বন্ধুত্বের কিছু সিনেমা, পর্ব ১

রোম্যান্টিক

রোম্যান্টিক বা থ্রিলার হরর সিনেমা আমরা প্রায় সবাই দেখে থাকি৷ তার মধ্যেও রয়েছে বন্ধুত্বের কিছু সিনেমা। আজ সেই বন্ধুত্ব নিয়েই কিছু ভালো সিনেমার সন্ধান দেবো আপনাদের। সাথে আই এম ডি বি রেটিং।

ওয়ানস আপন এ টাইম ইন আমেরিকা – ১৯৮৪ সালে নির্মিত এই মুভিতে বন্ধুত্বের প্রছন্নতা দারুনভাবে রূপায়িত হয়েছে। এক সময়কার এক দাপুটে ইহুদি গ্যাংস্টার ত্রিশ বছর পরে নিজ ডেরা ম্যানহাটানের লোয়ার ইস্ট সাইডে ফিরে আসলে সে আবারো তার ভয়াল ও দুঃখজনক অতীতের মুখোমুখি হয়ে পড়ে – এমন পটভূমিতে মুভির গল্প তৈরী হয়েছে। এই এপিক ক্রাইম-ড্রামা থ্রিলারটির পরিচালক হলেন ‘গুড ব্যাড আগলি” তথা “ডলার ট্রিলজি” খ্যাত স্পেগেটি ওয়েস্টার্ন মুভির লিজেন্ডারি নির্মাতা ইটালিয়ান সার্গিও লিওন। মুভিটির শ্রেষ্ঠাংশে লিজেন্ডারি অভিনেতা রবার্ট ডি নিরো ছাড়াও জেমস উডস ও এলিজাবেথ ম্যাকগোবের্ন অভিনয় করেছেন। IMDb রেটিং: ৮.৪/১০

স্ট্যান্ড বাই মি – ১৯৮৬ সালে নির্মিত এই ক্ল্যাসিক অ্যাডভেঞ্চার, ড্রামা ও থ্রিলার জনরার মুভিটিকে অনেকেই বন্ধুত্ব বিষয়ক ও শিশু-কিশোরদের নিয়ে তৈরী অন্যতম সেরা মুভিও বলে থাকেন। একজন লেখকের জবানীতে তার শৈশবের স্মৃতিচারন মুভিটিতে তুলে ধরা হয়। যেখানে ১৪ বছর বয়েসী চারজন বন্ধু একজন নিখোঁজ বালকের দেহের খোঁজে অভিযানে নামে। বিখ্যাত রহস্য ও ভৌতিক কাহিনীর লেখক স্টিভেন কিংয়ের গল্পের এডাপ্ট করা হয়াছে মুভিটিতে। মুভিটি পরিচালনা করেছেন রব রেইনার। ৪ কিশোরের চরিত্রে অভিনয় করেছেন উইল হয়েটন, রিভার ফনিক্স, করি ফেল্ডম্যান ও জেরি ও’কনেল। এছাড়া পরিচিতদের মধ্যে কিফার সাদারল্যান্ড ও জন কুসাকও অভিনয় করেছেন। মুভিটি অস্কার নমিনেশন ছাড়াও বিভিন্নভাবে পুরষ্কৃত হয়েছে।

দ্য শশাঙ্ক রেডিম্পশন – যেই মুভিটিকে মনে করা হয় সর্বকালের অন্যতম সেরা মুভি এবং আইএমডিবির রেটিংয়ে সবার উপরে রয়েছে তাকে শুধু বিষয়বস্তুর ছকে ফেল কখনোই সম্ভব নয়! মুভিটি কেনো অস্কা্র পেলো না কিংবা ব্যবসায়িকভাবে কেনো অসফল হয়েছিলো সেটাই দর্শক-সমালোচকদের কাছে এক বিস্ময়কর রহস্যই হয়ে রয়েছে। একটি কারাগারে কয়েক বছর ধরে বন্দি দুই কয়েদির বন্ধুত্ব আর মুক্তির অদম্য ইচ্ছাকে কেন্দ্র করে এই কাল্ট ও ক্ল্যাসিক ড্রামা মুভিটি তৈরী হয়েছে। মুভিতে বন্ধুত্বকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে দূর্দান্তভাবে। অস্কার জেতা বাদে শশাঙ্কের জেতা হয়েছে আর সব কিছুই। বিশেষ করে সে জিতে নিয়েছে দর্শক-সমালোচকদের হৃদয় ও ভালোবাসা। মুভিটির মতো এর পরিচালক ফ্র্যাঙ্ক ডারব্যান্টও তিনবার নমিনি পেয়েও অস্কার জিততে পারেননি। একজন স্বনামধন্য মুভি ক্রিটিকস এক রিভিউতে লিখেছিলেন – ‘ডারব্যান্ট নিজেও হয়তো জানতেন না তিনি কি একটা মাস্টারপিস তৈরী করছেন। তাকে দ্বিতীয়বার এরকম কিছু তৈরী করতে বললেও তিনি হয়তো এটা করতে পারবেন না!’১৯৯৪ সালটাই ছিলো মুভি ইতিহাসেরই এক বিস্ময়কর বছর। শশাঙ্ক ছাড়াও সে বছর মুক্তি পেয়েছিলো পাল্প ফিকশান ও ফরেস্ট গাম্পের মতো আরও দুইটি মাস্টারপিস। শেষ অবদি “ফরেস্ট গাম্প” নামক ঝড়ের কাছে অস্কার জেতা হয়নি শশাঙ্কের! “শশাঙ্ক রেডিম্পশন” মুভির প্রধান চরিত্রগুলো রূপায়ন করেছেন টিম রবিন্স, গ্রেট মর্গান ফ্রিম্যান, বব গুন্টন প্রমূখ। IMDb রোটিং: না জানা থাকাটাও একটা বিস্ময়! ৯.৩/১০!!