জীবনযুদ্ধে জয়ী একজনের গল্প !

মিঠুন চক্রবর্তী

কদিন তিনি বহুতল ফ্ল্যাটে বসে নিচের বস্তির দিকে তাকিয়ে ছিলেন। অনেকক্ষণ তাকিয়ে আছে দেখে তাঁর ছেলে কারণ জিজ্ঞাসা করলো। তিনি বললেন , ‘ওই যে দূরে লোকজন দেখছ আমি ওখান থেকে তোমাকে এই ফ্ল্যাট অবধি পৌঁছে দিলাম। এরপর তোমাকে উঠতে হবে। ‘ তিনি আর কেউ নন। বাঙালি তথা ভারতের অন্যতম সুপারস্টার মিঠুন চক্রবর্তী। তার মতো স্ট্রাগল সম্ভবত কোন নায়ককে করতে হয়নি।

 মিঠুন চক্রবর্তীআশির দশকে মৃণাল সেনে ‘মৃগয়া‘ করে জাতীয় পুরষ্কার পান। তা সত্ত্বেও মুম্বাই এসে তাঁকে নানা জায়গা থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়৷ সেই সময় বলিউডের নায়করা ফর্সা এবং সুন্দর। আর মিঠুন ছিলেন কালো৷ ভাবা যায় না শুধু এই কারণেই বলিউডে রেসিওজমের শিকার হন তিনি৷ সকালে উঠে জানতেন না আজ তিনি কি খাবেন৷ প্রোডিউসারদের দরজায় দরজায় ঘুরতেন। একবার তিনি একটা ভাড়া দেওয়া যায়গায় থাকতেন যেখানে দৈনিক ২০টাকা করে দিতে হত বিছানায় শোওয়ার জন্য। অত টাকা নেই বলে তিনি শুতেন। একটা লোক প্রতিদিন অফিসে যেতেন এবং রাতে বিছানায় শুতেন। রাতে ঘুম না হওয়ার জন্য মিঠুন সেখানে শুয়েছিলেন দিনের বেলায়। পরে সেই লোকটি এসে অনেক অপমানও করেন।

 মিঠুন চক্রবর্তীএর থেকেও বেইজ্জতি তাকে হতে হয়েছিল সেই সময়ের সুদর্শন ড্যান্সার কাম নায়ক জিতেন্দ্রর কাছ থেকে। একবার প্রোডিউসার টি প্রসাদের কাছে নিজের ছবি দেন মিঠুন। তখন শুটিং চলছিল জিতেন্দ্রর। টি প্রসাদের সেটা পছন্দ হলে জিতেন্দ্রকে দেখান। তিনি সাথে সাথে হেসে উঠে বলেন, “আগার ইয়ে শালা হিরো বান গ্যায়া তো ম্যায় অ্যাক্টিং ছোড় দুঙ্গা। ” কিন্তু তারপর কিছুদিনের মধ্যে মিঠুন – জিতেন্দ্রর জায়গা দখল করে নেন। এমনকি নাচের দিক থেকেও তাঁকে পিছনে ফেলে দেন। পরে জিতেন্দ্রর সাথে ছটি ছবি করলেও মিঠুন সেই কথাগুলো ভোলেননি কোনোদিনও। সম্পর্ক ভালো করারও চেষ্টা করেননি।

Written By – শোভন নস্কর