আকাশবাণী কলকাতার 'মহিষাসুরমর্দিনী 'র পর টেলিভিশনে 'মহিষাসুরমর্দিনী' সবার কাছেই ভালোবাসার। কিন্তু এখন অনেক চ্যানেল হওয়া সত্ত্বেও টিভির মহালয়া দর্শকের বিরক্তি উদ্রেক করে। সেই মেগার...

পুজোর সেরা পুরুষ কে ? এবার পুজোয় অভিনব উৎসব !

পুরুষ। পুরুষ যেন পড়ে পাওয়া চোদ্দ আনা। নারী দিবস নিয়ে হৈচৈ। নারী দিবসের দরকার তো আছেই কিন্তু পুরুষ দিবস কবে কোনদিন আমরা কজন জানি?...

এবার মহালয়াতেই অকাল বোধন !

দেবী দুর্গার ত্রিনয়ন, যার জ্যোতিতে আলোকিত বিশ্ব। সৃষ্ট প্রাণ। আমরা দেবী দুর্গাকে চোখে দেখিনি দেখিনা। কিন্তু দুর্গা মানে এক শক্তি। নারী শক্তি। ধরিত্রীতে সকল...

নটবর ১০০তেও নটআউট !

বাবা সতু রায় ছিলেন নির্বাক যুগের বিখ্যাত অভিনেতা। কিন্তু তাতে ছেলের বিশেষ কিছু সুবিধে হয়নি। তাঁর জন্ম বরিশালে। বাবা পরে চলে আসেন কলকাতায়। শেষে...