Home চেনার মাঝে অচেনা স্বপ্ন - জেদ ও সাফল্যের আরেক নাম দেব !

স্বপ্ন – জেদ ও সাফল্যের আরেক নাম দেব !

ধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলের সুপারস্টার হয়ে ওঠার গল্প। অরুন কুমার কিংবা গৌরাঙ্গ চক্রবর্তীর মতো দীপক অধিকারীও স্বপ্নকে বাস্তব করতে সাফল্যের সিড়ি বেয়ে আজ সুপারস্টার। অরুন মানে যিনি পরে মহানায়ক উত্তমকুমার আর গৌরাঙ্গ মানে বোম্বের সুপারস্টার মিঠুন। মিঠুন কিন্তু মৃণাল সেনের হিরো হয়েও বোম্বের হিরো হয়েও উত্তম কুমারের পরিচালনায় কাজ করবেন বলে বোম্বে থেকে কলকাতায় ছুটে আসেন। ছবিটা ছিল কলঙ্কিনী কঙ্কাবতী। অটুট ছিল উত্তম কুমারের প্রতি পরবর্তী নায়কের শ্রদ্ধা। তেমনি দীপকও হয়ে উঠলেন দেব। অবশ্যি বাংলার আশির দশকের হিরো চিরঞ্জিত এর আসল নামও দেব। কিন্তু সুপারস্টার তকমা উত্তম মিঠুনের পর দেব ই একমাত্র। যার নামে ছবি চলে বক্সঅফিস হিট হয়। প্রসেনজিৎ, চিরঞ্জিত, তাপস পাল অনেক ভালো ছবির নায়ক কিন্তু দেবের মধ্যে এমন বৈদ্যুতিক শক্তি আছে যা মন্টেসরির বাচ্চা থেকে আট থেকে আশি সবাইকে আকর্ষন করে। এটাও কি জানেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের ছেলে তৃষানজিৎ প্রসেনজিতের চেয়ে দেবের ফ্যান বেশী। দেব শুধু ছবিতে নয় রাজনীতিতেও সফল বারবার প্রমান করছেন। আসল কারন নবীন প্রজন্মের তাঁর প্রতি অটুট ভালোবাসা। নতুনরা দেবকেই চাইছে। সেটা গ্রাম মফস্বল ছাড়িয়ে শহর। দেবের ঘাটাল থেকে জয় তাঁর প্রমান। দেব মানে একজন সফল, ঠান্ডা মাথার, ধৈর্যশীল মানুষের জীবন-দর্শন। যে জানে সমালোচনাকে তাঁর ইউএসপি করে নিতে। সবথেকে বড় সমালোচক এই সোশ্যাল মিডিয়া ও এই ট্রল। যা দেবকে সর্বসময় করেই চলেছে। দেবকে নিয়ে ফেসবুকে ট্রলে যে মাত্রায় বাঙালিরা রসিকতা ও সমালোচনা করেন, তা আর কোনও জনপ্রিয় বাঙালি তারকাকে নিয়ে করেন কি না সন্দেহ।

দেব কে মহানায়ক বলে ট্রল করা হলেও দেব শান্ত থাকেন। তিনি জানেন এর প্রতিষেধক। যা তিনি বুঝিয়ে দেন কাজে। দেব কখনই নিজেকে মহানায়ক উত্তম কুমার বলেননি। দেবকে রাজ্য সরকার থেকে মহানায়ক পুরস্কার দেওয়া হয় উত্তম দিবসে হ্যাঁ এই পুরস্কারও দেব কম বয়সে পেয়েছে অন্যদের চেয়ে। আসলে ঐ দেবের সম্মোহনী শক্তি। যে পুরস্কার বাপ্পি লাহিড়ীও পেয়েছেন এটা অনেকেই জানেন নাহ। অথচ বেড়াল যেমন নরম মাটিতে বেশী আঁচড়ায় তেমনি পাবলিক দেবকে মহানায়ক বলে ট্রল করে। দেব কিন্তু উত্তম সৌমিত্র মিঠুন থেকে প্রসেনজিৎকে সম্মান করে এসছেন। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে আসছে দেবের আগামী ছবি। এত লোকের ট্রলের সমালোচনা, নিজেকে এত প্রমাণ করার চাপ, তার উপর এত অল্প বয়সে রাজনীতিতে যোগদান এবং সে দায়িত্ব মাথা পেতে সামলানো, পাশাপাশি নিজ প্রোডাকশন হাউস খুলে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে চলা ও বাঙালি উদ্যোগপতি হিসেবে অনেকের অন্নসংস্থানের ব্যবস্থা করা যেটা দেব সফলতার সঙ্গে করে দেখিয়েছেন। একদম মাটির ছেলে কিন্তু তাঁকে এলিট সমাজও অস্বীকার করতে পারেনা। এলিট ক্লাসকেও দেবকে জায়গা দিতে হয়। শুধু তাই নয় দেব একমাত্র যে লোকসভায় দাঁড়িয়ে হিন্দি ইংরাজী ভাষীদের মাঝে নিজের মায়ের ভাষা বাংলায় কথা বলে মাতৃভাষাকে সম্মান দিয়েছেন। কতটা ইংরেজী জানেন সেই নিয়েও ট্রল করেছেন তাঁকে কিছু ওকালতি পড়া রাজনীতিবিদ কূটনীতিবিদরা কিন্তু এই যে সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে বাংলায় স্পিচ দেবার সাহস সেটা আর একজনও দেখাতে পেরছেন কি?

