তুরস্কের রোমান্টিক বন্দর শহর বোদরুমের সিক্স সেন্সেস কাপলাঙ্কায়া রিসোর্টে অগ্নিসাক্ষী করে বিয়ে করেছেন নূসরাত জাহান ও নিখিল জৈন। নূসরাত জাহানের বর নিখিল জৈন কলকাতার ছেলে। ব্যবসায়ী, তবে চলচ্চিত্রের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই। এমপি বিড়লা ফাউন্ডেশনে পড়াশোনার পর যুক্তরাজ্যের ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়ে ম্যানেজমেন্টের ওপর পড়াশোনা করেছেন। গত বছর পূজার আগে ব্যবসায়ী নিখিল জৈনের শাড়ির ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনের মুখ হয়েছিলেন নূসরাত জাহান। এই কাজের সূত্রেই তাঁদের পরিচয়। অল্প দিনেই সম্পর্ক গাঢ় হয়। এরপর তাঁরা দুজনে মিলেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন।মুসলিম পরিবারের মেয়ে নূসরাত জাহান। বাবা হাজী মুহাম্মদ শাহজাহান। ১৯৯০ সালের ৮ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার মা-ও একজন অভিনেত্রী ছিলেন। ২০১০ সালে ফেয়ার ওয়ান মিস কলকাতা নামক একটি সৌন্দর্য প্রতিযোগীতায় বিজয়ী হন।
বিয়ে শেষে হাতে মেহেদি, মাথায় সিঁদুর দিয়ে স্বামী নিখিল জৈনকে সঙ্গে নিয়ে কলকাতায় ফিরলেন নূসরাত । সিঁদুরের সঙ্গে হাতে চূড়া পরে সংসদে এসেও শপথ গ্রহণ করেছেন নূসরাত । এর পরেই বহু সমালোচনার মুখে পড়তে হয় নূসরাত জাহানকে। প্রশ্ন ওঠে, মুসলিম ধর্মের হয়েও কেন সিঁদুর পরছেন! তাহলে কি তিনি হিন্দু হয়ে গেলেন? মুসলিম হয়ে মাথা ভর্তি সিঁদুর! নক্কারজনক কাজ জানিয়েছে অনেক মুসলিম সম্প্রদায়।সংসদে ঢোকার আগে সিঁড়িতে প্রণাম করেছিলেন নুসরত। তিনি জানিয়েছেন, স্কুলে বা পরিবারে তিনি সেই শিক্ষাই পেয়েছেন। কাজ তাঁর কাছে পবিত্র জিনিস।
ট্রল বিতর্কিত প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে নূসরাত স্পষ্ট ভাবে জানালেন ‘‘ আমার মাথায় সিঁদুর দেখে অনেকে প্রশ্ন করেছেন, আমি কি হিন্দুকে বিয়ে করে হিন্দু হয়ে গেলাম? আমার তো মনে হয় কোন ধর্ম অনুসরণ করব, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার সকলের রয়েছে। আমি জন্মসূত্রে ইসলাম। সেটাই অনুসরণ করছি। কিন্তু সব ধর্ম এবং তার নিয়মের প্রতি শ্রদ্ধা রয়েছে আমার। আমি এবং আমার স্বামী আমাদের ধর্ম পালন করছি। আমার তো মনে হয় এটাই স্বাভাবিক। আমি যে কতবার ট্রোলড হয়েছি, তার কোনও হিসেব নেই। আমার তো মনে হয় ট্রোলিং ভালবাসারই ভিন্ন প্রকাশ। আসলে এ সবই মানুষ করেন দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য। মনোযোগ না পেলেই ট্রোলিং শুরু করেন। জীবনে নেগেটিভিকে কখনও গুরুত্ব দিইনি। কাজই সব সময় আমার হয়ে কথা বলেছে। এ বারও তাই হবে।’’



