সুচিত্রা সেনের মতোই শাখামৃগ প্রেমে মুনমুন রিয়া রাইমা !

মুনমুনের বাদশা প্রেম

মুনমুন সেনের রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে রিয়া রাইমার বেডরুম সব জায়গাতেই অবাধ যাতায়াত বাদশার। ভোটের স্পেশাল আকর্ষন বাদশা। কে এই বাদশা? মুনমুনের কোলে বাদশা যে বসে আদর খাচ্ছে সে কে? বাদশা নামে বাঁদর কুকুর নিয়ে একটা বাংলা ছবিও হয়েছিল স্বর্ণযুগে। দুষ্টু বাদশা মুনমুনের নয়া প্রেম। বাদশা হল সাত মাসের একটি হুনুমান শিশু। অণ্ডালে রোড শো করতে গিয়ে তাকে প্রথম দেখেছিলেন মুনমুন। সেই থেকে বাদশা প্রেম। অণ্ডালের দক্ষিণখণ্ডে একটি কর্মীসভায় মঞ্চে তুলে তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দেখা যায় মুনমুনকে। দুই মেয়ে ভোট প্রচারে আসার পর তাঁদেরও তিনি বাদশার গল্প বলেছিলেন। এরপরেই সোমবার রাতে বাদশার ‘অভিভাবক’ বাঘা পাণ্ডেকে ফোন করে হোটেলে ডেকে পাঠানো হয়। সেইমতো বাঘাবাবু তাকে হোটেলে নিয়ে হাজির হন। ছবি তোলার পাশাপাশি রিয়া বাদশাকে নিজের হাতে বোতলে দুধ খাওয়ায়। আবার কখনও খুনসুটি করতে করতে বাদশা রাইমার চুল ধরে টানতে থাকে। রাইমা বলে “ও জল খায়না।” মুনমুন কনিষ্ঠ জামাতা শিবম তুলতে থাকে বাদশার ছবি। মুনমুনের আদর তো আছেই। ইন্সটাগ্রামে ঘুরছে এই বাদশার ছবি। অন্যদিকে কমরেড ও বিজেপি রা এই নিয়ে বিতর্ক তৈরী করছেন। বৃন্দা কারাট বলেছেন “এমন তৃনমূল প্রার্থী যে বিজেপির হনুমান নিয়ে প্রচার করছেন।” মুনমুন বৃন্দার জবাবে বলেছেন “বৃন্দা আর প্রকাশ কারাটকে চুপ থাকতে বলুন ওনাদের ঐতিহাসিক ভুলেই জ্যোতি বসু প্রধানমন্ত্রী হতে পারেননি।”

মুনমুনের বাদশা প্রেম

মুনমুনের এই শাখামৃগ প্রেম কিন্তু মায়ের থেকেই পাওয়া। সুচিত্রা সেনের এখন যেখানে অভিজাত আবাসন সেখানে আগে ছিল পাঁচ মহলা বাড়ি। সেই নিজস্ব প্যালেস হাউসেই সুচিত্রা বাঁদর থেকে শিপাঞ্জিও পুষেছিলেন। বিদেশী কুকুর তো ছিলই মিসেস সেনের পোষ্য। কিন্তু বাঁদর হনুশাবক প্রেম সুচিত্রার থেকেই পেয়েছে মুনমুন অতীত ঘাঁটলে বোঝা যায়। ওঁদের বাড়িতেই ছিল বাঁদর হনুশাবকদের অবাধ বিচরন। একবার তো পোষ্য শিপাঞ্জি এত উপদ্রব শুরু করে যে সুচিত্রা সেন কে লালবাজার থেকে পুলিশ ডেকে সে রক্ষায় শিপাঞ্জি কন্ট্রোল করতে হয়। ফিল্ম দুনিয়ার ঝলমলে আলোর চেয়েও এই সবুজের মাঝে পশুপাখিরাই ছিল সুচিত্রার বেশী প্রিয়। বাদশা যেন সেই পরম্পরা মনে করিয়ে দিল। মুনমুন বাদশাকে কোলে নিয়ে মেয়েদের রুমে ঢুকছেন। তার দিকে প্রথমে একটি চকোলেট এগিয়ে দেন রিয়া। কিন্তু, সেটা তার পছন্দ হয়নি। মুখে নিয়েই ফেলে দেয়। এরপরেই রাইমা তাকে বাদশা নাম ধরে কাছে ডাকেন। তা শুনেই সে রাইমার পাশে বসে যায়। রাইমার চুল ধরে সে টানাটানি করতে থাকে। সেই সময় মুনমুন সেনকে বলতে শোনা যায়, বাদশা আমার মেয়ের চুল ছাড়। আবার তাকে কোলে তুলে মুনমুন আদর করতে থাকেন। দু’ঘণ্টাতেই বাদশা যেন সেন পরিবারের আপনজন হয়ে ওঠে। তাই যাওয়ার আগে আবার বাদশাকে দেখা করার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন সেন পরিবার। সুচিত্রা সেনও এই বাদশাকে দেখলে খুব খুশী হতেন নিশ্চয়।

লেখক শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়