গীতা দত্তের মেয়েবেলার গল্প !

দত্ত

গীতা রায়। গুরু দত্ত কে বিয়ে করার পর যার নাম হয় গীতা দত্ত। আজ বলব গীতা দত্ত র প্রথম জীবনের গল্প। প্রথম গানের গল্প।

গীতা দত্ত ছিলেন পূর্ব বাংলার ফরিদপুরের মেয়ে। গীতার বাবা ছিলেন জমিদার। বাংলার গ্রামের মেঠো পথের বাউল গান লোক গান শুনে শুনে গীতা গান তুলে ফেলত। নদী দিয়ে মাঝি জেলেরা সুর করে যেত নৌকা বেয়ে গান গেয়ে সেই গান গীতা তুলে ফেলত।যখন গীতা বারো বছরের তখন গীতার বাবা বোম্বে এসে থাকতে শুরু করলেন। ভাগ্যবিপর্যয়ে জমিদারি বৈভব ছেড়ে বোম্বাই এসে এক নতুন লড়াইয়ের জীবন শুরু হল গীতা ও তাঁর পরিবারের। বোম্বাইয়ের দাদারে এক সাধারন ফ্ল্যাটে থাকতে হত তাঁদের। কিন্তু সঙ্গীতপ্রিয়া গীতা তাঁর গান ছাড়েনি। খোলা আকাশের তলা থেকে এক কামরার ফ্ল্যাটেও গীতা গান গুনগুন করে গাইত। একদিন যখন গীতা তাঁর ফ্ল্যাটে গান গুনগুন করে গাইছেন, তখন গীতার সেই গলা পাশের ফ্ল্যাটে আসে সুরকার কে. হনুমান প্রসাদের কানে। হনুপ্রসাদজী ঐ খানে পাশের ফ্ল্যাটে থাকতেন। কিন্তু গীতাদের সঙ্গে পরিচয় সে অর্থে ছিলনা। গানে গানে সুরে সুরে হীরে চিনে নেন হনুমানজী। হনুমান প্রসাদজীর গীতার গলার আওয়াজ খুব পছন্দ হয়ে যায়। মুগ্ধ হন হনুমানপ্রসাদ। তিনি গীতাকে নিজের ছাত্রী রূপে তালিম দিতে শুরু করেন গীতার বাবা মার অনুমতি নিয়ে।

এরপর ফিল্মে মেয়েকে গান গাওয়ানোর জন্য হনুমান প্রসাদকে নিতে হয় গীতার বাবা মার অনুমতি। তাঁরা দাদরায় থাকলেও জমিদারী রক্ষনশীলতা ছিল তাই সেই বাড়ির মেয়ে বায়োস্কোপে গান গাইবে! শুরুতে কাঠখোর পোড়াতে হয় হনুমানজীকে। গীতাদেরও অভাব ছিল তখন তাই ছবির গানে শেষ অবধি অনুমতি মেলে। হনুমান জী গীতাকে ছবির প্লেব্যাকের জন্য প্রস্তুত করতে থাকেন। এবার এল সেই দিন ১৯৪৬ সালে, ‘ভক্ত প্রহ্লাদ‘ ছবিতে গীতা রায় প্রথম প্লে ব্যাক করেন। এই ছবির সুরকার ছিলেন হনুমান প্রসাদজি নিজেই। দুটো গানে কোরাসে মাত্র দুটো লাইন গেয়েছিলেন গীতা। কিন্তু এটুকুই ছিল যথেষ্ট। দুটো লাইনই গীতার গলা শ্রোতাদের শ্রুতিআকর্ষন করে নিল। এরপর আরও কিছু ছবিতে কোরাসে গান ‘সার্কাস’, ‘কাশ্মীর কি কলি’ (শক্তি সামন্ত র নয়)।

আসল ব্রেক এল গীতার জীবনে ১৯৪৭ এ স্বাধীনতার বছরেই স্বাধীনতা এল গীতার সঙ্গীত জীবনে। ‘দো ভাই‘ ছবিতে একটি সোলো গান করেন। সুরকার ছিলেন শচীন দেব বর্মন। গানটি ছিল ‘ মেরা সুন্দর সপ্না বিত গেয়া‘। গীতার সুন্দর স্বপ্ন তৈরী হল এই ছবি দিয়ে প্রথম বিখ্যাত হলেন একক গানের নেপথ্য গায়িকা হিসেবে। এই গান বিশাল হিট হল, শ্রোতা দর্শকদের মন জয় করে নিল। শামসাদ বেগম দের পাশাপাশি উঠে এল আরেক অদ্বিতীয়া গীতা। এরপর আর কোনদিন পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি গীতা কে। শামসাদ বেগম থেকে লতা জমানায় গীতা দত্ত তাঁর মায়াবী গলার জাদুতে নিজের স্টাইল বজায় রাখলেন। হলেন হিন্দি বাংলা মায়াবী গানের আইকন।

দেখে নিন গীতা রায় দত্ত র প্রথম সেই প্লে ব্যাক দুর্লভ গান।