ফিরতে পারে “গানের ওপারে”! পরিচালক কে জানেন?

সালটা ২০১০, ২৮ শে জুন স্টার জলসার পর্দায় শুরু হয় এক নতুন ধারাবাহিক, ‘গানের ওপারে’। অস্বাভাবিক সাফল্য সামান্য এক টিভি সিরিয়াল থেকে কিংবদন্তিতে উন্নীত করে এই ধারাবাহিকটিকে। ‘গানের ওপারে’-র অন্তত একটা এপিসোড দেখেনি এমন বাঙালি হয়তো খুঁজলেও পাওয়া যাবেনা। আর হবে নাই বা কেন? ‘গানের ওপারে’ তো সামান্য লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশন ছিলনা, ছিল বাঙালি মননের নাট্যরূপ।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রতিটি বাঙালির ছেলেবেলার সঙ্গে জড়িয়ে আছেন। আর সেই নস্টালজিয়াই যেন রূপ নেয় টিআরপির। মাত্র ২৫১ টি এপিসোড নিয়েই ছোটপর্দায় এক মাইলস্টোনে পরিনত হয় এই ধারাবাহিকটি। রাবীন্দ্রিকতা মাখা এই সিরিয়ালটি ছিল জনপ্রিয় পরিচালক ঋতুপর্ণ ঘোষের সৃষ্টি। ধারাবাহিকটিতে নানান ভাবে ব্যবহার করা হয় রবীন্দ্রসঙ্গীত। গতানুগতিক রবীন্দ্রচর্চাকে নতুনের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়া, নতুন-পুরনোর দ্বন্দ্ব ইত্যাদি ঘিরেই আবর্তিত ‘গানের ওপারে’-র চিত্রনাট্য। গোরা, প্রতিভাবান এক তরুন, ইনিয়ে-বিনিয়ে নয় বরং পরীক্ষানীরিক্ষা করে নতুনভাবে রবিঠাকুরের গান গায়। আর এক রক্ষণশীল রবীন্দ্রমনষ্ক পরিবারের মেয়ে পুপে। পুপের সঙ্গে গোরার সম্পর্কের টানাপোড়েন, তাদের একসঙ্গে পথচলার গল্পই ‘গানের ওপারে’। পুপে-গোরার এই পথচলার সঙ্গী হয়েছে প্রায় ৫০টিরও বেশি রবীন্দ্রসঙ্গীত আর আপামোর বাংলাভাষি।

আরও পড়ুন : প্রসেনজিতের এই লুক নিয়ে আপনি কি বলবেন?

‘গানের ওপারে’-র হাত ধরে রূপোলি জগতে পা রাখে এক ঝাঁক নতুন মুখ। মুখ্যচরিত্রে দেখা যায় মিমি চক্রবর্তী ও অর্জুন চক্রবর্তীকে। এছাড়াও নতুন মুখ ছিলেন গৌরব চক্রবর্তী, সৃজিত মুখার্জি প্রমুখরা। এই ধারাবাহিকটির পর আর পিছু ফিরতে হয়নি কাউকেই। কিন্তু টলিপাড়ায় কানাঘুষো, ফিরে দেখতে চান সৃজিত। হ্যাঁ, শোনা যাচ্ছে আসতে চলেছে ‘গানের ওপারে’-র সিক্যুয়েল। পরিচালনায় সৃজিত মুখার্জি। চিত্রনাট্য লেখা ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

‘গানের ওপারে’ বাঙালি দর্শকের মনে এমন একটি জায়গা দখল করেছে যে তা ফিরে আসার গুঞ্জনটুকুই তাদের কাছে উচ্ছ্বাসের। এবার শুধু অপেক্ষা সন্ধে হলেই ঘরে ঘরে ‘দাঁড়িয়ে আছো তুমি আমার গানের ওপারে’ বেজে ওঠার।