এই ছোট গল্পটা রাস্তার ভিখারিদের প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিটা পাল্টে দিতে পারে !!

বিশিষ্ট পরিচালক নীলাদ্রি লাহিড়ী তার ক্রিয়েশনের দৌলতে একটা খুব সুন্দর শর্ট ফিল্ম “ভিখারি”-র মাধ্যমে এরকমই একজন তথাকথিত ভিখারির জীবনকে আমাদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। কি আছে সেই গল্পে!

লকাতা শহরের রাস্তায় রাস্তায় ভিখারি হামেশাই দেখতে পাওয়া যায়। তাদের মধ্যে এমন অনেকেই আছেন যারা শুধুমাত্র পরিস্থিতির চাপে পড়েই ভিক্ষাবৃত্তির জীবনটাকে বেছে নিযেছেন তা আমরা হয়ত ঘুনাক্ষরেও টের পাই না। বিশিষ্ট পরিচালক নীলাদ্রি লাহিড়ী তার ক্রিয়েশনের দৌলতে একটা খুব সুন্দর শর্ট ফিল্ম “ভিখারি”-র মাধ্যমে এরকমই একজন তথাকথিত ভিখারির জীবনকে আমাদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। কি আছে সেই গল্পে!

এক ভিখারি ভিক্ষে করে তপ্ত রোদের দুপুর বেলায় রোজগার গুনতে গিয়ে দেখে তাকে চার আনা পয়সাও ভিক্ষে দিয়েছে কেউ। যা দেখে তার খুব রাগ হয়! যাই হোক, এই সব ভাবতে ভাবতে তার হঠাৎ করে মনে পড়ে যায় পায়ের পরনে জুতো জোড়ার কথা যা সে পেয়েছিল একটা বাড়ির বাচ্চা ছেলের কাছ থেকে। এমন সময় সেখান দিয়ে একটা বাচ্চা ছেলে জুতো পালিশ করাবার জন্য ঘুড়ে বেড়াচ্ছিল। ভিখারিটা সেই ছেলেটাকে দিয়ে ৫টাকার বিনিময়ে তার সাধের জুতো জোড়াকে পালিশ করাচ্ছিল। ছেলেটার দিকে ভালভাবে তাকাতেই তার হারানো ছেলের কথা মনে পরে গেল যে ছেলে তার বাবার কাছে এক সামান্য অন্যায়ের বকুনি খেয়ে কিছু দিন আগেই পালিয়ে গিয়েছে বাড়ি থেকে। অনেক চেষ্টা করেও সে তার হারানো ছেলেকে খুঁজে পায়না। হঠাৎ একদিন এই সন্তান হারা বাবা লোক মারফত খবর পায় যে তার ছেলে কলকাতা শহরে ঘুড়ে-ঘুড়ে জুতো পালিশ করছে। এসব কথা ভাবতে-ভাবতে সে বড়ই ইমোশনাল হয়ে পরে।

সন্তান ভুল করলে বাবা-মা শাসন করবে এটাই তো স্বাভাবিক ব্যপার, কিন্তু আজকালকার বহু সন্তান তাদের মা-বাবার শাসনটাকে ভালভাবে মেনে নিতে পারে না। আর এসময় কিছু সন্তান এমন অনেক হঠকারি সিদ্ধান্ত নিযে ফেলে যার মাসুল সারা জীবন তার বাবা-মা কে গুনতে হয়! এই গল্পেও তার ব্যতিক্রম হয়ন। ছেলে অন্যায় করায় তার বাবা শাসন করে, কিন্তু ছোট্ট ছেলে তাতে রাগ করে বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। এই হারিয়ে যাওয়া ছেলেকে খুঁজতেই হত ভাগ্য বাবার কলকাতায় আগমন ও তারপর তার রাস্তায় ঘুরে ভিক্ষে করা এই আশায়, যদি ভিক্ষে করতে করতে সৌভাগ্যবসত কোথাও সে তার হারানো ছেলেকে খুঁজে পেয়ে যায়! জুতো পালিশ করা একটা বাচ্চা ছেলেকে দেখে আবার তার স্মৃতিরোমন্থনে নিজের ছেলের কথা মনে পরে যায়। কোথাও ভিখারি হলেও সন্তানের প্রতি যে তার অন্তরের টানটা এখনও অটুট রয়ে গেছে এবং সে এটাকে সারা জীবন বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে তার একটা উৎকৃষ্ট উদাহরন পরিচালক নীলাদ্রি লাহিড়ী এই শর্ট ফিল্মটার মাধ্যমে তুলে ধরেছেন।

এই শর্ট ফিল্মটা দেখলে হলপ করে বলতে পাড়ি, পথ ভিক্ষুকদের প্রতি আমাদের অনেকের যে দৃষ্টিভঙ্গি ছিল তা একটু হলেও পাল্টাতে বাধ্য।