শুটিংয়ের মাঝেই সুচিত্রা সেন যখন ভাইদের রমাদি !

রমাদি

সুচিত্রা সেনের দাপট তো অজানা নয়,সেটে নাম ধরে নয়, সমীহ করেই তাঁকে ম্যাডাম বা মিসেস সেন বলে ডাকতে বাধ্য করেছেন।যার ভয়ে সেটে নাকি সবাই তটস্থ থাকতো।তার পারমিশান ছাড়া তার ছবির শ্যুটিং দেখতে পেতেননা কোন সাংবাদিক।এই সুচিত্রাই ( রমাদি ) আবার কখনও স্নেহময়ী। ওঁর মন ছিল শিশুর মতো সরল।বাইরে একটা কঠিন মোড়ক সাজিয়ে রাখতেন।

যেমন বলেছেন সুচিত্রার স্ক্রীন ভাই অনুপ কুমার। ‘অন্নপূর্ণার মন্দির’ থেকে ‘পথে হল দেরী‘ ছবিতে সুচিত্রার ভাইয়ের চরিত্র করেছিলেন অনুপকুমার। এছাড়াও ‘সাগরিকা’ কিংবা ‘একটি রাত’। অনুপকুমার বলছেন “শুনলে হয়তো আজ অনেকেই অবাক হয়ে যাবেন, রমাদি ভীষন আদিরসাত্মক কথা বলতেন।এমনসব রসিকতা করতেন আমাদের কানটান লাল হয়ে যেত।এমনিতেই ভীষন লাজুক ছিলাম আমি। তারওপর রমাদির মতো স্মার্ট অপরূপা সুন্দরী মেয়ে সত্যি ধারেকাছে দেখিনি।রমাদি ছিলেন অসম্ভব সপ্রতিভ। কিন্তু যতই আদিরসাত্মক কথা বলুন রমাদি নিজের আভিজাত্য ঠিক বজায় রাখতেন। । আজকের খোলসবন্দি সুচিত্রা সেনকে মেলাতে পারিনা।

‘পথে হল দেরী’ ছবিতে ঘটেছিল চমকপ্রদ ঘটনা। যা সারাজীবন মনে রেখেছিলেন ছবির পরিচালক,সহকারী পরিচালক,টেকনিশিয়ানস।যে ঘটনা যেন বিরল আমজনতার কাছে, যে ভাবে লোকে দাপটময়ী সুচিত্রা সেনকে চেনেন। “পথে হল দেরী”-র আউটডোর ছিল দার্জিলিং-এ। শ্যুটিং চলাকালীন ভ্রাতৃদ্বিতীয়া পড়ল। সুচিত্রাকে ভাইফোঁটার কথা কাউকে মনে করিয়ে দিতে হয়নি। নিজেই উদ্যোগী হয়ে “পথে হল দেরী”-র সমস্ত টেকনিশিয়ানকে ঘটা করে ভাইফোঁটা দিলেন মিসেস সিন। ইউনিটের খরচায় নয়,নিজে পয়সা খরচ করে সবাইকে ভূরিভোজও করালেন। নিজেই ধান-দুব্বো জোগাড় করলেন। চন্দন বাটা হল।শাঁখে ফু দিয়ে ভাইফোঁটা হল। ম্যাডাম যেন কারও বোন বা কারও দিদি ।

পথে হল দেরীর শ্যুটিং ছবি সৌজন্যে হিমাদ্রি দাস , অনুপ কুমার কনিষ্ঠ ভ্রাতা