গতবারও ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে জয়ী হয়েছিলেন দীপক অধিকারী তথা দেব৷ সে বার প্রথম রাজনীতির মঞ্চে আসা৷ বিজয়ী সাংসদ হয়ে লোকসভায় যাওয়া ৷ এখন তিনি রাজনীতিতে অনেকটা পরিনত ৷ আরও একবার ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্র থেকে জিতলেন দেব ৷ জেতার পর শংসাপত্র হাতে নিজের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে একটি ছবি পোস্ট করেছেন দেব৷ সঙ্গে লিখেছেন-‘‘৫৪২ জন সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁরা ভারতবর্ষের সাংসদ। নতুন ভারত তৈরির কারিগর। প্রত্যেক কে অভিনন্দন। আমি তাদের মধ্যে একজন হতে পেরে সন্মানিত। অভিনন্দন ঘাটালের বিজেপি এবং সিপিআই প্রার্থী কে। আসুন সামনের দিনগুলোতে সবাই মিলে ঘাটালের উন্নয়নের কাজ করি। দেশে গণতন্ত্রের জয় হোক। দেশের মানুষের জয় হোক৷’’ এই সাহসিকতা দেখিয়েছে মেদিনীপুরের ছেলেটাই। আইডল তো তাই তিনি। তাঁর মধ্যেই আশা খুঁজে পান দেব ফ্যান থেকে ক্লাস পিপলরাও অনেকে। নিজের উচ্চারনকে যেমন নিরন্তর উন্নত করার চেষ্টা করেছেন তেমনি উন্নত ভালো বাংলা ছবি দেবার চেষ্টা করে যাচ্ছেন দেব। দেব এক আলো যে আলোর দিকে চেয়ে অনেক অনেক মানুষ স্বপ্ন দেখছেন দেব করবেন তাঁদের স্বপ্নপূরন। স্বপ্নের ফেরিওয়ালা দীপক অধিকারী দেব। যার বড়দিনে জন্ম সে তো সান্টাক্লজের মতোই স্বপ্নের ফেরিওয়ালা।

লেখা শুভদীপ ব্যানার্জ্জী।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Must Read

১০০ দিনে কথনীয় ‘কন্ঠ’

একশো দিন একশোরও বেশী কন্ঠে উচ্চারিত আজ শিবপ্রসাদ-নন্দিতা জুটির 'কন্ঠ' ছবিটি। উইনডোজ প্রযোজিত 'কন্ঠ' ছবিটি একশো দিন পার করল।'কন্ঠ' ছবির অনুপ্রেরণা একজন ক্যান্সার রোগ...

“ঋতুর মা থেকে শিবুর মায়ের চরিত্রে অভিনয় করতে পেরে আমি ধন্য।” – অনসূয়া মজুমদার

'মহাপৃথিবী, 'তাহাদের কথা','সম্প্রদান','দেবাঞ্জলী','মুখার্জীদার বউ','গোত্র' ... এক বিশাল সফরের নায়িকা অভিনেত্রী অনসূয়া মজুমদার -এর মুখোমুখি। গুলগাল.কম কে অনসূয়া মজুমদার জানালেন তাঁর রিল টু রিয়েল লাইফের...

রজনীগন্ধা ঝরে গেলেন !

চলে গেলেন বিদ্যা সিনহা। যিনি আলোচনা প্রচারের বাইরে ছিলেন। বলিউড মানে শুধু বিদ্যা বালান নন। তাঁর আগেও সত্তর দশকে দমকা মুক্ত হাওয়ার মতো মধ্যবিত্তর...

পুজারিনীর এই মিমিক্রি না দেখলে কিন্তু মিস করবেন !

পোস্টমাস্টার থেকে বড় পর্দায় উঠে আসা পূজারিণী কিন্তু এখন অনেক পরিণত , হাতে রয়েছে অনেক গুলো ছবি সাথে কিছু ওয়েব এর কাজ । সদ্য...

রেলের টিকিট নিয়ে বেশ অসুবিধায় শ্রীমা ! আপনারা হেল্প করতে পারবেন ?

বাংলা টেলিভিশনে খুব অল্প দিনেই পরিচিত নাম এখন শ্রীমা । জামাই রাজা থেকে নাগলীলায় ইতি মধ্যেই তার অভিনয় মন করেছে টেলিভশন প্রেমীদের , এই...