বলিউডে উঠে আসা এক ধুমকেতুর গল্প !

পৃথ্বী

১৯৯৩ সালে যখন তিনি মুম্বাই আসেন তখন তিনি কিছুই চিনতেন না। চিনতেন শুধু পৃথ্বী থিয়েটার। বাবা ইঞ্জিনিয়ার। ছেলেকেও তেমন করতে চেয়েছিলেন। প্রানীবিদ্যা নিয়ে পাশ করার পরও সব ছেড়ে দিয়ে দৌড়ালেন সিনেমা বানাবেন বলে।

পৃথ্বী থিয়েটারে এসেও ঝামেলা। অনেক খুঁজেও কাজ পেলেন না। সামনের ক্যান্টিনে ওয়েটারের কাজ চাইলেন। তাও পেলেন না৷ তখন বললেন বিনামুল্যে কাজ করে দেবেন৷ থিয়েটারে মাঝে মাঝে স্ক্রিপ্ট পড়ে দেওয়ার জন্য লোক লাগতো। সেইকাজ করতেন মাঝে মাঝে। স্ক্রিপ্ট কপি বা লেখার জন্য লোক লাগতো। ছেলে প্রচুর লিখতে পারতো। সারাদিন ধরে লিখে লিখে পকেটমানিতে চলতো। তারপর সবার সাথে পরিচিত হওয়ার পর নিজের স্ক্রিপ্ট গুলো পড়ে শোনাতেন। ১৯৯৮ সালে এইভাবেই চান্স পেয়ে যান ‘কভি কভি‘ বলে একটা সিরিয়ালে স্ক্রিপ্ট লেখার জন্য। মাসে ইনকাম আড়াই লাখ। একই সাথে রাম গোপাল ভার্মার ‘সত্যা’ তে কাজ পেলেন । এক লাখ টাকার। তিনি বেছে নিলেন সত্যার কাজটিকেই। টাকার জন্য তিনি কাজ করতে আসেননি৷

কয়েকবছর পর তিনি বানালেন ‘পাঁচ‘ নামের সিনেমাটি। লক্ষ্য যতটা সম্ভব কম বাজেট করা। এম টিভির এক ক্যামেরাম্যানকে নিলেন। আর স্টুডিওর পয়সা নেই বলে বাস্তব জায়গায় শুটিং করালেন। কিন্তু ভারতের দর্শক সেই সিনেমা দেখার জন্য প্রস্তুত নয়। ভায়োলেন্স বেশি এই তকমা দিয়ে সেন্সরবোর্ড আটকে দেয়৷ কয়েক বছর পর বানালেন ‘ব্লাক ফ্রাইডে‘। মুম্বাই হামলার উপর তৈরি সিনেমাটাও সেন্সরবোর্ড আটকে দেয়৷ তিনি তখন ডিপ্রেশনে চলে যান। বিবাহ বিচ্ছেদ হয়।

ব্লাক ফ্রাইডে রিলিজ হয় ২০০৭ সালে যখন সবাই পাইরেটেড সিডিতে সিনেমাটা দেখে ফেলেছে। এরপর দেব ডি, গ্যাংস অফ ওয়াসিপুর, গুলাল, রমন রাঘব ২ এর মত অসাধারণ সিনেমা বানান৷ খুব কম বাজেট নিয়ে বানালেও তার ব্যতিক্রমী সিনেমা গুলো বলিউডের থেকে অনেকটাই আলাদা৷ জীবনের প্রথম দুটো সিনেমায় এভাবে আটকে গিয়েও ফিরে আসা সবার পক্ষে সম্ভব নয়। পাঠক এতক্ষণ বুঝে গেছেন তার নাম। তিনি আর কেউ নন অনুরাগ কাশ্যপ

Written By – শোভন নস্কর